কলোরেকটাল ক্যান্সার কী ও কেন হয়?

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৫ মার্চ ২০২০, ১৪:১৯

মার্চ মাস কলোরেকটাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস। বিশ্বে ফুসফুস ক্যান্সারে মৃত্যুর হার বেশি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলোরেকটাল ক্যান্সার। আমাদের পরিপাকতন্ত্রের একটি অংশ বৃহদন্ত্র, যা কোলন হিসেবে পরিচিত। এর পাঁচটি ভাগ রয়েছে- এসেন্ডিং কোলন, ট্রান্সভারস কোলন, ডিসেন্ডিং কোলন, সিগময়েড কোলন এবং রেকটাম। আমাদের খাবারের অপাচ্য অংশ এখানে জমা হয়, যা পরে মল হিসেবে পায়ুপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। বৃহদন্ত্র বা কোলনের শেষ অংশ রেকটাম। এই রেকটাম অংশে ৫৫ শতাংশ ক্যান্সার ধরা পড়ে। কোলনের অন্যান্য অংশের মধ্যে এসেন্ডিং কোলন ১৫%, ট্রান্সভারস কোলন ৫%, ডিসেন্ডিং কোলন ৫%, সিগময়েড কোলন ২০%, ক্যান্সার আক্রান্ত হয়। কোলনে সৃষ্ট পলিপ থেকেই ৯৯ শতাংশ কলোরেকটাল ক্যান্সারের উৎপত্তি। সাধারণত অচিকিৎসিত পলিপ ৫-১০ বছরের মধ্যে ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে।

তবে ৩৩ শতাংশ পলিপ নির্দোষ, যা ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয় না। সাধারণত প্রাথমিক অবস্থায় কলোরেকটাল ক্যান্সার এবং পলিপের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তাই কিছু লক্ষণ যখন কোনো ব্যক্তির মধ্যে দেখা দেবে, তখনই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যেমন, কারো পায়খানার সঙ্গে কালচে লাল রক্ত যাওয়া, অথবা লাল রক্ত, পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন, যেমন, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনো ডায়রিয়া, কিংবা চিকন পায়খানা, পায়খানা হওয়ার পরও না হওয়ার অনুভূতি, পেটে ফুলা ভাব বা অস্বস্তিবোধ, গ্যাসের প্রকোপ, শরীরের ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

এছাড়া ঝুঁকি লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়, অধিক ওজন, বসা কাজের অভ্যাস, উচ্চ চর্বি গ্রহণ, আঁশ জাতীয় খাবার কম খাওয়া, অ্যালকোহল খাওয়ার অভ্যাস, রক্তশূন্যতা, পরিবারে কলোরেকটাল ক্যান্সারের ইতিহাস, বৃহদন্ত্রে পলিপের ইতিহাস, মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার, ওভারিয়ান ক্যান্সার কিংবা জরায়ু ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে কলোরেকটাল ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৫০ বছরের অধিক বয়সী পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে এ রোগের সম্ভাবনা বেশি। বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৬.৫ লাখ মানুষ কলোরেকটাল ক্যান্সারে মারা যায়। কলোরেকটাল ক্যান্সার প্রতিরোধে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।

অধিক হারে আঁশজাতীয় খাবার খেতে হবে। সব ধরনের ফল-ফলাদি এবং সবুজ শাকসবজি বেশি বেশি খেতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। আইসক্রিম বা ফ্রিজের খাবার কিংবা ঠাণ্ডাজাতীয় অন্যান্য পানীয় পরিহার করতে হবে। নিয়মিত মধু (চাকের) খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। মনে রাখবেন, মধু বর্তমানে অ্যান্টিক্যান্সার ভ্যাকসিন হিসেবে বিশ্বের অনেক দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় রসুন কলোরেকটাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় বলে জানা যায়। আর ধূমপান অবশ্যই বর্জনীয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে থাকেন। ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা, কলোনোস্কপি, সিটিস্ক্যান ইত্যাদি বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়। সার্জারি, রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি ইত্যাদি আধুনিক চিকিৎসা হিসেবে পরিচিত। চিকিৎসা প্রটোকল নির্ধারণে স্টেজিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করে থাকেন স্টেজিংয়ের ওপর নির্ভর করে। মনে রাখতে হবে, রোগ যদি প্রাথমিকভাবে ধরা পড়ে তাহলে চিকিৎসা সফলতার হার ভালো। সমন্বিত পদ্ধতিতে আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাও গ্রহণ করা যেতে পারে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় বহু রোগী ভালো ফল পাচ্ছেন বলে আমরা বিভিন্ন গবেষণায় দেখতে পাচ্ছি।

অপচিকিৎসা পরিহার করুন : সমাজে বিভিন্নভাবে রোগীদের প্রতারণার মাধ্যমে অপচিকিৎসা দেয়া হয়। হোমিওপ্যাথির নামে এবং হারবাল চিকিৎসার ছদ্মাবরণে পায়ুপথের নানা জটিলতায় ক্ষতিকারক ওষুধ প্রয়োগের ইতিহাস পাওয়া যায়। এমনকি অপ্রয়োজনীয় সার্জারির কারণেও রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই রোগীকে চিকিৎসা গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসায় রোগী ভালো ফল পেতে পারেন।

লেখক: অধ্যাপক ডা. জিএম ফারুক, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার সোসাইটি।






ads
ads