‘যুবরাজ শয়তানের ঘনিষ্ঠ মাঝেমধ্যে সান্নিধ্যে যান’


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০২:০৯

সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মাদ বিন সালমানের শয়তানের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির শীর্ষ আলেমদের নিয়ে গঠিত সংগঠন হাইয়াতু কিবারিল ওলামা বা সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের অন্যতম সদস্য ও রাজ দরবারের উপদেষ্টা শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুতলাক। তিনি বলেন, বিন সালমান শয়তানের ঘনিষ্ঠ, মাঝেমধ্যে তার সান্নিধ্যে যান। গানের কনসার্টে যাওয়ার হুকুম প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তর প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তুরস্কভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ইয়েনি শাফাক অ্যারাবিক এ খবর জানিয়েছে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মুতলাকের এই বিষয়ের একটি অডিওক্লিপ তাফরিত নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ে।

সেখানে তাকে আরো বলতে শোনা যায়, যেসব স্থানে কোনো হারাম বা নিষিদ্ধ বস্তুর উপস্থিতি রয়েছে, একজন মুসলিম আরেক মুসলিমকে সেদিকে পথ দেখাতে পারেনা: বরং তার কর্তব্য তো মুসলিমকে এমন পথের সন্ধান দেয়া, যেখানে গেলে ইমান বৃদ্ধি পায় এবং দ্বীন মজবুত হয়। বিনোদন ও কনসার্ট আয়োজকদের উদ্দেশ্য করে শায়েখ আব্দুল্লাহ বলেন, সৌদি জনগণের আলাদা সম্মান রয়েছে। তারা হারামাইন শরিফাইনের দেশের সম্মানিত নাগরিক। গোটা মুসলিম বিশ্বে এই দেশের রয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা। এ জন্য আমি আপনাদেরকে সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন আয়োজনের আহন জানাচ্ছি। বিনোদন সংস্থাগুলোর প্রতি আহন জানিয়ে তিনি বলেন, বিনোদনকে ইসলাম মুসলমান এবং এই দেশের পরিবেশ উপযোগী রূপায়ণের লক্ষ্যে কাজ করুন। সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে সমাসীন, সবার কাছে তাদের আলাদা মর্যাদা রয়েছে, এ জন্য জনগণের উপযোগী সংস্কৃতি আমদানি করুন।

এক্ষেত্রে আপনারা দেশপ্রেমিক শিক্ষাবিদদের পরামর্শ নিলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। শায়েখ আব্দুল্লাহ বলেন, মানুষের বিনোদন প্রয়োজন, তবে এমন বিনোদন প্রয়োজন নয়; যা শয়তানের নিকটবর্তী করে এবং আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। সুতরাং আমাদের দেশে এমন বিনোদন আমদানি করা যেতে পারে যা আল্লাহর নিকটবর্তী হতে সহায়ক হয়। অথচ সৌদি আরবে বর্তমানে বিনোদনের নামে যা হচ্ছে তা ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী। এদিকে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গত হজ মৌসুমে জেদ্দায় মার্কিন পপ গায়িকা নিকি মিনাজকে নিয়ে কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনাসহ বিন সালমানের আরো কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যই সৌদি আরবের বিশিষ্ট এই আলেম তার সমালোচনা করে এই মন্তব্য করেছেন। তবে সৌদির অভ্যন্তরে যুবরাজের এরকম সমালোচনা সত্যিই অকল্পনীয়।এর আগে এক প্রতিবদনে জানানো হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার বিরোধীদের আটক করতে জেদ্দায় নিজের প্রাসাদের অভ্যন্তরেই গোপন কারাগার বানাচ্ছেন।

আল-সালাম রাজপ্রাসাদেই এ গোপন কারাগার তৈরি করা হচ্ছে। কারাগারটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট। এতে নির্জন কক্ষ ছাড়াও বেশকিছু সম্পূর্ণ অন্ধকার কক্ষ থাকবে। এ কারাগারে বন্দিদের শাস্তির বিষয় তদারকি করবেন স্বয়ং যুবরাজ সালমান। ২০১৭ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর আটক শতাধিক ব্যক্তিকে রিৎজ-কার্লটন হোটেলে রাখায় বাণিজ্যিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশটির পর্যটন ব্যবসার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে গোপন কারাগার বানানো হচ্ছে। আরব মিডিয়াটি ওই প্রতিবেদনে আরো বলেছে, গোপন কারাগারে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও শাস্তির বিষয়টি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান নিজেই তদারকি করবেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে দুর্নীতি দমন অভিযানে আটক ব্যক্তিদের অনেকের মুক্তি হলেও এখনো অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি কারাবন্দি রয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/টিএইচ




Loading...
ads





Loading...