করোনার যেসব ওষুধ বাতিল হওয়ার পথে

করোনায় বহুল প্রচলিত কিছু ওষুধ - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৭:১১

চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) তাণ্ডবে বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখে দাঁড়িয়েছে। ভাইরাসটি প্রতিরোধে এখনো শতভাগ কার্যকর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তবে এর চিকিৎসায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেমডিসিভির’সহ চারটি ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছিলো। তবে এসব ওষুধের কার্যকারিতা কার্যত অকেজো বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, ‘এসব ওষুধ রোগীর তেমন কোনো কাজে আসছে না। বরং রোগীদের হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে দীর্ঘদিন।’ করোনা চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত এসব ওষুধের উপযোগিতা কার্যত খারিজ হয়ে গেছে সংস্থাটির ট্রায়ালে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পরই করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি নিয়ে ভাবছে ভারত সরকার।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ভারত সরকারও ওই চারটি ওষুধকে চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে ছেঁটে ফেলতে পারে। এ বিষয়ে শিগগিরই আলোচনায় বসবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করোনা সংক্রান্ত কমিটি।

গতকাল শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওষুধগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করেছে সংস্থাটি। বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের ১১ হাজার ২৬৬ জন রোগীর উপর এ ট্রায়াল চালানো হয়।

সমীক্ষা শেষে জানা গেছে,‘রেমডিসিভির’ নামক ওষুধটি করোনা রোগীর তেমন কোনো উপকারে আসে না। এর ফলে কেবল রোগীকে হাসপাতালে থাকতে হয় অনেকদিন। আবার ওই ওষুধের ফলে মৃত্যুহারও কমে না।

সমীক্ষার ফলাফলে বলা হয়েছ, শুধু রেমডিসিভির নয় একই অবস্থা ‘হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন’ ‘লোপিনেভির’ এবং রিটোনেভিরের মতো ওষুধেরও। এগুলোর সবকটিই ভারতে অত্যন্ত প্রচলিত। প্রায় গোটা দেশের চিকিৎসকরাই রোগীদের জন্য এগুলো ব্যবহার করেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আইসিএমআরের পরিচালক ড.বলরাম ভার্গব এবং সদস্য ভি কে পলের নেতৃত্বে করোনার জয়েন্ট টাস্ক ফোর্সের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে করোনার চিকিৎসা পদ্ধতি খতিয়ে দেখা হবে।’

এদিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গত একদিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে চার লাখ ১২ হাজার ৯১৭ জনের। শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯৬ জন। নতুন করে ৬ হাজার ১৮৫ জন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৯ হাজার ৭২ জনে। সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই কোটি ৯৬ লাখের বেশি মানুষ।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই সংক্রমণে এগিয়ে রয়েছে ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, কলম্বিয়া, পেরু, মেক্সিকো, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা।

তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দু'টি অঙ্গরাজ্য ছাড়া সবকটি অঙ্গ রাজ্যেই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৮ জন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ জনের।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৩২ জনের।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫২ লাখ ১ হাজার ৫৭০ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ২২৯ জনের।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৩ হাজার ৭২৩ জন।

পঞ্চম স্থানে উঠে আসা স্পেনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লাখ ৮২ হাজার ৭২৩ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ জনের।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads







Loading...