নিপা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ নভেম্বর ২০২০, ১১:১০

বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়েছে। বাদুড় থেকে মানুষে আসা এই ভাইরাস নিয়ে সতর্ক না হলে মহামারী ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। কেননা সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিপার সংক্রমণ হার যা ভাবা হতো তার চেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে এবারের শীতে খেজুর গাছের কাঁচা রস পান না করাই ভালো। পাশাপাশি যেসব অঞ্চলে খেজুর রস থেকে বাণিজ্যিকভাবে গুড় উৎপাদন হয়- সেসব জায়গায় নজরদারিও বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।

চলমান মহামারীর জন্য দায়ী কোভিড-১৯ কোন উৎস থেকে মানুষ পর্যন্ত এলো তা নির্দিষ্ট করে জানা না গেলেও বিজ্ঞানীদের ধারণা কোনো প্রাণী থেকেই এসেছে এটি। বাদুড় থেকে আসা এমন আরো একটি ভাইরাস, প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশে প্রাণহানি ঘটিয়ে চলছে। সেটি হলো নিপা ভাইরাস।

২০০১ সালে বাংলাদেশে প্রথম নিপার উপস্থিতি ধরা পড়ে-সে বছর প্রাণ যায় নয় জনের। শেষ দশ বছরে এতে প্রাণ গেছে ১২৯ জনের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নিপা ভাইরাসে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ এবং এটি করোনার মতোই মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়।

বাংলাদেশে এক হিসাবে দেখা যায়, ২০১০ সালে নিপা ভাইরাস ১৮ জনের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। ২০১১ সালে সংক্রমিত ৪২ জনের মধ্যে ৩৬ জন, ২০১২ সালে ১৮ জনের মধ্যে ১৩ জন, ২০১৩ সালে ২৬ জনের মধ্যে ২২ জন, ২০১৪ সালে ৩৮ জনের মধ্যে ১৫ জন, ২০১৫ সালে ১৮ জনের মধ্যে ১১ জন, ২০১৭ সালে ৩ জনের মধ্যে ২ জন, ২০১৮ সালে ৪ জনের মধ্যে ৩ জন, ২০১৯ সালে ৮ জনের মধ্যে ৭ জন এবং ২০২০ সালে এ পর্যন্ত ৬ জনের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, বাংলাদেশ, ভারতসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে নিপা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। করোনার মধ্যে নিপা ছড়িয়ে পড়লে সেটি হবে আরো ভয়াবহ। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ- শীতে খেজুরের রস ও আধ খাওয়া ফল না খাওয়া। এছাড়া ফরিদপুর, রাজবাড়ি, কুমিল্লা, যশোর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত গুঁড়ে নজরদারি বাড়ানোর।

এ ব্যাপারে রোগতত্ত¡, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, শীতে কাঁচা খেজুরের রস থেকেই নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে। কারণ, গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহের সময় তা বাঁদুর যে কোনোভাবেই হোক বাঁদুরের সংস্পর্শে আসে। এই রস মানুষে খায়। যিনি খাচ্ছেন তিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের শিক্ষক ড. মো. গোলজার হোসেন বলেন, সাধারণত গাছ থেকে সংগ্রহ করা খেজুরের রস একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গরম না করে খেলে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।

করোনার মতোই নিপা ভাইরাসেরও কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এর থেকে সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই বলে মত দিলেন বিশেষজ্ঞরা।

 






ads