বিশ্বকাপ-২০২২

বিশ্বকাপে প্রথমবার সুইজারল্যান্ডকে হারালো ব্রাজিল


  • মো. মোজাহিদুল ইসলাম নয়ন
  • ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫:১৩

বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ন্যূনতম জয় পেয়েছে ব্রাজিল। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেছে তিতে’র দল। এ যাত্রায় ব্রাজিল জয় পেয়েছে মাত্র ১-০ গোলে। বলা যায় অনেকটা কষ্টার্জিতই। খেলার ৮৩ মিনিটে যখন কাসেমিরা ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোড়ালো শর্টে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তখন ব্রাজিল খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাস দেখে বোঝা গেছে ম্যাচটি কতোটা কঠিন ছিল তাদের জন্য।

যাহোক, শেষমেষ খেলার বাকি সময়ে আর কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি। তিতে’র দলে আপাতত স্বস্তি। ফুরফুরে মেজাজে তারা গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচ অপেক্ষাকৃত দূর্বল দল ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে।

নেইমারের ইনজুরি এবং তার সম্ভাব্য অনুপস্থিতি নিয়ে যে অস্থিরতা তা তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে অনেকটাই কেটে গেছে। দ্বিতীয় ম্যাচটিতে কোনো জটিল হিসাব-কিতার না থাকায় কোচ পরবর্তী খেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়ে নিতে পারবে। আবার অন্যদিকে দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হওয়ার আগেই নিশ্চয়ই নেইমারও সুস্থ হয়ে উঠবে। সেদিক থেকে বলা যায়-ব্রাজিল শিবিরে আপাতত কোনো টেনশন নেই। খেলায় ব্রাজিল দলের নিকট সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তারা যে ছান্দসিক ফুটবল খেলে এবং তাতে যে সমন্বিত গতি থাকে তার অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল। ম্যাচের প্রথম দিকে তাদের যথেষ্ট আড়ষ্ট মনে হয়েছে।

বিশেষ করে আক্রমণে যেতে ব্রাজিল দল অনেকটা সময় নিয়েছে। তম্মধ্যে সুইজারল্যান্ড কিন্তু শুরু থেকেই স্বাচ্ছন্দে খেলতে থাকে। কিন্তু গোলরক্ষায় আলিসন, রক্ষণের কান্ডারি অভিজ্ঞ থিয়াগো সিলভা তার পরের ধাপে কাসেমিরো, ফ্রেড, মার্কিনিউস, রাফিনহাদের ফাঁকি দিয়ে সুইসরা তেমন কোনো জোরালো সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। একটা পর্যায়ে সুইজারল্যান্ড সামলে রক্ষণ সামনে মাঝমাঠের দখল নেয়ার দিকে মনোযোগী হয়। আর এই সুযোগে ব্রাজিলও প্রাথমিক অস্বস্থি কাটিয়ে আক্রমণে যেতে শুরু করে। প্রথমার্ধের অনেকটা সময় ব্রাজিল যে সাধারণ এবং ধীরগতির ফুটবল খেলেছে তার অন্যতম কারণটি হয়ত দলের প্রধান খেলোয়াড় নেইমারের অনুপস্থিতি। নেইমারকে আক্রমণের কেন্দ্রে রেখে রিচার্লিসন, মার্টিনেলি, ভিনিসিউসদের নিয়ে ব্রাজিল দলের যে বুনিয়াদি আক্রমণভাগ তা তার অনুপস্থিতিতে নিশ্চিতভাবেই ছেদ পড়েছে। প্রথমদিকে রাফিনহাকে কিছুটা নীচে রেখে একদিকে রিচার্লিসন আর অন্যদিকে ভিনিসিউসকে দিয়ে আক্রমণে যায় ব্রাজিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচের মতো এ খেলায় রিচার্লিসন তেমন সুবিধা করতে পারেনি।

