সিনোফার্মের করোনা ভ্যাকসিন কার্যকর প্রমাণিত


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৮:০৪

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) তাণ্ডবে বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১১ লাখ। প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে। ভাইরাসটি প্রতিরোধে এখনো শতভাগ কার্যকর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তবে এরই মধ্যে আশাব্যঞ্জক খবর দিল যে দেশ থেকে বিশব্যাপী কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে সেই চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম।

সিনোফার্মের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন শরীরে করোনাভাইরাসের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পেরেছে, যা দীর্ঘ সময় সুরক্ষা দিতে সক্ষম। সেই সঙ্গে এটি নিরাপদ বলেও প্রমাণিত হয়েছে।

ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম দুই ধাপের ফলাফল গত বৃহস্পতিবার মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে। বায়োপিক কোম্পানি ফাইজার ও তার জার্মান সহযোগীর যৌথভাবে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলকে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল বলে বর্ণনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এর পর পরই চীনা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিনের ব্যাপারেও আশাব্যঞ্জক ফলাফলের কথা জানানো হলো।

ল্যানসেটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিনোফার্ম বলেছে, ছয় শতাধিক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ককে বিবিআইবিপি নামের এ ভ্যাকসিন দেয়া হয়। তাদের কারো মধ্যেই বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবীকে ভ্যাকসিনের দুই ডোজ করে দেয়া হয়। দেখা গেছে, এতে তাদের শরীরে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

বিবিআইবিপি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম ধাপটি সম্পন্ন হয় ১৯২ জন স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে। এ ধাপে ভ্যাকসিনটি নিরাপদ কিনা তা যাচাই করা হয়। এ স্বেচ্ছাসেবীদের অর্ধেকের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৫৯ বছর আর বাকি অর্ধেকের ৬০ থেকে ৮০। ১৪৪ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয় আর বাকি ৪৮ জনকে দেয়া হয় প্ল্যাসিবো বা ডামি। এরপর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার রেকর্ড রাখা হয়। ২৮ দিনের পর্যবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে সিনোফার্ম।

তাত্ত্বিকভাবে ধরে নেয়া যায়, এ ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে নভেল করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। তা না হলেও অন্তত তাদের ব্যাপকভাবে করোনা আক্রান্ত হওয়া ও গুরুতর পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়ে দেবে। যদিও বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ দেননি। তাছাড়া এ চীনা ভ্যাকসিন ১ হাজার জনের কম স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে প্রয়োগ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের মহামারীর অবসান ঘটাতে এখন একটি কার্যকর ভ্যাকসিনের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করা হচ্ছে। দুঃখের বিষয় এখনো কোনো ভ্যাকসিন নিঃসন্দেহে কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। ফলে পৃথিবীর প্রায় সব দেশকেই সামাজিক দূরত্ব আর লকডাউনের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। কিন্তু এতেও আক্রান্ত ও শনাক্তের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এদিকে চীনের বিবিআইবিপি ভ্যাকসিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত সিনোফার্ম নিজেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো ও তৃতীয় পক্ষের কোনো পর্যবেক্ষণ ছাড়াই ফলাফল ল্যানসেটে প্রকাশ করা হলেও ভ্যাকসিনটির ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা বেশ আশাবাদী।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের ইনস্টিটিউট অব এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিনের অধ্যাপক লারিসা রুদেঙ্কো চীনা ভ্যাকসিনের এ ফলাফলকে ‘প্রতিশ্রুতিশীল’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি সঙ্গে এ-ও বলেছেন যে এ ভ্যাকসিন আসলেই টি-সেলকে উজ্জীবিত করছে কিনা সেটি নিশ্চিতভাবে জানতে আরো বিস্তৃত গবেষণার দরকার আছে।

ইউনিভার্সিটি অব বাথের বায়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. অ্যান্ড্রু প্রেস্টোন বলেন, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের এ অগ্রগতি নিঃসন্দেহে ভালো খবর।

এদিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গত একদিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে চার লাখ ১২ হাজার ৯১৭ জনের। শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯৬ জন। নতুন করে ৬ হাজার ১৮৫ জন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৯ হাজার ৭২ জনে। সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই কোটি ৯৬ লাখের বেশি মানুষ।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই সংক্রমণে এগিয়ে রয়েছে ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, কলম্বিয়া, পেরু, মেক্সিকো, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা।

তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দু'টি অঙ্গরাজ্য ছাড়া সবকটি অঙ্গ রাজ্যেই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৮ জন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ জনের।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৩২ জনের।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫২ লাখ ১ হাজার ৫৭০ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ২২৯ জনের।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads







Loading...