মুরগির বাচ্চা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া সেই শিশু পুরস্কৃত


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ১০:১৩

আহত মুরগির বাচ্চা নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া ভারতের মিজোরামের সাইরাংয়ের শিশু ডেরেক সি লালছানহিমাকে পুরস্কৃত করেছে তার স্কুল। শিশুটির মনের অনুভূতি ও চেষ্টা সবাইকে ভাবিয়েছে দেখে তার স্কুল তাকে একটি প্রশংসাপত্র দিয়েছে। যাতে লেখা ছিল ‘ওয়ার্ড অফ অ্যাপ্রিশিয়েসন’।

বৃহস্পতিবার দুই হাত দিয়ে প্রশংসাপত্র ধরে রাখা এবং ফুল হাতে হাসিমাখা নিষ্পাপ মুখ আবারও ভাইরাল হয় নেট দুনিয়ায়।

বুধবার ঘটে যাওয়া একটা ছোট্ট ঘটনা এবং শিশু মনে এমন অপরাধবোধ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাই তাকে তার স্কুল থেকেই পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ছয় বছর বয়সী শিশু ডেরেক সি লালচানহিমা নিজের সাইকেলে মুরগির একটি বাচ্চাকে চাপা দেয়। তবে ঘটনার পর সে পালিয়ে যায়নি বরং মুরগির বাচ্চাটিকে বাঁচাতে হাসপাতালে ছুটে যায়। তখন তার এক হাতে ছিল মুরগির বাচ্চা আর অন্য হাতে ১০ রুপি। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভারতের মিজোরামের সাইরাং এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সাংগা সেইস নামের একটি আইডি থেকে ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করা মাত্রই এক লাখ ২৪ হাজার লাইক পড়ে। মন্তব্য করেন ১১ হাজার ব্যক্তি। আর ছবিটি শেয়ার হয় ৮৭ হাজার।

পরে এ বিষয়ে সাংগা বলেন, শিশুটির বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘনার পর প্রতিবেশির মুরগির বাচ্চাটি নিয়ে ডেরেক বাড়িতে আসে। মুরগির বাচ্চাটি যে মারা গেছে সেটি সে বুঝতে চাইছিল না এবং বাচ্চাটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জন্য চাপ দিতে থাকে। শিশুটির বাবা তাকে ১০ রুপির একটি নোট দিয়ে হাসপাতালে যেতে বলেন। ডেরেক তখন মুরগির বাচ্চা ও ১০ রুপি নিয়ে হাসপাতালে হাজির হয়। সেখানে শিশুটির সরলতা ও মানবিকতা দেখে অভিভূত এক নার্স তার ছবি তোলেন। সেই ছবিটিই অনলাইনে ভাইরাল হয়।

সাংগা আরো জানান, মুরগির বাচ্চাটি সুস্থ না হওয়ার পরে হাসপাতাল থেকে কাঁদতে কাঁদতে ডেরেক বাড়িতে যায় এবং ১০০ রুপি নিয়ে আবার হাসপাতালে আসে। শেষ পর্যন্ত তারা বাবা-মা তাকে বোঝান যে মুরগির বাচ্চাটি মারা গেছে। হাসপাতালের লোকেরা আর কিছু করতে পারবে না।

ডেরেকের এমন মানসিকতা এরইমধ্যে বহু মানুষের হৃদয় জয় করেছে। সবাই প্রাণভরে আশীর্বাদ করেছেন তাকে।

মানবকণ্ঠ/এসএস




Loading...
ads




Loading...