তালিকায় ৬০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, নজরদারিতে ৩২


  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১২ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৩

সাশ্রয়ী মূল্যে মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রির কথা বলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘থলেডটকম’ ও ‘উইকমডটকম’-এর বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে টাকা নিয়ে পণ্য ডেলিভারি না দেয়া ও টাকা ফেরত না দেয়া ৬০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের তালিকা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এগুলোর মধ্যে ৩০ থেকে ৩২টি প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয়েছে নজরদারিতে। এসব প্রতিষ্ঠান যারা চালাচ্ছেন, যেকোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে।

রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন। তিনি বলেন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সিআইডিও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করছে। কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন পণ্য ডেলিভারি করছে না। কয়েকজন ভুক্তভোগী এ জন্য থানায় অভিযোগ করেছেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, নানা অভিযোগের ভিত্তিতে ও সিআইডির অনুসন্ধানে ৬০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। ৬০টির মধ্যে ৩০ থেকে ৩২টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সিআইডির নজরদারিতে রয়েছে। এই ৬০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের কত টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে-এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, কত টাকা হাতিয়েছে, এটা হিসাব না করে বলা যাবে না। পরবর্তী সময়ে হিসাব করে জানানো হবে।

রিং আইডির মালিকদের ফেরাতে ইন্টারপোলের সাহায্য: এদিকে গ্রাহকের বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাত্কারী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রিং আইডির মালিক কানাডাপ্রবাসী শরিফ ইসলাম ও আইরিন ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের  সাহায্য নেবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ বিষয়ে ইন্টারপোলকে শিগগিরই চিঠি দেয়া হবে বলে গতকাল জানিয়েছেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কামরুল আহসান।

তিনি বলেন, সিআইডির অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক রিং আইডির প্রায় দুইশ কোটি টাকা জব্দ করেছে। তবে তাদের হাতিয়ে নেয়া টাকার পরিমাণ আরো বেশি। সেই অর্থ কোথায় জমা আছে তা এখনো অজানা। সেটি জানতেই ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিয়ে তাদের ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এদিকে, আইডি খোলা এবং আয়ের নানা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রিং আইডির অন্যতম এজেন্ট মো. রেদোয়ান রহমানকে (২২) রবিবার বিকালে গ্রেফতার করে সিআইডি। এ প্রসঙ্গে এই সিআইডি কর্মকর্তা কামরুল আহসান বলেন, ২০১৮ সাল থেকে রিং আইডিতে ইউজার হিসাবে কাজ শুরু করেন রেদোয়ান। গত সাত-আট মাস আগে রিং আইডিতে এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ পান। তখন থেকেই ছয় শতাধিক আইডি বিক্রি করে তিনি এক কোটির বেশি টাকা আত্মসাত্ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেদোয়ান সিআইডিকে জানিয়েছে, প্রতিটি সিলভার আইডি বাবদ ১২ হাজার টাকা, গোল্ড আইডি বাবদ ২২ হাজার, প্রবাসী গোল্ড আইডি বাবদ ২৫ হাজার, প্রবাসী প্লাটিনাম আইডি বাবদ ৫০ হাজার করে নিয়েছেন। বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের মতো রিং আইডিও অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রি এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন করে গ্রাহকদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছিল বলেও জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।


poisha bazar

ads
ads