যে ওষুধে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন করোনা রোগীরা!

যে ওষুধে ৬ দিনেই সুস্থ হয়ে উঠছেন করোনা রোগী!
যে ওষুধে ৬ দিনেই সুস্থ হয়ে উঠছেন করোনা রোগী! - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৮ এপ্রিল ২০২০, ১১:৪০

করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। ভাইরাসের প্রথম খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল ১৯৬০ সালে একজন রোগীর মধ্যে, যিনি সর্দিতে ভুগছিলেন। করোনাভাইরাস নামটি এসেছে এর আকৃতির ওপর ভিত্তি করে। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে এই ভাইরাসটি ক্রাউন বা মুকুটের মতো দেখতে হওয়ায় এর নাম হয়েছে 'করোনা'। সেই নাম থেকে করোনার নাম কোভিড-১৯।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে পরীক্ষামূলক একটি ওষুধ প্রয়োগে আশা জাগানিয়া ফল পাওয়া গেছে। রেমডিসিভির নামের ওই ওষুধ গ্রহণের পর সাধারণ রোগীদের তুলনায় দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন আক্রান্তরা। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যেই হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি যেতে পারছেন তারা। বৃহস্পতিবার স্ট্যাট নিউজের এক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এতে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। মারা গেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২ শতাধিক মানুষ। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির কোনও প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কার হয়নি।

তবে বিশ্বজুড়ে শত শত প্রতিষ্ঠান ও গবেষকের দল টিকা তৈরিতে কাজ করছে। এর মধ্যে মানব দেহে পরীক্ষা শুরু হয়েছে বেশকিছু টিকার। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী বছরের আগে বাজারে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই কোনো টিকার। এমতাবস্থায় রেমডিসিভির ব্যবহারে রোগীদের দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠার খবর অত্যন্ত আশা জাগানিয়া।

পরীক্ষামূলক ওষুধ প্রয়োগের নেতৃত্বদানকারী এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে স্টেট নিউজ জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে খুব জড়াল শ্বাসপ্রশ্বাস সমস্যা ও জ্বর নিয়ে যে সব রোগী ক্লিনিক্যাল ট্রায়েলে অংশ নিয়েছে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তারা এক সপ্তাহের কম সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন।

এক ভিডিওর মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছে স্টেট নিউজ। ওই ভিডিওর মাধ্যমে জানানো হয়, ড. ক্যাথলীন মুল্ল্যানি নামের চিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ওই ক্লিনিক্যাল ট্রায়েলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ড. ক্যাথলীন মুল্ল্যানি বলেছেন, সবচেয়ে ভালো খবর আমাদের বেশির ভাগ রোগী সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। যেটা মহৎ। তবে আমাদের কেবল দুইজন রোগীকে হারিয়েছি।

এ বিষয়ে এখনই সিএনএনকে কোন মন্তব্য দিতে চাননি ড.ক্যাথলীন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, বিচারের জন্য আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রস্তুত হওয়ার পর মন্তব্য করবে তারা। ভয়ংকর নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যার জন্য কোন থ্যারাপির অনুমোদন দেয়া হয়নি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ভারে পরীক্ষা চালানোর জন্য কয়েটি ওষুধ অনুমোদন দেয়া হয়েছিল যার মধ্যে ‘রেমডেসিভির’।

গিলিয়েড সায়েন্সেসের তৈরি ওষুধটি খুব কম সাফল্যের সাথে ইবোলার বিরুদ্ধে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে প্রাণীদের উপর একাধিকবার গবেষণা করে দেখা গেছে যে ওষুধটি কোভিড-১৯ এর মতো করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায়ও কাজ করে। এর মধ্যে সার্স (সিভিয়ার এ্যকুট রেসপাইরেটোরী সিনড্রোম) ও মার্স (মিডিল ইস্ট রেসপাইরেটোরী সিনড্রোম) রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, ‘রেমডেসিভির’ ওষুধটি কোমিড -১৯ ভাইরাস চিকিৎসায় বেশ সম্ভাবনা জাগিয়েছে।

স্টেট নিউজ জানিয়েছে, ড. ক্যাথলীন তার পরীক্ষা নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য গত সপ্তাহে একটি ভিডিও নিয়েছিল। সেখানে তিনি বলেছেন, আমাদের বেশিরভাগ রোগী গুরুতর এবং তাদের বেশিরভাগ ছয় দিনের মধ্যে চলে যাচ্ছেন।

বিশ্ব জুড়ে ২৪০০ গুরুতর আক্রান্ত রোগীকে ১৫২ টি সাইটে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর মধ্যম বা পরিমিত লক্ষণের ১৬০০ রোগীকে ১৬৯টি হাসপাতালে পরীক্ষা করা হচ্ছে। গিলিয়েড বলছে, এ মাসের শেষের দিকেই সম্ভাব্য ফলাফল পাওয়া যাবে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads






Loading...