প্লাজমা থেরাপিও সবসময় কার্যকর নয়: সমীক্ষা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪০

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি বা সেরে ওঠা রোগীদের রক্তের ব্যবহার সবসময় কার্যকর নয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করার এক মাসের ব্যবধানে ২২৯ জনের মধ্যে ৪১ জন অর্থাৎ ১৯ শতাংশ রোগীর অবস্থা সঙ্কটজনক হয়েছে, বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। প্লাজমা থেরাপিও এখন শতভাগ কার্যকর হচ্ছে না বলে এক গবেষণা মারফত জানা গেছে।

প্লাজমা থেরাপি সম্পর্কে কিছুটা ব্যাখ্যা করা জরুরি। এই চিকিৎসাপদ্ধতির পুরো নাম কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপি। সুস্থ হয়ে গিয়েছেন এমন কোনও করোনারোগীর শরীর থেকে রক্ত নিয়ে তা সরাসরি প্রয়োগ করা হয় অসুস্থ ব্যক্তির শরীরে।

ভারতে ২৩৯ জন পূর্ণবয়স্ক করোনারোগী নিয়ে এই সমীক্ষাটি করেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি, তামিলনাড়ুর গবেষকরা। এদের অর্ধেককে মান সম্পন্ন সেবার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়। আর বাকি অর্ধেককে নিয়ন্ত্রিত মান সম্পন্ন দেওয়া হয়। তারা এই ২৩৯ জন রোগীর মধ্যে ২২৯ জনের শরীরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু'বার সুস্থ রোগীর রক্ত প্রয়োগ করেন। পাশাপাশি চলতে থাকে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে চিকিৎসাও।

এক মাস পর দেখা যায় প্লাজমা থেরাপি নেওয়া রোগীদের ১৯ শতাংশেরই রোগের জটিলতা বেড়েছে কিংবা কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত সেবা পাওয়া রোগীদের এই হার ১৮ শতাংশ। তবে প্লাজমা থেরাপি সাত দিনের মধ্যে শ্বাস কষ্টের মতো লক্ষণ কমানোয় ভূমিকা রেখেছে বলেও দেখা গেছে।

ভারতীয় গবেষকরা বলছেন, অ্যান্টিবডির মাত্রা বাড়িয়ে আরও গবেষণা চালানো হলে হয়তো এর কার্যকারিতার আরও প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

তবে প্লাজমা থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরে প্রথম সাত দিনে রোগীর স্বাস্থ্যে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল বলেও উল্লেখ করছেন গবেষকরা।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৩ জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০৯ জন। সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন কোটি ২১ লাখের বেশি মানুষ।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই সংক্রমণে এগিয়ে রয়েছে ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, কলম্বিয়া, পেরু, মেক্সিকো, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা।

তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সবকটি অঙ্গরাজ্যেই বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৯ লাখ ৬২ হাজার ৭৮৩ জন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৩১ হাজার ৪৫ জনের।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৫৩৫ জনের।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৫৫০ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৪৫১ জনের।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২২৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৬ হাজার ২৬৯ জন।

পঞ্চম স্থানে উঠে আসা স্পেনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ হাজার ১৮ জনের।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ২৫১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮১৮ জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৬০ জন।






ads