এ সময়ের গর্ভবতী মায়েদের করণীয়

আছিয়া পারভীন আলী শম্পা

মানবকণ্ঠ
আছিয়া পারভীন আলী শম্পা - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • ২৫ জুন ২০২০, ১৪:৪৮

করোনাতে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি সব বয়সের মানুষেরই রয়েছে। তবে উচ্চ ঝুঁকিতে তারাই বেশি থাকবেন যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম। গর্ভবতী মা, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কিডনির জটিলতা রয়েছে তাদের করোনা ভাইরাসে সহজেই আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বর্তমান সময়ে গর্ভবতী মায়েদের অবস্থা যে সবচেয়ে নাজুক এবং স্পর্শকাতর সে বিষয়ে কারোই দ্বিমত থাকার কথা নয়। সুতরাং, গর্ভবতী মায়েরা করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার জন্য নিচের তথ্যগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

১. যেসব মায়েরা গর্ভবতী, তাদের সবার প্রথমেই নিজের এবং অনাগত সন্তানের কথা চিন্তা করতে হবে। এই সময়টা যথাসম্ভব নিজের বাসায় অবস্থান করা এবং নিজের পরিষ্কার পরিছন্নতার ব্যাপারে আগের চাইতে বেশি যত্নবান হতে হবে।

২. যদি বাইরে যেতেই হয় তবে মুখে মাস্ক পরিধান করুন। বাইরে থেকে ফিরে প্রথমেই হাত খুব ভালোভাবে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর পরিহিত পোশাক ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করুন। খুব ভালো হয় নিজেও যদি এন্টি-ব্যাক্টেরিয়াল সোপ এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিতে পারেন।

৩. আর এ সময় এমন জুতা পরিধান করা ভালো যেটা জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব। অথবা, যে জুতা পরে বাইরে যাওয়া হয়েছে তা জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।

৪. কোন ধরনের ঝামেলা এড়াতে গর্ভবতী মায়ের উচিত একটি নির্দিষ্ট ওয়াশ রুম ব্যবহার করা।

৫. যেহেতু বর্তমান আবহাওয়া করোনা ছাড়াও সাধারণ ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বর কাশি হতে পারে তাই জ্বর বা ঠাণ্ডা মানেই যে আপনার করোনা হয়েছে এমনটি ভেবে প্যানিক হবেন না। তবে ঠাণ্ডা লাগতে পারে এমন যে কোনো কাজ পরিহার করুন। যদি সমস্যা মনে হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

৬. স্বাভাবিক অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মোট আটবার গর্ভকালীন সময়ে ডাক্তারের কাছে যাবার পরামর্শ দেয়। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডাক্তারের কাছে যাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে প্রথম দুটি ভিজিট (৮ সপ্তাহ এবং ১২ সপ্তাহ) টেলি মেডিসিনের মাধ্যমে নিতে বলা হয়েছে। এরপর, অন্তত চারবার গর্ভবতী মাকে সশরীরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ১৬ সপ্তাহ, ২৪-২৮ সপ্তাহ, ৩২ সপ্তাহ এবং শেষ বার ৩৪-৩৬ সপ্তাহের মধ্যে।

৭. যেসব মাকে টিকা নিতে হবে এবং পাঁচ মাসে এনোমালি স্ক্যান করতে হবে তারা খুব সাবধানতার সঙ্গে হাসপাতালে যাবেন। মুখে মাস্ক, হাতে গøাভস সেই সঙ্গে ফুল সিøভ জামা পরে যাবেন। বাসায় ফিরে আসার পর হাত ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। সেই সঙ্গে পরিহিত জামা এবং জুতা স্যাভলন বা বিøচিং পাউডার মিশ্রিত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৮. প্রতিদিন নিয়ম করে রাতে ৮ ঘণ্টা এবং দুপুরে অন্তত ২ ঘণ্টা শুয়ে রেস্ট নিন। গর্ভধারণের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলে গর্ভের সন্তানের নড়াচড়া খেয়াল করুন। স্বাভাবিক অবস্থায় ১২ ঘণ্টায় গর্ভের সন্তান ১০ বার নড়বে। অর্থাৎ, সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বেবি মুভমেন্ট কাউন্ট করতে হবে। যদি কোন কারণে নড়াচড়া কমে যায় দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৯. যেসব মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আছে তারা শর্করা জাতীয় খাবার যেমন: ভাত, মুড়ি, রুটি, বিস্কিট, মিষ্টি ফল পরিমাণমতো খাবেন। যারা ইন্সুলিন নেন তারা যে পরিমাণ ইন্সুলিন নিচ্ছেন তাতেও যদি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকে তবে ইন্সুলিনের ডোজ বাড়িয়ে নিতে হতে পারে।

১০. এ সময় কোনো কিছু কাঁচা বা অর্ধ সিদ্ধ খাবার খাওয়া বাদ দিন। ফ্রিজের কোনো ঠাণ্ডা খাবার বা আইসক্রিম খাওয়া বাদ দিন।

১১. নিয়মিত প্রেশার মাপুন, যাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস আছে তারা সপ্তাহে ২-৩ দিন বাড়িতে বসে সুগার মাপুন।

১২. অনাকাক্সিক্ষত ঝামেলা এড়াতে কোথায় ডেলিভারি করবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। সেই সঙ্গে আপনার রক্তের ডোনার কে হবেন তা আগে থেকেই ঠিক রাখুন।

১৩. বর্তমানে গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে ২ বার করোনা টেস্টের কথা বলা হয়েছে। প্রথমে ২০ সপ্তাহে এবং ২য় বার ৩৬ সপ্তাহে। তাই, এ বিষয়ে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের নিয়ম কানুন জেনে নিন।

১৪. এ সময় নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। বিশেষ করে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল বাদাম নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। সম্ভব হলে প্রতিদিন একটি করে ডাব খেতে পারেন। স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং হাঁটা চলা করুন।

লেখক- আছিয়া পারভীন আলী শম্পা : পুষ্টিবিদ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads






Loading...