নিপা ভাইরাস ‘হুমকি’ হয়ে উঠতে পারে, সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৪১,  আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৭

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বহুল পরিচিত বাদুড়বাহিত নিপা ভাইরাস ‘মারাত্মক মহামারীর’ কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন ।

১৯৯৯ সালে প্রথম মালয়েশিয়ায় শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাস পরবর্তীতে ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপা আক্রান্তদের চিকিৎসায় এখনও কোনো ওষুধ কিংবা টিকা উদ্ভাবন না হওয়ায় এতে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ।

সোমবার সিঙ্গাপুরে শুরু হওয়া নিপা ভাইরাস বিষয়ক এক সম্মেলনে সহ-আয়োজক কোয়ালিয়শন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস- সিইপিআই’র প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হ্যাচেট নিপা ভাইরাসের হুমকি সম্পর্কে বলেন, “এটি (নিপা ভাইরাস) শনাক্তের পর ২০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু নিপা ভাইরাসের কারণে তৈরি হওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি সমালানোর মতো পর্যাপ্ত উপকরণ এখনও বিশ্বে নেই।”

বাহক: নিপা ভাইরাস ছড়ায় মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এই সময়টাতেই খেঁজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। আর বাদুড় গাছে বাঁধা হাড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে বলে ওই রসের সঙ্গে তাদের লালা মিশে যায়। সেই বাদুড় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে এবং সেই রস খেলে মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এ ভাইরাস। আক্রান্ত মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে এ রোগ।

রোগলক্ষণ: এ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর ও মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এক পর্যায়ে খিচুনিও দেখা দিতে পারে। মস্তিস্কে ভয়াবহ প্রদাহ দেখা দেয়।

সাবধানতা: নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে খেজুর গুড় ও রস, আখের রস, পেঁপে, পেয়ারা, বরইয়ের মতো ফল না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রোগতত্ত্ববিদ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী ও নাগরিক সংগঠন নিয়ে ২০১৭ সালে গড়ে ওঠা সিইপিআই মূলত নতুন, অজ্ঞাত রোগের প্রতিষেধক তৈরি ও উন্নয়নে কাজ করে থাকে।

সংগঠনটি যেসব রোগ নিয়ে কাজ করছে, তার মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে নিপা, যে ভাইরাসটি মূলত বাদুড় এবং শূকরের মাধ্যমে ছড়ায়। তাছাড়া এই ভাইরাস সরাসরি মানুষের মাধ্যমে এবং দূষিত খাবার থেকেও ছড়াতে পারে।

শনাক্তের দুই বছরের মধ্যেই ২০০১ সালে বাংলাদেশে নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে মেহেরপুর, নওগাঁ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও রংপুরে মানব দেহে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়।

২০১১ সালে বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। গত বছর ভারতের কেরালায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।

রিচার্ড হ্যাচেট বলেন, “নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ, তবে এটি মারাত্মক মহামারীর রূপ নিতে পারে। কারণ এই ভাইরাসের বাহক টেরোপাস (ফ্লাইং ফক্স নামেও পরিচিত) বাদুড় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায়, যেখানে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস।”

তাছাড়া যেহেতু মানুষের মাধ্যমেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে, সেক্ষেত্রে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটির ছড়িয়ে পড়াটাও খুব স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মানবকণ্ঠ/জেএস





ads







Loading...