প্রোস্টেট সমস্যায় করণীয়

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল


poisha bazar

  • ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৩৯

প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির ফলে প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়। একে বলে প্রোস্টাটিজম। আর এ ধরনের প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধিকে বলে বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপার প্লাাসিয়া বা বিপিএইচ। বিপিএইচ হচ্ছে পুরুষদের সবচেয়ে সাধারণ বিনাইন (বিপজ্জনক নয় এমন) টিউমার। এটি পঞ্চাশ বছরের বেশি বয়সী বেশিরভাগ পুরুষের প্রস্রাবসংক্রান্ত কিছু উপসর্গের জন্য দায়ী। ধারণা করা হয় যে, ৮০ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই ২০-৩০ শতাংশ পুরুষের বিপিএইচের জন্য মেডিকেল অথবা সার্জিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

প্রোস্টাটিজমের কারণ: প্রোস্টেট গ্রন্থি হচ্ছে পুরুষের একটি যৌনগ্রন্থি যা প্রজননের জন্য গুরুত্বপ‚র্ণ। এটি মূত্রথলির গলার চারদিকে ঘিরে থাকে। দেখতে আখরোটের মতো। মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রোস্টেট গ্রন্থিও বড় হতে থাকে। এই নির্দোষ বৃদ্ধির ফলে আখরোটের ভেতরকার ছিদ্রটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়। এ ধরনের প্রতিবন্ধকতামূলক প্রস্রাবের উপসর্গগুলোকে প্রোস্টাটিজম বলে।

প্রোস্টাটিজমের উপসর্গ: বিপিএইচের জন্য প্রতিবন্ধকতামূলক প্রস্রাবের উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছেÑপ্রস্রাব করতে দ্বিধাগ্রস্ততা, প্রস্রাবের গতি ও পরিমাণ কমে যাওয়া, প্রস্রাব করার পর মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভ‚তি এবং থেমে থেমে প্রস্রাব হওয়া। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছেÑ ঘন ঘন প্রস্রাব করা, রাতের বেলা প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব করতে প্রবল ইচ্ছা ও কখনো প্রস্রাব আটকে যাওয়া।
প্রোস্টাটিজম রোগ নির্ণয়: অনেক পুরুষের বিভিন্ন মাত্রার প্রোস্টাটিজম থাকে। সামান্য উপসর্গের মধ্যে থাকতে পারে প্রস্রাব করার সময় মাঝে মধ্যে প্রস্রাবের থলি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া; আবার অধিক গুরুতর উপসর্গের মধ্যে থাকতে পারে প্রস্রাবের থলিতে প্রস্রাব সম্পূর্ণ আটকে যাওয়া। আপনার চিকিৎসক আপনাকে প্রশ্ন করতে পারেন, আপনি কতটা খালি করেন কিংবা তিনি আপনার প্রোস্টাটিজম আছে কিনা তা দেখতে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিতে পারেন। তিনি তাৎক্ষণিক আপনার পায়ুপথে আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন এবং রক্ত পরীক্ষা করতে দিতে পারেন প্রোস্টেট ক্যান্সার দেখার জন্য।

প্রোস্টাটিজমের চিকিৎসা: যেহেতু অসংখ্য পুরুষের প্রোস্টাটিজমের কিছু উপসর্গ থাকে, তাই এটা সিদ্ধান্ত নেয়া বেশ কঠিন যে, কাকে চিকিৎসা দিতে হবে এবং কীভাবে চিকিতৎসা দিতে হবে। একবার চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে প্রথমেই বিবেচনা করতে হবে ট্রান্স ইউরেথ্রাল রিসেকশন অব দ্য প্রোস্টেট (টিইউআরপি)। এ ব্যাপারে এটা একটি শল্য চিকিৎসা পদ্ধতি যা বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মূত্রনালি (লিঙ্গ) দিয়ে একটি নল ঢুকিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী প্রোস্টেট টিস্যুর অংশকে কেটে আনা হয়। বছরের পর বছর ধরে এটাই হচ্ছে একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। প্রোস্টাটিজমের জন্য টিইউআরপি হচ্ছে এখন পর্যন্ত চমৎকার চিকিৎসা ব্যবস্থা। যদিও এটার কিছু কিছু ঝুঁকি রয়েছে। সম্প্রতি ওষুধ দিয়েও প্রোস্টাটিজমের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এসব নতুন ওষুধের কিছু ওষুধ মূত্রথলির গলাকে শিথিল করে তুলে, অন্য ওষুধ প্রোস্টেট গ্রন্থিকে সঙ্কুচিত করে। সাধারণভাবে এসব ওষুধ কার্যকর কিন্তু টিইউআরপির মতো অতটা কার্যকর নয়।

এখন প্রোস্টাটিজমের চিকিৎসাতে অন্য পদ্ধতিও ব্যবহƒত হচ্ছে। প্রোস্টেট গ্রন্থি খুব বেশি বড় হয়ে গেলে ওপেন সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা করতে হবে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে পেট কেটে অপারেশন করতে হবে। বর্তমানে লেজার সার্জারির মাধ্যমেও প্রোস্টেটের চিকিৎসা করা হচ্ছে এবং তার ফলাফলও সন্তোষজনক। নতুন আরেকটি পদ্ধতি বেরিয়েছে যার নাম ‘ভ্যাপোরাইজেশন।’ বিপিএইচের রোগীদের প্রস্রাব করার সময় এত কষ্ট পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। অনেক ধরনের চিকিৎসা রয়েছে। কোন রোগীর জন্য কোন চিকিৎসা প্রযোজ্য হবে সেটা আপনার চিকিৎসকই নির্ধারণ করে দেবেন।

লেখক: ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
স্বাস্থ্য নিবন্ধকার, লেখক এবং সহযোগী অধ্যাপক,
অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল




Loading...
ads





Loading...