শিশুর ডায়রিয়া হলে করণীয়

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৫০

শিশুর ডায়রিয়া একটি প্রচলিত সমস্যা। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। ডায়রিয়া হলে করণীয় কী, এ বিষয় নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন-


শিশুর ডায়রিয়া আমরা কখন বলব?

শিশুরা সাধারণত এক থেকে দুই বার পাতলা পায়খানা করতে পারে। তবে এটি ডায়রিয়া নয়। যদি একটি শিশু দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার পাতলা পায়খানা করে তখনই তাকে আমরা ডায়রিয়া বলব। সাধারণত দুই বছরের নিচের বাচ্চাদের ডায়রিয়া ভাইরাস দিয়ে হয়। ভাইরাসের মধ্যে রোটা ভাইরাস বেশি হয়। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়া দিয়েও হতে পারে। একটু বড় বাচ্চাদের সাধারণত ব্যাকটেরিয়া দিয়েই হয়। এ ছাড়া অন্য অনেক কারণেই ডায়রিয়া হতে পারে।

মলের ধরন দেখে কি এটি বোঝা যায় কী কারণে ডায়রিয়া হচ্ছে?

ভাইরাল ডায়রিয়া যদি হয়, পায়খানার রংটা সাদাটে হবে। অনেক বেশি পরিমাণে হবে। অনেক সময় অনেক মারাত্মক আকারও ধারণ করতে পারে। তবে ব্যাকটেরিয়াল ডায়রিয়াতে সাধারণত দেখা যায়, মলের রংটা হয়তো পরিবর্তন নাও হতে পারে। শুধু পাতলা হতে পারে, পানি থাকতে পারে এবং অনেক সময় এর সঙ্গে রক্ত মিশে থাকতে পারে।

পানিশূন্য তা হয়েছে, এটি কীভাবে বুঝব?

যখন শিশুটি খুব খিটখিটে হয়ে যাবে, বিরক্ত থাকবে খুব, অথবা শিশুটি যদি একদম নেতিয়ে পড়ে, চোখ যদি গর্তের ভেতর ঢুকে যায়, চামড়া কুঁচকে যায়, টেনে ছেড়ে দিয়ে খুব ধীরে এটি যাচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে শিশুটির পানিশূন্যতা হচ্ছে। এ ছাড়া পাতলা পায়খানার সঙ্গে জ্বর চলে আসতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, ডায়রিয়ার সঙ্গে রক্তও আসতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, খিঁচুনিও চলে আসতে পারে। তো এসব উপসর্গ যখন দেখবে, তখন মা-বাবাকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে এবং অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

পানিশূন্যতা হওয়ার আগে কী কী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে?

যখনই মা দেখবে তার শিশুটি তিন থেকে চার বার পাতলা পায়খানা করছে, তখন মাকে সতর্ক হতে হবে, যাতে তার পানিশূন্যতা না হয়। কারণ, যখনই পাতলা পায়খানা হয়, তখনই শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। সেজন্য সে খুব দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। তো এটি যাতে না হয়, এ জন্য দুই থেকে তিনবার পায়খানা করলেই তাকে খাবার স্যালাইন দিতে হবে। এটি ওআরএস নামে পরিচিত। ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন যেটি ডব্লিউএইচও অনুমোদিত, যেকোনো ব্র্যান্ডের খাওয়ানো যাবে। সঠিকভাবে গুলিয়ে তাকে খাওয়াতে হবে।

খাবার স্যালাইন বানানোর সঠিক নিয়ম কী?

খাবার স্যালাইনের যে প্যাকেটগুলো পাওয়া যায়, আধা লিটার ফুটন্ত ঠাণ্ডা পানির মধ্যে গুলিয়ে নিতে হবে। কখনো অল্প একটু স্যালাইন অল্প একটু পানি, কখনো পানি বেশি, পানি কম, স্যালাইন বেশি বা কম এভাবে গুলানো যাবে না। একদম আধা লিটার পানিতে এক প্যাকেট স্যালাইন গুলাতে হবে। পানিটি হতে হবে বিশুদ্ধ। ফুটানো ঠাণ্ডা পানিতে এক প্যাকেটের সম্পূর্ণটি দিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে। এরপর একে ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে। এটা আট থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত রাখা যায়। একটু আগেভাগে এটি খাইয়ে দিতে হবে। ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে খাওয়ানো ভালো। এরপর যদি শেষ না হয় ফেলে দিতে হবে। আবার নতুন করে বানাতে হবে।
শিশুদের খাবার স্যালাইনের প্রতি একটি অনীহা থাকে। এ ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কীভাবে পূরণ করবে?

খাবার স্যালাইন যেটি ওআরএস, এছাড়া কিছু স্যালাইন বাজারে পাওয়া যায়। সেগুলো হলো, টেস্টি স্যালাইন বা রাইস ওআরএস। সে যদি সাধারণ স্যালাইন খেতে না চায়, সেক্ষেত্রে এগুলোও দেওয়া যাবে। তবে শুধু পানি খুব বেশি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাহলে ডায়রিয়ার জন্য শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। শুধু পানি দিলে পানিশূন্যতা পূরণ হবে, তবে লবণের ঘাটতি পূরণ হবে না। শুধু পানি বেশি খাওয়ানো হলে ডায়রিয়া বেড়ে যেতে পারে।

একটু বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় দেখি মা-বাবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছু ওষুধ দিয়ে থাকেন। এগুলো দেয়ার কোনো প্রয়োজন আছে কি?

এটা আসলে দেয়া উচিত না। ডায়রিয়া বন্ধ করার কোনো ওষুধ দেয়া আসলেই উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে শিশুর পেট ফুলে যেতে পারে। ডায়রিয়া হবে, তবে পানিশূন্যতা যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বলা হয় যে বমিও যদি করে দেয়, তাকে আবার খাবার স্যালাইনটাই খেতে বলার জন্য। আর যদি এমন হয়, খুব বেশি বমি হচ্ছে, তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে আইভি ফ্লুইড দিতে হবে।

মানবকণ্ঠ/জেএস





ads






Loading...