করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের ভূমিকা নেই

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:১২

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ শরীরে নানা জটিল রোগ থাকায় বলা হয় করোনাভাইরাসে (কোভি-১৯) বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি। তবে ভাইরাসটিতে বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি এমন কোনো প্রমাণ নেই।

সম্প্রতি জাপানের একদল গবেষকের নতুন একটি অধ্যয়ন সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হওয়ার ক্ষেত্রে আপনার বয়স কোনো প্রভাব ফেলবে না। বয়স কেবল গুরুতর অবস্থা ও মারা যাওয়ার আশঙ্কাকে প্রভাবিত করতে পারে। অধ্যয়নটিতে গবেষকরা ইতালি, স্পেন ও জাপানের কোভিড-১৯ সংক্রমণের ডাটা বিশ্লেষণ করেছেন।

২৯ মে পর্যন্ত ইতালিতে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় নিশ্চিত সংক্রমিত ছিল ৩৮৩ জন, স্পেনের ৫০৭ জন ও জাপানে মাত্র ১৩ জন। গবেষকরা বিভিন্ন বয়সের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যুর পাশাপাশি বেসিক রিপ্রোডাকশন নাম্বারের (আরও) দিকেও নজর দিয়েছিলেন। ‘আরও’ হলো, একজন সংক্রমিত ব্যক্তির থেকে গড়ে কতজন সংক্রমিত হতে পারে। তারা দেখতে পান, প্রত্যেকটি দেশে বিভিন্ন বয়সের মধ্যে আক্রান্তের হার একই রকম। তবে ‘আরও’ বেশ ভিন্ন ছিল।

দলটি তাদের গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ইতালি, স্পেন ও জাপানের মধ্যে কভিড-১৯-এ বিভিন্ন বয়সের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হারে সামান্য ভিন্নতা ছিল। যদিও প্রতিটা দেশে মৃতের সংখ্যায় বিশাল ব্যবধান ছিল। এ পরিস্থিতির নির্ধারককে বোঝার জন্য আমরা কভিড-১৯-এর সংক্রমণের গতিশীলতা, প্রাকৃতিক ইতিহাস বর্ণনা করে একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেছি এবং ইতালি, স্পেন ও জাপানে মৃত্যুর ডাটাসেট বিশ্লেষণ করেছি।

তারা প্রতিটা বয়সের জন্য মানুষ থেকে মানুষে যোগাযোগের আনুমানিক স্তর এবং প্রতিটা দেশে বিধিনিষেধের স্তরগুলো চিহ্নিত করেছে, যা ‘আরও’-এর শূন্য মানকে প্রভাবিত করে। যদি তিনটি দেশে যেকোনো বয়সের ক্ষেত্রে সংক্রমিত হওয়ার অনুপাত একই রকম হয়, তবে সেটারইবা কারণ কী?

দলটি অনুমান করেছিল, বয়স আক্রান্তের অসুস্থতার তীব্রতা বা মৃত্যুহারকে প্রভাবিত করে না। কিন্তু তাদের মডেল ইঙ্গিত দিয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স প্রভাবিত করে না, তবে তীব্রতা ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে এটা প্রভাবিত করে।

দলটি লিখেছে, যদিও আমরা সংক্রমণের ক্ষেত্রে বয়সের অস্তিত্বকে পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারি না। তবে আমাদের ফলাফলগুলো সুপারিশ করে যে এটা মূলত বয়সের ওপর নির্ভর করে না। বরং বয়স সংক্রমণের তীব্রতা ও মৃত্যুহারে ভূমিকা রাখে। গবেষণাটি ইঙ্গিত দিয়েছে, সব বয়সীদেরই কভিড-১৯ সংক্রমণের আশঙ্কা একই রকম।

তবে এটাই শেষ নয়। গবেষকরা বলেছেন, সংক্রমণের ক্ষেত্রে বয়সের প্রভাব আরো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে আমাদের আরো ডাটা প্রয়োজন। আর এটা তদন্ত করা বেশ কঠিন। এজন্য দলটি এ বিষয়ে বৃহৎ পরিসরে নিবিড় গবেষণার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গত একদিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে চার লাখ ১২ হাজার ৯১৭ জনের। শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯৬ জন। নতুন করে ৬ হাজার ১৮৫ জন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৯ হাজার ৭২ জনে। সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই কোটি ৯৬ লাখের বেশি মানুষ।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই সংক্রমণে এগিয়ে রয়েছে ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, কলম্বিয়া, পেরু, মেক্সিকো, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা।

তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দু'টি অঙ্গরাজ্য ছাড়া সবকটি অঙ্গ রাজ্যেই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৮ জন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ জনের।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৩২ জনের।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫২ লাখ ১ হাজার ৫৭০ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ২২৯ জনের।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৩ হাজার ৭২৩ জন।

পঞ্চম স্থানে উঠে আসা স্পেনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লাখ ৮২ হাজার ৭২৩ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ জনের।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads