প্রথম ভ্যাকসিনেই কমবে না করোনা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০৬

করোনা ভাইরাসের আক্রামণে নাকাল বিশ্ব। সারা বিশ্বে তিন কোটির বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১ লাখের বেশি মানুষের। বিশ্ববাসী এখন নির্বাক তাকিয়ে আছে প্রাণঘাতী করোনা প্রতিরোধক ভ্যাকসিনের দিকে।

ভাইরাসটি প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১৫৫টি ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছে। এর মধ্যে হিউম্যান ট্রায়াল চলছে ২৩টির, যার মধ্যে তিনটি চূড়ান্ত পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়ালে রয়েছে। শুরু হতে চলেছে করোনার নাজাল ভ্যাকসিনের ট্রায়ালও। তবে এর মধ্যেই আশঙ্কার কথা শোনালেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, প্রথমবারের ভ্যাকসিনেই মিলবে না করোনা থেকে মুক্তি।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রথম ধাপের করোনা ভ্যাকসিনেই রোগ মুক্তির আশা করে থাকলে ভুল হবে। কারণ, প্রথম ভ্যাকসিনেই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। বরং এই ভ্যাকসিনে উপসর্গ কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার একটি প্রতোবেদনে বলা হয়েছে, করোনার ভ্যাকসিন মানুষকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে এখনই সফল হবে না।

অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা বর্তমানে একজন মানুষকে করোনা থেকে ৫০ শতাংশ নিরাপত্তা দেয়া যায় এরকম ক্ষমতার ভ্যাকসিন তৈরি করছেন।

তারা মনে করছেন, এভাবে উপসর্গ যুক্ত আক্রান্তের সংখ্যা যদি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা যায়, তাহলেই অনেকটা উপকার হতে পারে। ফলে একেবারে চরম সাফল্য না পেলেও, প্রথম ধাপে আংশিক সাফল্য পাবে করোনার ভ্যাকসিন।

গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী স্যার প্যাট্রিক ভ্যালন্সে জানিয়েছেন, এই ভ্যাকসিন যাদের শরীরে দেয়া হয়েছে, তাদের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছর শুরুতেই করোনার ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের কাছে এসে পৌঁছে যাবে। কিন্তু তাতে উপসর্গ কমবে মাত্র, পুরো মাত্রায় করোনা মুক্তি এখনই ঘটবে না।

সেই কারণেই তিনি বলেছেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা থেকে শুরু করে অন্য যে নিয়মকানুন ছিল, সেগুলি পালন করে যেতে হবে পৃথিবীর সাধারণ মানুষকে। ভ্যাকসিন এলেও সেই নিয়ম মানতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনের দু’টি ডোজ শরীরে করোনার উপসর্গ কমাতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা মনে করছেন, প্রথম একটি করোনার ভ্যাকসিন নেয়ার একমাস পর আবারো একবার ভ্যাকসিন নিতে হবে। তাহলেই সম্পূর্ণ নিরাপদ হওয়া যাবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক জরিপকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ১১ লাখ ২ হাজার ৯৪১ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৩ কোটি ৯১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৬৬ জন। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, এরইমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ কোটি ৯৩ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি।

একদিনে ৮৭৪ জনের মৃত্যু দেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এখনো করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে। সবমিলিয়ে দেশটিতে ভাইরাসজনিত কারণে দুই লাখ ২২ হাজারের বেশি প্রাণ গেল। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্যে বেড়েছে শনাক্তের হার। মোট ৮২ লাখ ১৬ হাজারের বেশি সংক্রমিত।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৩৫ জন। এদিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৬০ হাজার ৪৩৯ জন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৩৪ জনের মৃত্যু দেখেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। দেশটিতে মোট প্রাণহানি এক লাখ ৫২ হাজার ছাড়িয়েছে। নতুন ২৯ হাজার সংক্রমণে মোট আক্রান্ত ৫১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে করোনার প্রকোপ কমছেই না।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। এই ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।





ads







Loading...