গর্ভকালীন সময়ে কোন খাবার কেন নিষিদ্ধ

মানবকণ্ঠ
আছিয়া পারভীন আলী শম্পা

poisha bazar

  • ২৩ জুলাই ২০২০, ১২:৫৩

বর্তমান করোনা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যেসব মায়েরা সদ্য গর্ভধারণ করেছেন তারা অনেকেই বেশ বিপদে আছেন, না যেতে পারছেন ডাক্তারের কাছে আবার না পাচ্ছেন সঠিক পরামর্শ। গর্ভধারণ যেমন আনন্দের তেমনি সামান্য অসতর্ক বা ভুলের কারণে ঘটতে পারে যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। বিশেষ করে কিছু খাবার আছে যে খাবারগুলো গর্ভকালীন সময়ে গ্রহণ করলে সরাসরি ভ্রুণের ক্ষতি করতে পারে কিংবা ঘটতে পারে গর্ভপাত। তাই নিচের তথ্যগুলো থেকে জেনে নিন কোন খাবারগুলো গর্ভাবস্থায় একেবারে বাদ দিতে হবে আর কোনগুলো কখন এবং কী পরিমাণে গ্রহণ করা যাবে। বিস্তারিত লিখেছেন- আছিয়া পারভীন আলী শম্পা

- গর্ভকালীন প্রথম ৩ মাস যেকোনো ধরনের কলিজা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কলিজাতে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন-এ বা রেটিনল থাকে যা শিশুর জন্মগত ডিফেক্টসের কারণ হতে পারে। গর্ভকালীন ৩ মাস পার হবার পর মাসে ১ থেকে ২ বার ৭৫ গ্রাম করে কলিজা খাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে গরু নয়, মুরগির কলিজা খাওয়া উত্তম। কারণ, মুরগির কলিজাতে রেটিনল তুলনামূলক কম থাকে।

- পেঁপে যেকোনো সুস্থ মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার হলেও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ, পেঁপেতে ল্যাটেক্স নামক এনজাইম থাকে যা ইউরেনারি কন্ট্রাকশনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটাতে পারে। তাই, পুরো গর্ভকালীন কাঁচা পেঁপে বা কাঁচা পেঁপের তরকারি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। পাকা পেপেতেও ল্যাটেক্স থাকে তবে কাঁচা পেপের তুলনায় কিছুটা কম। তবে, সতর্কতা হিসাবে গর্ভকালীন উভয় ধরনের পেঁপে খাওয়া অনুচিত।

- আঙ্গুরে উচ্চমাত্রায় পেস্টিসাইড এবং রেসভারাট্রল থাকে যা মায়ের শরীরে ‘টক্সিসিটি’ তৈরি করতে পারে, যা গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর। সুতরাং, পুষ্টিকর হলেও অন্তত গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস আঙ্গুর না খাওয়া উচিত। পরবর্তীতে আঙ্গুর খেলেও লবণ পানি বা ভিনেগারে অন্তত ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে খাওয়া উচিত।

- আনারস সবার জন্য পুষ্টিকর ফল হলেও গর্ভবতী মায়েদের গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। আনারসে উচ্চমাত্রায় ব্রোলামিন থাকে যা সময়ের আগেই গর্ভপাত ঘটাতে পারে। সুতরাং পুরো গর্ভাবস্থায় আনারস পরিহার করা উচিত।

- গর্ভবতী মায়েদের জন্য আরেকটি সবজি সজিনা ক্ষতিকর বলে বিবেচিত। কারন, সজিনা একটি পুষ্টিকর খাবার হলেও এতে থাকা উপাদান ‘আলফা সিটেস্টেরল’ গর্ভবতী মায়েদের গর্ভপাত ঘটাতে পারে। তাই সজিনা আপনার খুব প্রিয় সবজি হলেও গর্ভকালীন সজিনা খাওয়ার ঝুঁকি না নেয়াই উচিত।

- একইভাবে মধু পুষ্টিকর এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করলেও মধু গর্ভবতী মায়েদের জন্য খাওয়া নিরাপদ নয়। কারণ, মধু ক্লস্ট্রডিয়াম স্পোর দ্বারা দূষিত থাকতে পারে যা ভ্রুণের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

- কাঁচা ডিম স্যালমোনেলা টাইফি দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। সুতরাং, গর্ভকালীন ডিম খুব ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে না হলে টাইফয়েড হবার ঝুঁকি থাকে। সেসাথে, কাঁচা দুধের তৈরি অর্থাৎ অপাস্তুরিত দুধের তৈরি যে কোনো খাবার লিস্টেরিয়া, ই-কোলায়, স্যালমোনেলা বা ক্যামফাইলো ব্যাক্টেরিয়া বহন করে যা বিভিন্ন ধরনের ফুড পয়জনিং ঘটাতে পারে। সুতরাং, গর্ভবতী মায়েরা দুধ খাওয়ার সময় খুব ভালোভাবে ফুটিয়ে খাবেন।

- গর্ভকালীন সময়ে আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ খাবার হলো সামুদ্রিক মাছ। কিছু মাছে উচ্চ পরিমাণে মার্কারি এবং লিস্টেরিয়া ইনফেকশনের ঝুঁকি রয়েছে যার কারণে গর্ভস্থ শিশু বা ভ্রূণের ক্ষতি হবার আশংকা রয়েছে। তাই, গর্ভকালীন ঝুঁকি এড়াতে সামুদ্রিক মাছ বাদ দেয়া উচিত।

- অনেকেই সৌন্দর্য চর্চা কিংবা পেট পরিষ্কার করার জন্য নিয়মিত এলোভেরা জুস খেয়ে থাকেন। তবে, গর্ভকালীন এলোভেরা পেলভিক হেমোরেজ ঘটাতে পারে ফলে হতে পারে গর্ভপাত। তাই ভুল করেও এসময় এলোভেরা খাওয়া উচিত নয়।

মনে রাখতে হবে যে, প্রতিটি গর্ভবতী মা একজন আলাদা মানুষ তাই সবার ক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত সব খাবার সমান ক্ষতিকর নাও হতে পারে। তবে, গর্ভকালীন কোনো ঝুঁকি না নেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে, যে খাবারগুলো ঝুঁকি সৃষ্টি করে বা গর্ভপাত ঘটাতে পারে সেগুলো একেবারে বাদ দেয়া উচিত। শুধু উপরের খাবারগুলো নয়, গর্ভকালীন বাইরের কোনো খাবার গ্রহণও ঝুঁকিপূর্ণ তাই বাইরের খাবারও এ সময় গ্রহণ করা উচিত নয়।

লেখক-আছিয়া পারভীন আলী শম্পা : পুষ্টিবিদ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads