গ্যাস্ট্রিক আলসারের স্থায়ী চিকিৎসা

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:১০

বিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত যে কেউ পেপটিক আলসার বা পাকস্থলীর ক্ষত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণের ফলে অন্ত্রের দেয়ালে এই ক্ষতগুলো তৈরি হয়। খাদ্যনালি, পাকস্থলী, ডিওডেনাম ব১া অন্ত্রের শুরুর কিছু অংশে আলসার হতে পারে। প্রধানত পাকস্থলী বা ডিওডেনামেই আলসার দেখা দেয়, সে-অনুযায়ী আলসার দুই ভাগে বিভক্ত: (১) গ্যাস্ট্রিক আলসার বা পাকস্থলীর আলসার এবং (২) ডিওডেনাল আলসার। রোগ-প্রক্রিয়া মোটামুটি একইরকম হলেও এদের উপসর্গে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। লক্ষণভিত্তিক নিয়মিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় এ রোগ নিরাময় করা সম্ভব।

গ্যাস্ট্রিক আলসার: সাধারণ মানুষের কাছে এটি গ্যাস্ট্রিক রোগ নামে পরিচিত। ৪০-৬০ বছর বয়সের মানুষ এই রোগের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি।
গ্যাস্ট্রিক আলসারের লক্ষণাবলী: বুক জ্বালা, বদহজম বা অজীর্নতা, পেটে বেদনা, রক্তবমি বা রক্তস্রাব, টক ঢেকুর, বমির রক্ত টকটকে লাল, পেট বেদনা হঠাৎ করে প্রচণ্ড আকারে দেখা দেয়, পেটের খাদ্য বমি হয়ে গেলে ব্যথার উপশম হয়। শরীরে পানি স্বল্পতা থাকে এবং জ্বর থাকে।

ভাবী ফল: নতুন অবস্থায় রোগী সহজে আরোগ্য হয় কিন্তু পুরাতন অবস্থায় ক্যান্সারের পরিণত হতে পারে বা ছিদ্র হলে পেরিটোনাইটিস হতে পারে।

চিকিৎসা: আর্সেনিকাম এলবাম, এনার্কাডিয়াম ওরিয়েন্টালিস, আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম, ক্যাডমিয়াম সালফ, ক্রিয়োজোট সিকেলিকর, ইপিকাক , হাইড্রাসটিস, হেমামেলিস, মিলিফোলিয়াম, নাক্সভম ইত্যাদি হোমিওপ্যাথি ওষুধ সময় মতো সেবনে গ্যাস্ট্রিক আলসার ভালো হয়।

ডিওডেনাল আলসার: খাদ্য পাকস্থলী হতে নিচের দিকে অপেক্ষাকৃত সরু যে নালিতে প্রবেশ করে সেই বাকা অংশ টিকে ডিওডেনাল বলে। সেই ডিওডেনালের মিওকাস মেমব্রেন ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হলে তাহাকে ডিওডেনাল আলসার বলে। সাধারণত ৩০-৪০ বছর বয়সের মানুষ এ রোগে বেশী আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে যে সকল পুরুষ মানুষের রক্তের গ্রুফ ০(+) তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রোগের মূল কারণ এবং আনুষঙ্গিক কারণ: গ্যাস্ট্রিক আলসারের ন্যায়।

ডিওডেনাল আলসারের লক্ষণগুলো: খাবার গ্রহণের ১-৩ ঘণ্টা পর পেটে ব্যথা শুরু হয়। রক্ত বমি খুব একটা হয় না, কখনও হলেও রক্তের বর্ণ কালো দেখায়। পায়খানার সহিত কালো বর্ণের রক্ত যায় বা রক্ত পায়খানা। জ্বালা যুক্ত ব্যথা। রোগীদেও পেটে ক্ষিদে পেলেই ব্যথা বৃদ্ধি হয়। পেটে ব্যথার সময় মুখে পানি আসে বুক জ্বালা করে।
ডিওডেনাল আলসাররের চিকিৎসা: আর্সেনিকাম এলবাম, এনার্কাডিয়াম, আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম, ক্যাডমিয়াম সালফ, ক্রিয়োজোটাম, সিকেলিকর।

লেখক: ডা. মো. রুকুন উদ্দিন।
প্রভাষক, উত্তরা হোমিপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads






Loading...