স্পেনের সাথে ড্র করে টিকে রইল জার্মানির আশা


  • মো. মোজাহিদুল ইসলাম নয়ন
  • ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৩:৫৬

যে কয়েকটা ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে ঘটন-অঘটন কিছুটা হয়েছে। ই-গ্রæপের প্রথম ম্যাচে জাপান যেভাবে জার্মানিকে হারালো সেই তেজ কিন্তু কোস্টারিকার বিরুদ্ধে দেখা গেল না। গতকাল তারা বরং ০-১ গোলে হেরে গেল। আর সেদিক থেকে দেখলে কোস্টারিকাও কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে যেভাবে নাকানিচুবানি খেয়েছে সেই ধাক্কাটা কিন্তু তারা ঠিকই সামাল দিয়েছে। আর এফ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে কানাডাকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়াও কিন্তু ঘুরে দাঁড়ালো।

প্রথম ম্যাচে গতবারের রানারআপ দলটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল মরক্কোর বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিল। সেদিক থেকে এ দুটি ম্যাচের মধ্যে বেশ সাদৃশ্য পাওয়া যাচ্ছে। দুটিতেই একদল প্রথম যাত্রায় যা করেছে দ্বিতীয়বারে কিন্তু ভিন্নরূপে আবির্ভূত হলো। গত তারিখের খেলায় যদি শক্তির বিচার করা যায় তাহলে ক্রোয়েশিয়ার জয় প্রত্যাশিতই ছিল। তাদের দলে রয়েছে লুকা মদরিচ, পেরিশিচসহ আরও কয়েকজন তারকা। এছাড়া তারা গত আসরের রানারআপ। অপরদিকে কানাডা দলে তেমন কোনো তারকা খেলোয়াড় নেই বললেই চলে। কিন্তু খেলার শুরুতে কানাডাই কিন্তু এগিয়ে গিয়েছিল। তারা এই অগ্রগামিতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। এক গোলে পিছিয়ে পড়ে ক্রোয়েটরা আক্রমণের ধার বাড়ায় এবং একের পর এক আক্রমণ করে কানাডার রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।

দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং নানা হিসাব নিয়ে খেলতে নামে ফুটবলের অন্যতম ফেভারিক জার্মানি ও স্পেন। যদিও এই ম্যাচে নামার আগে দুই দলের হিসাব-কিতাব অনেকটাই ভিন্ন ছিল। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে জাপানের কাছে হেরে গিয়ে জার্মানি যে জটিল পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচে পড়ে যায় তেমন কোনো জটিলতা কিন্তু স্পেনের দিকে ছিল না। তারা বরং কোস্টারিকাকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে অনেকটা খোশমেজাজে খেলতে নামে। খেলার শুরু থেকে গাভি, তোরেস, এসেনসিও, প্রেদির মতো তরুণ খেলোয়াড়রা জার্মানিকে অনেকটা কোণঠাসা করে ফেলে। খেলার শুরু থেকে স্পেনীয় তিকি-তাকা’র ধাঁধায় জার্মান দলকে একপ্রকার ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয়। লুইস এনরিকের দলের যে তারুণ্যনির্ভর দল এবং ছোট ছোট পাসের যে সমন্বয় তা দর্শকদের মোহিত করে রাখে। অপরদিকে জার্মানিও খুব হিসাব করে খেলতে থাকে। প্রথমদিকে স্পেনের আক্রমণ ঠেকিয়ে কিছু কিছু আক্রমণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু বল পজেশন ও আক্রমণের সংখ্যায় প্রথমার্ধে স্পেনই সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল।

তোরেস, পেদ্রি এরা অন্তত বার দুয়েক বেশ সহজ সুযোগই পেয়েছিল গোল করার কিন্তু জার্মান ডিফেন্স এবং গোলরক্ষক অভিজ্ঞ ন্যয়ারের দৃঢ়তায় সে যাত্রায় স্পেন গোলের দেখা পায়নি। বিরতির পরে এসে স্পেন আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে এবং খেলার ৬২ মিনিটে বদলি স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতার গোলে এগিয়ে যায়। একগোলে পিছিয়ে পড়ে জার্মানির জন্য টিকে থাকাটা যখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে তখনও কিন্তু তারা মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলা চালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে কোচ হেনসি ফ্লিক সাবস্টিটিউড হিসেবে নামায় স্ট্রাইকার ফুলক্রুগকে। এই অখ্যাত ফুলক্রুগই খেলার ৮৩ মিনিটের মাথায় ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে জোরালো শর্টে বল জালে পাঠায়। সাথে সাথে জার্মান শিবিরে নেমে আসে আপাতত স্বস্তি। জার্মানির জন্য এই ম্যাচে জয় অথবা একটি ড্র না হলে কিছুতেই চলতো না।

কারণ, গ্রুপপর্বের নানা জটিল হিসাব এবং ছোট ছোট দলগুলোর অতিমানবীয় পারফরম্যান্স সে জটিলতাকে যে মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে তাতে জার্মানির মতো দলের যায় যায় অবস্থা। সেই দিক থেকে সমতাসূচক ওই গোলটিই হয়ে আসে আরাধ্য হিসেবে। এখন জার্মানির সামনে আর একটি খেলা যেখানে তারা অন্তত আরও একবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নিতে পারবে।

লেখক: অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন সন্ধানী ও ক্রীড়া বিশ্লেষক।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar