নতুন আতঙ্ক ‘গোদ রোগ’

নতুন আতঙ্ক ‘গোদ রোগ’
নতুন আতঙ্ক ‘গোদ রোগ’ - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২১

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমলেও কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়েছে। যার মাধ্যমে অসুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ফাইলেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। ‘গোদ’ নামে পরিচিত এই রোগের কারণে হাত-পা ফুলে যায় ও ঘনঘন জ্বর হয়। রোগটি এশিয়া আফ্রিকা, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ক্রান্তীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলে দেখা যায়।

এসব অঞ্চলের ১২ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং আরো ১০০ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে আছে। যেসব অঞ্চলে এই রোগটি বিদ্যমান সেখানকার শতকরা দশ ভাগ নারী হাত বা পা ফোলায় আক্রান্ত এবং শতকরা পঞ্চাশ ভাগ পুরুষ জননাঙ্গের বৈকল্যে আক্রান্ত হতে পারেন।

পৃথিবীতে তিরাশিটি দেশে রোগটি আছে (এনডেমিক)। তার মধ্যে উনচল্লিশটি দেশ আফ্রিকায়, আমেরিকার সাতটি। এর মধ্যে ব্রাজিল, কোস্টারিকা, ডমিনিকান রিপাবলিক, গায়ানা, হাইতি, সুরিনাম এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশে তিনটি। মিসর, সুদান এবং ইমেন।

এশিয়াতে বাংলাদেশ, ক্যামবোডিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, পূর্ব তিমুর এবং ভিতনামের নাম রয়েছে।

বাংলাদেশের উত্তরাংশের তেরটি জেলায় এই রোগটি দেখা গেছে। দেশের দুই কোটি মানুষ এই রোগের ঝুঁকিতে আছেন, এক কোটি মানুষের দেহে মাইক্রোফাইলেরিয়া আছে এবং আরো এক কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে কিছু না কিছু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে।

ডিএসসিসি বলছে, কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৮ অক্টোবর থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। তবে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে নগরবাসীর। ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে সে সময় যেভাবে মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হয়েছিল তা এখন চোখে পড়ছে না। ফলে মশার কিউলেক্স জাতের উপদ্রব বেড়েছে। কিউলেঙ মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এখনই জোর দিতে হবে। মশকনিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

কিউলেঙ মশার উপদ্রব বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ২৮ অক্টোবর থেকে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। প্রতিদিন পাঁচটি করে ওয়ার্ডে জরিপ করা হচ্ছে। জরিপকারী কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, গোদ রোগ বা ফাইলেরিয়াসিস এক প্রকার পরজীবী ঘটিত রোগ। এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের সংক্রামক রোগ যা সূতার মতো একজাতের গোলকৃমি দ্বারা সংঘটিত হয়। উচেরেরিয়া ব্যানক্রফটি নামক জীবাণু এই রোগের জন্য দায়ী।

মূলত কিউলেক্স মশার কামড়ে এই জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে তবে অ্যানোফিলিস ও এডিস মশার কামড়ে ও এই পরজীবীর জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। প্রথমে অল্প মাত্রার জর সেই সাথে লিম্ফ নালী বরাবর ব্যথা এবং লাল হয়ে যাওয়া। কিছুদিন পরে আক্রান্ত অঙ্গ ফুলে যায় এবং এটা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে যা এক সময় বিশাল আকৃতি ধারণ করতে পারে। সাধারণত পা, অণ্ডকোষসহ অন্যান্য অঙ্গ ও এতে আক্রান্ত হতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তনের চামড়া ফুলে পুরু হয়ে খসখসে হয়ে ওঠে। দেখতে হাতির চামড়ার মতো মনে হয় বলে গোদ রোগের অন্য নাম এলিফ্যানটিয়াসিস।

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি অথবা লিম্ফ নোড কালচার করে এর জীবাণু নিশ্চিত করা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডাইইথাইল কার্বামাজেপিন নামক ঔষধ সেবন করতে হয়। ২ বছরের কম শিশুদের ও গর্ভবতী মহিলাদের এই ঔষধ সেবন করা যাবে না।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads
ads





Loading...