করোনার পরবর্তী কেন্দ্রস্থল হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

করোনার পরবর্তী কেন্দ্রস্থল হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র - সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ মার্চ ২০২০, ১১:৫৯,  আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০, ১২:৫০

মহামারী করোনা ভাইরাসের পরবর্তী বৈশ্বিক উৎসভূমি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন দাবি করেছে। খবর রয়টার্সের। জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণ ব্যাপকহারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের। এর মধ্যে ৪০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের।

যুক্তরাষ্ট্র প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ ভাইরাসের নতুন কেন্দ্রভূমি হতে যাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা ব্যাপক সংক্রমণ দেখতে পাচ্ছি, এটি দিন দিন বাড়ছে। কাজেই দেশটিতে সেই আশঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত পদক্ষেপের অভাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, করোনা মোকাবিলায় জনপদগুলোকে নিজেদের মতো করে কাজ করতে হচ্ছে। এতে করোনাসামগ্রী ও চিকিৎসা নিয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতায় ঢেলে দেয়া হচ্ছে অঙ্গরাজ্যগুলোকে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সেই জটিলতার কথা স্বীকার করেছেন। টুইটারে তিনি বলেছেন, ফেস মাস্ক ও ভেন্টিলেটরের বৈশ্বিক বাজার উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু উপকরণ পেতে আমরা রাজ্যগুলোকে সহায়তা করছি। কিন্তু তা সহজ নয়। এদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় জনসংখ্যাবহুল দেশ ভারতে দেশজুড়ে ২১ দিনের অচলাবস্থার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

ভাইরাসের বিস্তার দমিয়ে রাখতে ব্রিটেন ও অন্যান্য দেশের মতোই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। আর মার্চে জাপান থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তৎপরতা ভেঙে পড়েছে। অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে করোনা ভাইরাস বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অচলাবস্থা আরোপ করা হয়েছে। আর ক্রেতা ও শ্রমিকদের ঘরের ভেতরে রাখতে কোথাও সেনাবাহিনীকে টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। এতে সেবামূলক কার্যক্রম ও উৎপাদন যেমন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তেমনি সরবরাহ ব্যবস্থাও হুমকিতে পড়েছে।

মিলানের ইউনিক্রেডিট ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ইডোয়ার্ডো ক্যাম্পানেলা বলেন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সঙ্কট দ্রæতই বৈশ্বিক মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সংক্রমণ ও অর্থনীতিকে ধ্বংস থেকে রক্ষার মধ্যে পরিষ্কার উত্তেজনা রয়েছে। করোনা ভাইরাস এখন পর্যন্ত ১৯৪টি দেশ ও অ লে ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমিত হয়েছেন তিন লাখ ৭৭ হাজার। আর মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ১৯ হাজারের বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও বাড়ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ।

২৪ মার্চ মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত বাহিনী সংশ্লিষ্ট ১৭৪ জনের দেহে এ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের নিয়মিত হালনাগাদে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে বাহিনীর ৫৯ বেসামরিক কর্মী, ৬১ জন বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল সদস্য এবং ২৭ ঠিকাদারও রয়েছেন। জরিপ পর্যালোচনাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬ হাজার ২৭৪। এর মধ্যে ৫৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্নবান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের নেতৃত্ব গঠিত হোয়াইট হাউস করোনা ভাইরাস টাস্কফোর্সের এক কর্মীও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এরপর মাইক পেন্স ও তার পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।


মানবকণ্ঠ/এমএইচ






ads