ট্রায়াল শেষ না করেই নাগরিকদের টিকা দিচ্ছে চীন!

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩১

ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ না করেই জরুরি ভিত্তিতে চীনের হাজার হাজার নাগরিকের শরীরে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করছে দেশটির সরকার। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসার আগে এটি কতোটা কার্যকর ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখে নেয়া উচিত।

গত জুলাই মাস চীনে ভ্যাকসিন প্রয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। শুরুতে সরকারি কর্মকর্তা এবং গবেষকদের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে ওই ভ্যাকসিন। তারপর ধীরে ধীরে সাধারণ মানু্ষের ওপর প্রয়োগ শুরু হয়।

চীনের এক স্বাস্থ্যকর্মী বলছেন, ‘‌যেকোনো প্রকারে এই ভাইরাসকে আটকাতে চাইছে সরকার। সেজন্যেই ট্রায়ালের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে দেশে।’‌

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলেছে, ভ্যাকসিন তৈরিতে যেন তাড়াহুড়ো না করা হয়। কিন্তু হু–কে জানিয়েই নাকি চীনে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের এক কর্মকর্তা।

চীনের ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলছেন, ট্রায়াল প্রক্রিয়ার জন্য এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর নাম নথিভুক্ত করেছে সিনোফার্ম। তার বাইরেও এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে।’‌

ভ্যাকসিনের ডোজ নিয়েছেন চীনের জনপ্রিয় লেখক কান চাই। বলছেন, ‘প্রথম ডোজে বিশেষ কোনো অনুভূতি হয়নি। তবে দ্বিতীয় ডোজে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গাড়ি চালাতে চালাতে আমার মাথা ঘুরেছে বেশ কয়েকবার। তবে শান্ত হয়ে খানিকক্ষণ বসার পর ভালো বোধ করি।’‌

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তা জেন জংওয়েই বলছেন, সুরক্ষা বিধি মেনেই জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে। মূলত সরকারি কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরই এই ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে, কারণ তারা রাত–দিন বাইরে থেকে কাজ করেন। কাজের সূত্রে বিদেশে যেতে হয়। তারা যাতে ফের দেশে ফিরে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, সেজন্যই এটা করা হচ্ছে। এছাড়াও সংক্রমণের নতুন ঢেউ যেকোনো মুহূর্তে দেশে শুরু হতে পারে, সেটাও আটকানো জরুরি।’

তবে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োএথিক্স–এর অধ্যাপক ডিয়েগো সিলভা বলছেন, ‘‌ট্রায়ালে উত্তীর্ণ না হয়েই জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন প্রয়োগের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এই মুহূর্তে চীনে আঞ্চলিক সংক্রমণ খুবই অল্প। নেই বললেই চলে। বাইরের দেশ থেকে কেউ এলেও তাকে সরকারি কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। এই প্রকল্পের কোনো প্রয়োজন ছিল না।’‌

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads