‘আমাদের অভিভাবকরা গোপন সমকামী পর্ন সাম্রাজ্য চালাতো’

‘আমাদের অভিভাবকরা গোপন সমকামী পর্ন সাম্রাজ্য চালাতো’

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৫১

বহু বছর ধরে এই দম্পতি লস এঞ্জেলেসে সুপিরিচিত সমকামী পর্ন শপ চালিয়েছেন এবং পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রাপ্তবয়স্ক উপকরণ বিতরণ করেছেন।

এমনিতে পরিবারটি ছিলো যথেস্ট সম্মানিত। শিকাগোতে একটি পরিচিত সংবাদপত্রে সাংবাদিক ছিলেন কারেন।

আর ব্যারি চলচ্চিত্রে ইফেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন।

ইহুদিদের একটি অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে সাক্ষাত হয়েছিলো ও তাদের সন্তানেরাও প্রার্থনা সভায় যোগ দিতো ও স্কুলে কঠোর পরিশ্রম করতো।

১৯৭০ এর দশকের মাঝামাঝি ব্যারি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিনের একটি সেফটি ডিভাইস উদ্ভাবন করেছিলেন। কিন্তু যে কোম্পানির কাছে এটি বিক্রির কথা তাদের চাহিদা মতো ইন্সুরেন্স করতে না পারায় প্রকল্পটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

ফলে পরিবারের নগদ অর্থ দরকার ছিলো।

পরে লস এঞ্জেলেস টাইমসে একটি চাকরীর বিজ্ঞাপন পান কারেন- যেটি ছিলো একটি পর্ন ম্যাগাজিন ও পর্ন ম্যাগনেট ল্যারি ফ্লিন্ট এর উৎপাদিত সামগ্রী বিতরণের কাজ।

এভাবেই ম্যাসনস পরিবার পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নেয়।

প্রথম কয়েক সপ্তাহে কারেন ও ব্যারি ৫ হাজার অর্ডার পেয়ে যায় ও পুরো লস এঞ্জেলেসে গাড়ীতে করে তারা সেগুলো ডেলিভারি দিয়েছেন নিজেরা।

ফ্লিন্ট এরপর কয়েকটি সমকামী পর্ন প্রকাশনা কিনে নেন ও পরে সেগুলোও যোগ হয় ম্যাসনের তালিকায়।

কয়েক বছর পর লস এঞ্জেলেস এর বিখ্যাত গে পর্ন বুকশপ বুক সার্কাসের মালিক অর্থ সংকটে পড়ে যায়।

এটি ১৯৮২ সালের ঘটনা।

ব্যারি ও কারেন তা কিনে নাম দেন সার্কাস অব বুকস। যেটা ছিলো হার্ডকোর পর্ন স্টোর।

আর এটাই হয়েছিলো সেখানকার সমকামী সম্প্রদায়ের সমবেত হওয়ার জায়গা।

তিন সন্তান মিকাহ, রাচেল ও জোসকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো যখন তারা দোকানে আসবে তখন সেখানকার কোনো কিছুর দিকে তাকাবেনা ও স্পর্শ করবেনা।

এমনকি তারা যেনো তাদের বন্ধুদের দোকানের নাম না বলে তাও বলা হয়েছিলো।

"আমরা চাইনি ওরা জানুক আমরা কি করি। আমরা পরিবারে এগুলো নিয়ে কথা বলতাম না। লোকজনকে বলতাম আমাদের বইয়ের দোকান আছে," বলছিলেন কারেন।

কিন্তু এই পদক্ষেপ খুব একটা কাজে লাগেনি।

বড় সন্তান মিকাহ কারেনের গাড়িতে পর্ন ভিডিও পায় এবং এটি তাকে হতাশ করে।

রাচেলকে আসলে তার বন্ধুরাই বলেছিলো এবং তখন পর্ন সম্পর্কে তার কিছুটা আইডিয়াও ছিলো।

সে খুব আঘাত পেয়েছিলো। তার মা কিছু ধর্মপ্রাণ ও নীতিবান।

রাচেল মনে করতো তারা ছোটো ব্যবসা করে।

"আমরা ছিলাম প্রথাগত একটি পরিবারের মতো। মনে হতো পারফেক্ট পরিবার," জোস বলছিলেন।

কারেন ও ব্যারির নেতৃত্বে সার্কাস অব বুকস দারুণ ব্যবসা সফল হয়। পরে সিলভারলেক এলাকায় তারা এর দ্বিতীয় শাখা খোলেন।

তারা গে পর্ন ভিডিও তৈরিও শুরু করেন। পাশাপাশি পর্ন বিতরণ ব্যবসাও চালু রাখেন।

প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ছিলেন পর্নগ্রাফির বিরোধী।

তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেন এগুলো নিয়ে তদন্ত করতে। একই সময়ে বিচারের নতুন ব্যবস্থা চালু হয় যা ম্যাসন পরিবারের ব্যবসাকে চাপে ফেলে দেয়।

এরপর কিছু সময়ের জন্য পরিচিত জনদের মধ্যে বিক্রিটাই নিরাপদ ছিলো।

কিন্তু একদিন তাদের একজন স্টাফ ভুল করে বসেন।

একদিন একজন গ্রাহক তিনটি ফিল্ম অর্ডার করেন ও জো ভিডিও স্টোরে পোস্ট করতে বলেন। আসলে এই গ্রাহক ছিলো এফবিআই।

পরে হলিউড স্টাইলে দোকানে তল্লাশি হয়।

ম্যাসনের বিরুদ্ধ অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ আনা হয়।

সন্তানেরা জানতো না। কিন্তু ব্যারি সম্ভাব্য পাঁচ বছরের জেল ও বড় অর্থ দণ্ডের মুখে। মনে হচ্ছিলো দোকান বন্ধ হয়ে যাবে।

ম্যাসনের আইনজীবী লড়াই করেছেন।

আবার ব্যারি জেল এড়াতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং দোকান চালু থাকে।

এইডস যুগে কারেন ও ব্যারি ছিলেন মডেল চাকরিদাতা।

কর্মচারীরা অসুস্থ হলে ব্যারি দেখতে যেতেন, প্রয়োজনে হাসপাতালে নিতেন।

কোনো কর্মচারী এইডসে আক্রান্ত হলে সাধারণত তাকে কাজে আসতে না বলা হতো।

কিন্তু কারেন তারা যতদিন সুস্থ থাকেন ততদিন কাজে আসার সুযোগ দিয়েছেন।

"আমি তাদের কাজ করতে দিতাম ও নগদ অর্থ দিতাম,যা ছিলো বেআইনি। তবে আমি মনে করতাম কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ"।

অনেক কর্মীরই পরিবার ছিলোনা যাতে সে সহায়তা পেতে পারে। তাদের পরিবার সন্তানের মৃত্যুর পর কারেন ও ব্যারিকেই জানাতেন।

লস এঞ্জেলেসের সমকামী গোষ্ঠীর সাথে দীর্ঘদিন জড়িত থাকা সত্ত্বেও যৌনতা নিয়ে কোনো আলোচনা হতোনা তাদের পরিবারে।

তবে গোপনে তাদের সন্তান রাচেল একটু ভিন্ন জীবনধারায় আগ্রহী হয়ে ওঠে।

"আমি গে ক্লাবে যেতাম। আমার একটি আইডি ছিলো তাই আমি যেতে পারতাম। আমি এগুলো দেখে মুগ্ধ ছিলাম,"তিনি বলছিলেন।

রাচেল সব সময় একটু বিদ্রোহী ধরণের। তাই স্কুলের পথ থেকে সে এখন একটি মেয়েকে নিয়ে নেয় তাতে কেউ অবাক হয়নি।

কিন্তু ছোট সন্তান জোসের ওপর ছিলো মায়ের অনেক প্রত্যাশা।

"আমি আসলে পারফেক্ট হতে চেয়েছিলাম," জোস বলছিলেন।

কিন্তু এক রাতে সে একটি নোট লিখে, "আমি সমকামী। আমি কলম ও কাগজ টেবিলে ছুড়ে মারি"।

তবে তার আগে সে বাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি নেয় কারণ তার ভয় ছিলো যে তাকে বের করে দেয়া হবে।

"আমি ফ্লাইট বুকিং নিশ্চিত করেছিলাম"।

তবে কারেন জিজ্ঞেস করেন, "তুমি কি নিশ্চিত। কেন এমন করছো। ঈশ্বর আমাকেই শাস্তি দেবেন। কারণ আমি সন্তানকে যথাযথভাবে গড়ে তুলিনি"।

কারেন পরে বুঝতে পারেন যে তিনি রুঢ় আচরণ করেছেন।

পরে তিনি সমকামীদের অভিভাবক ও বন্ধুদের একটি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হন।

"যখন আমার নিজের সন্তানের বিষয় এলো। তখন মনে হলো সমকামীদের নিয়ে চিন্তা ধারার পরিবর্তন করতে হবে"।

পরে ব্যারি ও কারেন দুজনই ওই সংগঠনের দূত হয়ে যান।

পরে যখন ইন্টারনেট এলো তখন এমনিতেই তার ব্যবসা কমে যায়।

সিলভারলেক শাখা বন্ধ হয় ২০১৬ সালে আর ওয়েস্ট হলিউড শপ বন্ধ হয় গত বছর ফেব্রুয়ারিতে।

দোকান বন্ধ হওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো। অনেক মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো।

অনেক সুপরিচিত গ্রাহক ও সাবেক কর্মীরা দু:খ প্রকাশ করলো। কিন্তু কারেন বলছেন, ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় তিনি আর কর্মীদের সুবিধা দিতে পারছিলেন না যা তারা আগে পেতো। বিবিসি বাংলা

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads






Loading...