ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি করোনার ঝুঁকি বাড়ায়: গবেষণা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:২৪

কোভিড-১৯ এর কোনো প্রতিষেধক নেই। তাই শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোই এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ডি অবশ্যই প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউশিকাগো) মেডিসিনের গবেষকরা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে একটি সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।

ইউশিকাগো মেডিসিনের গবেষকরা ৪৮৯ রোগী নিয়ে এ গবেষণা চালিয়েছেন, যাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার আগে এক বছরের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর স্তর পরিমাপ করা হয়েছিল। খবর সিনহুয়া।

গবেষণায় দেখা যায়, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে (প্রতি মিলিলিটার রক্তে ২০ ন্যানোগ্রামের চেয়ে কম) এমন ব্যক্তিরা ভিটামিনের পর্যাপ্ত মাত্রা থাকা রোগীদের তুলনায় কোভিড-১৯-এ প্রায় দ্বিগুণ বেশি পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

ইউশিকাগো মেডিসিনের চিফ অব হসপিটাল মেডিসিন ও গবেষণার প্রধান ডেভিড মেল্টজার বলেন, ‘ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট আগেও শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার প্রমাণ দেখিয়েছিল।’

তিনি বলেন, আমাদের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ অনুযায়ী এটি কোভিড-১৯ সংক্রমণের ক্ষেত্রে সত্য হতে পারে। সম্প্রতি ইউশিকাগোর ওয়েবসাইটে এ জরিপ প্রকাশ করা হয়। ধারণা করা হয়, অর্ধেক আমেরিকানের ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে।

ভিটামিন ‘ডি’ কীভাবে কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা করতে পারে : আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে শ্বাসতন্ত্রের কোষের ওপর ভিটামিন ‘ডি’ এর প্রভাব রয়েছে যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন রোধে ভূমিকা রাখে। যে কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরে ঢুকলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের অন্যতম উপাদান ম্যক্রোফেজ যাকে আমরা পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করতে পারি, তারা সক্রিয় হয়ে উঠে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে ভিটামিন ‘ডি’ এই ম্যাক্রোফেজকে আরো সক্রিয় করে দেয় যাতে করে তারা দ্রুত রেসপন্স করে। ভিটামিন ‘ডি’ ম্যাক্রোফেজের পরিপূর্ণ গঠনেও সাহায্য করে ভিটামিন ‘ডি’।

ভিটামিন ‘ডি’ আমাদের শরীরে ক্যাথেলিসিডিন নামক একটি প্রোটিনের সংখ্যা বৃদ্ধি করে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আমাদের শ্বাসতন্ত্রকে যক্ষ্মার জীবাণু, বিভিন্ন গ্রাম পজিটিভ , গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও এ জাতীয় অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যা পরবর্তীতে এজমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যদি সম্পূরকভাবে ভিটামিন ‘ডি’ দেয়া হয়, তাহলে Acute Respiratory tract infection বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের হার কমিয়ে দেয়।

বয়স্কদের ওপর ভিটামিন ‘ডি’ এর প্রভাব : বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ‘ডি’ বয়স্কদের মৃত্যুহার কমিয়ে দেয় যারা সাধারণত কোভিড-১৯ সহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন। তবে এটা মনে রাখতে হবে এরকম কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই যে ভিটামিন ‘ডি’ আপনাকে কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা করতে পারবে। কিন্তু ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে আপনার যে কোনো ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে এবং আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত।

শিশুদের ওপর ভিটামিন ‘ডি’র প্রভাব : বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে দুগ্ধপোষ্য শিশু থেকে বাড়ন্ত শিশু সকল পর্যায়ে ভিটামিন ‘ডি’ এর ঘাটতি রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল শিশু মায়ের দুধ খায় তাদের ভিটামিন ‘ডি’ এর দৈনিক চাহিদা ৪০০ আন্তর্জাতিক ইউনিট (আইইউ)। কিন্তু তারা যে পরিমাণ মায়ের দুধ খায় তাতে তাদের ঘাটতি থেকে যায়। এসব শিশুর ভিটামিন ‘ডি’ এর চাহিদা পূরণের জন্য ছয় মাস পর ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ ফরমুলা দুধ দেয়ার কথাও বলেছে গবেষণাটি। এছাড়া বাড়ন্ত শিশুর দৈনিক চাহিদা ৬০০ আইইউ যা পূরণ করতে হলে তাদের দৈনিক ১০০০ মিলি দুধ খেতে হবে। এ কারণে তাদেরও ঘাটতি রয়ে যায়। এ কারণে গবেষণা বলছে তাদেরও ভিটামিন ‘ডি’ সম্পূরক ডোজ দরকার রয়েছে।

গর্ভবতী মহিলাদের ভিটামিন ‘ডি’ এর প্রভাব : গর্ভবতী মায়েদের ওপর ভিটামিন ‘ডি’ এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই গর্ভবতী মায়েদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এ কারণে তাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন তারা। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘ডি’ দরকার। এছাড়া এদের প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম দরকার। আর ক্যালসিয়াম শরীরে প্রবেশের জন্য ভিটামিন ‘ডি’ এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল গর্ভবতী মায়েরা ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে থাকেন তাদের সন্তানদের জন্মের পর শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার : স্যামন ফিস, টুনা ফিস, দুধ, ডিম, চিজ, কমলার জুস, ইয়োগারট ইত্যাদি।

 





ads







Loading...