পেঁয়াজ রসুন ও সবজির দাম কমেছে

পেঁয়াজ রসুন ও সবজির দাম কমেছে
পেঁয়াজ রসুন ও সবজির দাম কমেছে - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৩৬

শীতের শেষে এসে দাম কমছে সবজির। পাশাপাশি ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের আদেশ তুলে নেয়ায় এবং দেশে রসুনের সরবরাহ বাড়ায় এ দুটি নিত্যপণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা এবং রসুনের দাম ৭০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

শুক্রবার রাজধানীর বাসাবো, খিলগাঁও, শান্তিনগর, মালিবাগ অ লের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ১০০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের দাম কমে ৮০-৯০ টাকা হয়েছে। আর আমদানি করা ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০-১২০ টাকা। আমদানি করা চীনা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০-২১০ টাকা কেজি।

এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমেছে। আর দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০-১৬০ টাকা। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি রসুনের দাম কেজিতে কমেছে ৭০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত রফতানি বন্ধ করায় আমাদের এখানে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এখন ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের আদেশ তুলে নিয়েছে। এ কারণে দাম কমেছে সব ধরনের পেঁয়াজের। আর দেশি রসুনের সরবরাহ বাড়ায় এর দাম কমেছে। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে চীনা রসুনের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা হয়ে গিয়েছিল। সে সময় দেশি রসুনের সরবরাহ কম ছিল। এখন বাজারে প্রচুর নতুন দেশি রসুন আসছে। এ কারণে সব ধরনের রসুনের দাম কমেছে বলেও তারা জানান। এদিকে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, লাউ, করলা, টমেটো, শসা, শিম, শালগম, মুলা, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে।

গত সপ্তাহে ১২০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম কমে ১০০-১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা পিস, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-১০০ টাকা। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা। গত সপ্তাহে ৩০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম কমে ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে গত সপ্তাহের মতো ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশি পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৬০ টাকা।

ভালো মানের শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৫০ টাকা। ফুলকপি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫-৪০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। শালগম বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা কেজি।

দাম কমার এ তালিকায় রয়েছে বেগুন, মুলা, কাঁচা মরিচও। গত সপ্তাহে ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মুলার দাম কমে ২০-২৫ টাকা হয়েছে। ৬০-৭০ টাকার বেগুন দাম কমে ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০-৩০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার শীতকালজুড়ে সবজির দাম বেশি ছিল। তবে এখন গ্রীষ্মকালীন সবজি আসা শুরু হওয়ায় শীতের সবজির চাহিদা কমে গেছে। ফলে দাম কিছুটা কমেছে।

অন্যদিকে ডিমের বাজার অপরিবর্তিত থাকলেও দাম বেড়েছে সব ধরনের মুরগির। এসব বাজারে প্রতি কেজি বয়লার ১৪০ টাকা, লেয়ার ২২০ থেকে ২ধ৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ২০০ টাকা, সোনালি ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে মুরগির দাম বাড়লেও অন্য মাংসের দাম রয়েছে আগের মতোই। এসব বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, খাসি ৭৮০ টাকা, বকরি ৭২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০-৫০০ টাকা। তেলাপিয়া ১৩০-১৭০ টাকা, শিং মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, শোল মাছ ৪০০-৭৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা, টেংরা ৪৫০-৬০০ টাকা, নলা ১৮০-২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল, চাল ও মসলার বাজার। খোলা সয়াবিন (লাল) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা লিটার, খোলা সাদা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা লিটার। অপরিবর্তিত আছে সরিষার তেল। বর্তমানে সরিষার তেল খোলা বাজারে ২০০ টাকা লিটার বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে প্রতি বস্তা চিনিগুড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০০০ হাজার থেকে ৫ হাজার ২৫০ টাকা, মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ২৪৫০ টাকা, মিনিকেট (পুরানো) ২৫০০ থেকে ২৫৫০ টাকা, আটাশ চাল ১৮৫০ টাকা, বিভিন্ন প্রকার নাজির চাল প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২২৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়।

বাজারে আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মসলা। প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪৬০০ থেকে ৫৫০০ টাকা কেজি দরে। অথচ এক/দেড় মাস আগে এলাচ বিক্রি হয়েছিল ২৭০০ থেকে ৩০০০ টাকা কেজি দরে। বর্তমানে জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ থেকে ৩৬০০ টাকা কেজি দরে। এর আগে জয়ত্রী বিক্রি হয়েছিল ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজি দরে। জায়ফল গত দেড় মাসে দুই গুণ বেড়ে বর্তমান বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে, এর আগে জায়ফল বিক্রি হয়েছিল ৪০০ থেকে ৪৬০ টাকা কেজি দরে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads






Loading...