কাবুলে শিখ গুরুদুয়ারায় হামলায় নিহত ২৫

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ মার্চ ২০২০, ১২:১২,  আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০, ১২:৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিখ ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুদুয়ারায় হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। খবর- রয়টার্স'র। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এই নৃশংসতার দায় স্বীকার করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে চলমান সহিংতার বিষয়টিই সামনে নিয়ে এসেছে এই হামলা।

খবরে প্রকাশ, বুধবার সকালে উপাসকরা যখন প্রার্থনা করছিলেন, তখন এই হামলা চালানো হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে আফগান জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল ঘোষণা করে যে বন্দি বিনিময়ে তালেবান ও সরকারের কর্মকর্তারা মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।

বিদ্রোহ বাড়ার পাশাপাশি বড় ধরনের মার্কিন সহায়তা কাটছাঁটে টলোমলো অবস্থায় অর্থনৈতিক সংকটে থাকা আফগানিস্তান। এছাড়া রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির ঘটনা সামাল দিতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে দেশটি।

সাম্প্রতিক হামলার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে তালেবান। কিন্তু জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট সেই দায় স্বীকার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী রাজু সিং সোন্নি বলেন, মধ্যকাবুলের মন্দিরটিতে পুলিশের উর্দি পরা এক ব্যক্তি জোর করে প্রবেশ করে এক প্রহরীকে গুলি করে প্রধান হলের ভেতরে উপসনাকারীদের ওপর হামলা শুরু করে। এরপর আরও কয়েকজন হামলাকারী ঢুকে রুমে রুমে ঢুকে লোকজনকে গুলি করে।

ঘণ্টাখানেক পর মন্দিরের প্রবেশ পথে হামলাকারীরা এক প্রহরীকে খুন করায় প্রার্থনায় বাধা পড়ে, এরপরই তারা গুলি শুরু করে আর প্রার্থনাকারীরা আশ্রয়ের জন্য মন্দিরের এদিকে ওদিকে পালাতে শুরু করে।

৩০ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী গুরনাম সিং বলেন, শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে কান্না ও চিৎকার শুরু করে, এখনও কাঁদছে তারা। এ ঘটনা ভুলবে না তারা, তাদের মানসিক অবস্থা ভালো নেই। এ হামলায় হরিন্দর সিংয়ের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা সিঁড়িতে এসেই নারীদের হত্যা করা শুরু করে। আমার ভাইপো চিৎকার করে আমাকে বলে, চাচা, নিচে চলে যান, আমি নিচে নামার চেষ্টা করতেই তারা আমার ভাইপোর মাথায় গুলি করে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮০-র দশকের শেষ দিকে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ লাখের মতো শিখ ছিল, কিন্তু দেশটিতে বছরের পর বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে কারণে ও তালেবানের উত্থানের পর তাদের অধিকাংশই দেশ ছেড়ে চলে যায়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...