দূরত্ব মেনেই চুম্বন দিবস!

মানবকণ্ঠ
দূরত্ব মেনে চুম্বন - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ০৭ জুলাই ২০২০, ১২:৩৪

গতকাল ছয় জুলাই ছিল একটা বিশেষ দিন। আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবস। কিন্তু কোভিড মহামারীর ধাক্কায় এখন সবার মুখে মাস্ক। মানতে হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব। তাই সেখানে চুম্বন দিবস কতটা যুক্তিযুক্ত সে প্রশ্ন করতেই পারেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ভাবুন, যদি আপনি সুস্থ হন, কোনো রকম বিধিনিষেধের গেড়ো না থাকে, তাহলে পরস্পরকে কাছে টানার এমন সুবর্ণ সুযোগ আর কবে পাবেন। ছোট-বড় সবাইকে কেউ না কেউ আদর করে চুমু খান। এই চুমু খাওয়া থেকেই শুরু হয়েছে চম্বুন। ফলে ৬ জুলাই প্রতিবছর আন্তর্জাতিক চম্বুন দিবস পালিত হয়। এবার বিশ্বব্যাপী করোনাকাল হওয়ায় এই দিবসটির প্রতি তেমন একটা আগ্রহ ছিল না মানুষের। এমনকি প্রতিবছরের ন্যায় এবার চুম্বন প্রতিযোগিতাও হয়নি। ইউরোপ দেশেও চুম্বন দিবস পালিত হয়নি।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র মতো এই দিনটির ইতিহাস মোটেও তেমন প্রাচীন নয়। কিন্তু ২০০০ সালের শুরুতে আমেরিকায় প্রথম শুরু হওয়া এই দিনটি ক্রমেই সারা বিশ্বে জনপ্রিয় উঠেছে। নিজের প্রিয় মানুষকে চুম্বন করে ভালোবাসা জানানোই এই দিনটির বিশেষত্ব। তার মানে এই নয় যে শুধুই দুজন প্রেমিক-প্রেমিকার চুম্বন। নিজের যে কোনো কাছের, প্রিয় মানুষের গালে চুম্বন এঁকে দিন এই দিনে। সে আপনার বাবা, মা, বন্ধু, সন্তান যে কেউ হতে পারে।

ইতিহাস বলে, চুম্বন সব থেকে বেশি জনপ্রিয় ছিল রোমানদের মধ্যে। রোমান ইতিহাসে আমরা তিন ধরনের চুম্বনের উল্লেখ পাই। প্রথমত, ‘অস্কিউলাম’?, যে চুম্বন সাধারণত গালে করা হয়। নেহাতই সাদামাটা, বন্ধুত্বপূর্ণ ভালোবাসার প্রকাশ। দ্বিতীয়ত, ‘?বেসিয়াম’?, যে চুম্বন ঠোঁটের ওপর করা হয়। তাতে ভালোবাসার প্রকাশ আছে কিন্তু গভীরতা নেই। তৃতীয়ত, ‘সেভিয়াম’, ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে যে গভীর চুম্বন করা হয় এবং যাতে ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ পায়।

চম্বুন দিবসের এই দিনে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বা প্রকৃত প্রেম যে ঠিক কী সেটাই ভুলতে বসেছে মানুষ। কয়েকদিনের সম্পর্কেই পরস্পরের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠছে। দুজন প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ইগো, সন্দেহ, ক্ষোভ, ঈর্ষা জন্ম নিচ্ছে। যার ফলে ভাঙছে সম্পর্ক। সেখানে আন্তর্জাতিক চুম্বন দিবসের গুরুত্ব যেন আরো বেশি করে প্রকট হয়ে ওঠে। এই একটা আচরণের মাধ্যমেই যে অনেক কিছু না বলেও প্রকাশ করা যায়। কারণ প্রকৃত ভালোবাসায় জোর খাটে না। সেখানে ইগো, সন্দেহ, ক্ষোভ বা ঈর্ষার প্রশ্ন থাকে না। ভালোবাসার মানুষকে শুধুই ভালোবেসে কাছে টানুন এই দিনে। আর তার মনে এঁকে দিন নিজের ভালোবাসার ছোঁয়া। দেখবেন, পারস্পরিক সম্পর্ক শুধু জোড়াই লাগবে না, অটুট হয়ে যাবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 





ads






Loading...