হতে পারে, প্রথম ম্যাচে তার অতিমানবীয় বাইসাইকেল কিকে গোল এবং ওভারঅল পারফরমেন্সকে সুইসরা বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে তাকে ঠেকিয়ে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে। বলা যায় এক্ষেত্রে তারা অনেকটাই সফল হয়েছে। অন্যদিকে, সময় যতো গড়িয়েছে ভিনিসিউস ততই যেন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে সুইসদের জন্য। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে একটা সময় তো মুহূর্মূহু আক্রমণে সুইস রক্ষণদেয়াল কাঁপিয়ে দিয়েছিল। একটা সময় খেলার ৬৭ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে একক আক্রমণে গোলও করে ভিনিসিউস কিন্তু ভিডিও রিভিউতে তা বাতিল হয়ে যায়। সেই গোল বাতিল হলে ব্রাজিল শিবির কিছুটা ধাক্কা খায়। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে ব্রাজিল নিয়মিতই আক্রমণে যেতে থাকে কিন্তু গোল পাচ্ছিল না। শেষমেষ দলের অন্যতম ভরসা এবং তর্কসাপেক্ষে সময়ে অন্যতম মিডফিল্ডার কাসেমিরো তার জাত চেনান। একটি দর্শনীয় গোলে দলকে স্বাস্থির জয় এনে দেয়।

দিনের প্রথম খেলায় ঘানা ও দক্ষিন কোরিয়ার মধ্যকার খেলাটি ছিল তীব্র প্রতিদ্বদ্বতাপূর্ণ। কেউ কেউ তো বলছেন-এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের আসরের সেরা খেলা ছিল সেটি। প্রথমার্ধে ঘানা দু’গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যখন যায় তখন তাদের চিন্তাও হয়তো ছিল না যে দ্বিতীয়ার্ধে কোরিয়া এমন ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হবে। যাহোক, দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে ৬৫-৬৮ মিনিটের তিন মিনিটের মধ্যে অসাধারণ দলীয় সমন্বয় দেখিয়ে পর পর দুটি গোল দিয়ে খেলায় সমতা নিয়ে আসে। খেলায় দেখা দেয় তীব্র উত্তেজনা। মাঠের দর্শক এবং দলীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে যে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেখা যায় তা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি দিক। কিন্তু এমন একটি উজ্জীবিত সময়ে কোরিয়া যখন আরও এগিয়ে যাওয়ার দিকে যাচ্ছিল তখনই হঠাৎই আবারও পিছিয়ে পড়ে। ফলে, বাকি সময়ে ঘানা’র ডি-বক্সে বার বার আক্রমন শানিয়েও জয়বঞ্চিত থেকে যায়। ঘানা জিতে যায় ৩-২ গোলে।

দিনের শেষ খেলায় উরুগুয়েকে ২-০ গোলের সুষ্পষ্ট ব্যবধানে জিতে পর্তুগালও দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। এই ম্যাচে রোনালদো অনেকটা নিশপ্রভ থাকলেও দলের অন্যতম খেলোয়াড় ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নান্দো সিলভা ছিল সপ্রতিভ। দলের প্রথম গোলটি প্রাথমিকভাবে রোনালদোর মনে হলেও ফিফা তাদের অফিসিয়াল পেজে গোলটি ফার্নান্দেজের বলে ঘোষাণা করেছে। এই গোল নিয়ে যথারীতি শোরগোলও শুরু হয়েছে। ফার্নান্দেজ বলেছে গোলটি রোনালদোর আবার রোনালদোও বলছে বল তার মাথা ছুঁয়ে জালে জড়িয়েছে। কিন্তু ফিফা’র ব্যাখ্যা হল-বল মাথা ছুঁয়ে গেলেও তা বলের গতি পরিবর্তন করেনি। ফলে অফিসিয়ালি গোলটি ফার্নান্দেজের নামের রেকর্ড হবে।

খেলায় উরুগুয়ে ভালোই খেলেছে কিন্তু গোল পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পাওয়ার আশায় অভিজ্ঞ স্টাইকার লুইস সুয়ারেজকে নামিয়ে গোলের আশায় খেলতে থাকে কিন্তু অপরদিকে পর্তুগাল রোনালদোকে উঠিয়ে নিয়ে রক্ষণের শক্তি বাড়ায়। আক্রমণে মনোযোগ বেশি থাকায় পর্তুগাল ফিরতি আক্রমণে আবারও এগিয়ে যায়। এবারও ব্রুনো ফার্নান্দেজ। উরুগুয়ে শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হয়।

লেখক: অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন সন্ধানী ও ক্রীড়া বিশ্লেষক।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar