করোনার আড়ালে বাড়ছে যক্ষা

করোনার আড়ালে বাড়ছে যক্ষা
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ০৬ আগস্ট ২০২০, ১৩:৪৯

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত বিশ্বে থাবা বসাচ্ছে আরেক ভয়ঙ্কর সংক্রামক রোগ যক্ষা। যে রোগ ছড়িয়ে আছে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তেই। বিশ্বের সবচেয়ে ছোঁয়াচে এবং হন্তারক এ রোগ প্রতিবছরই প্রায় ১৫ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যক্ষার (টিবি) বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ঠিক করোনা ভাইরাস ঠেকানোর মতোই প্রয়োজন কন্টাক্ট ট্রেসিং, আইসোলেশন এবং অসুস্থদের জন্য কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাসব্যাপী চিকিৎসা। কিন্তু এখন করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্বকে যেভাবে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হচ্ছে, তাতে যক্ষা নির্ণয়, চিকিৎসা এবং এ রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা কম গুরুত্ব পাচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেয়া লকডাউনে মানুষের চলাফেরা, ভ্রমণসহ ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘিœত হওয়ার ফলেও যক্ষা নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণে বেড়েই চলেছে টিবি সংক্রমণ। আগামী কয়েক বছরে য²া রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে গবেষকরা আশঙ্কাও করছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর টিবির সঙ্গে সঙ্গে এইচআইভি/এইডস এমনকী ম্যালেরিয়ারও বিস্তার ঘটে চলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক ম্যালেরিয়া কর্মসূচির পরিচালক ড. পেদ্রো বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ আমাদের সব প্রচেষ্টা বিফল করে দেয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে; আমরা ২০ বছর আগে যেখানে ছিলাম সেখানেই আবার আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ।

করোনা ভাইরাস আতঙ্ক এবং ক্লিনিকগুলোতে রোগীর বাড়তি চাপের কারণে টিবি, এইচআইভি, ম্যালেরিয়ার বহু রোগীই চিকিৎসা পাচ্ছে না। তার ওপর বিমান এবং সমুদ্রপথে পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় উপদ্রব এলাকাগুলোতে ওষুধ সরবরাহও অনেকটাই কমে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবার বিশ্বব্যাপী যক্ষা, এইচআইভি এবং ম্যালেরিয়া কর্মসূচির প্রায় ৮০ শতাংশ সেবাই বিঘ্নিত হয়েছে।

বিশ্বে যত যক্ষা রোগী আছে তার প্রায় ২৭ শতাংশই ভারতের। দেশটিতে করোনা ভাইরাস মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত যক্ষা রোগ শনাক্তকরণ কমেছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। দেশটির বেশির ভাগ ক্লিনিকই এখন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে কেবল করোনা ভাইরাস শনাক্তে।

এভাবে টিবির চেয়ে করোনা ভাইরাসকে বেশি গুরুত্ব দেয়া ‘জনস্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় খুবই বোকামি হচ্ছে’ বলে মনে করেন জাতিসংঘ-পরিচালিত সংস্থা ‘স্টপ টিবির নির্বাহী পরিচালক ড. দিতিউ। তার মতে, দুটোকেই সমান গুরুত্ব দেয়া উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে-ইন্দোনেশিয়ায় টিবি ডায়াগনোসিস কমেছে ৭০ শতাংশ, মোজাম্বিক এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ৫০ শতাংশ এবং চীনে ২০ শতাংশ। মেক্সিকোতে মে’র শেষ সপ্তাহে সরকারি হিসাবে যক্ষা রোগের ডায়াগনোসিস হয়েছে ২৬৩টি, গত বছর একই সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ১০৯৭।

এভাবে যক্ষা রোগ শনাক্তকরণ কমতে থাকলে এর পরিণতি হতে পারে মারাত্মক। কারণ, করোনা ভাইরাসের মতো যক্ষা রোগও সংক্রামক। এই রোগের জীবাণুও মানুষের সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। যক্ষায় আক্রান্ত ব্যক্তি একবছরেই আরো ১৫ জনকে সংক্রমিত করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে বিশ্বের অন্তত ১২১টি দেশের ক্লিনিকে টিবি রোগী কমেছে।

এই ধারা চলতে থাকলে বিশ্বের মারাত্মক এই রোগটির বিরুদ্ধে এ যাবৎ কষ্টকর যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে তা করোনা ভাইরাসের কারণে কয়েক বছর, এমনকী কয়েক দশক পিছিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তাদের এক মূল্যায়নে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে তিন মাসের লকডাউন এবং পরের ১০ মাসে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা হলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৩ লাখ নতুন য²ারোগী যুক্ত হবে বলে ধারণা দেয়া হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুও হতে পারে ১৪ লাখ মানুষের, আশঙ্কা তাদের।

মানবকণ্ঠ/আরএস

 





ads







Loading...