রিয়ালকেই দুষছেন জিদান


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ৩১ মে ২০২১, ১৮:২৮

খেলোয়াড়ি জীবনে যেমন অর্জনের পাল্লা ভারী ছিল, তেমনি ফুটবল কোচ হিসেবেও অনন্য জিনেদিন জিদান। ক্লাব পর্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন ছিলেন। সেটা ফুটবলার এবং কোচ-দুই দায়িত্বেই।

প্রায় ২০ বছরের সম্পর্কে রিয়ালের তো ঘরের ছেলেই হয়ে উঠেছিলেন এই ফরাসি। তবে কোচ হিসেবে দ্বিতীয়বার ক্লাবটি ছাড়ার পর প্রিয় ক্লাবকেই দুষলেন জিদান। আকারে-ইঙ্গিতে তিনি এও বুঝিয়ে দিয়েছে, ক্লাবের বর্তমান সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে তার সম্পর্কেও ধরেছে চিড়।

কোচ হয়ে এসে দুই দফায় রিয়ালকে দুটি লিগ জিতিয়েছেন। অনন্য কীর্তি গড়েছেন লস ব্লাঙ্কোদের টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়ে। তবুও নাকি ক্লাব থেকে প্রাপ্য সম্মানটা পাননি তিনি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসকে জানিয়েছে, দীর্ঘ এক চিঠিতে ক্লাব ছাড়ার কারণ প্রকাশ করেন জিদান।

সেখানে তিনি শুরুতেই লেখেন, ‘২০১৮ সালের মে মাসে ক্লাব ছেড়েছিলাম। কারণ, তখন আমার মনে হয়েছিল, আড়াই বছরের সাফল্য এবং এতগুলো শিরোপার পর দলকে উদ্বুদ্ধ করতে নতুন কাউকে দরকার। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার আমি ক্লাব ছাড়ছি, কারণ আমার ওপর সেভাবে আস্থা রাখতে পারছিল না ক্লাব।’

রিয়াল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফলতম ক্লাব। অথচ গেল মৌসুমে কোনো শিরোপাই আসেনি ক্লাবের ট্রফি ক্যাবিনেটে। সাফল্য পেতে কোনো তারকা খেলোয়াড়ও দলে ভেড়াচ্ছে না ক্লাবটি। যদিও জিদানের ছিল সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা। যা বাস্তবায়নের জন্য ক্লাব থেকে কোনো সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ছাড়াও ব্যর্থতার দায়ভার তার কাঁধে চাপান হচ্ছিল বলে মনে করছেন তিনি, ‘আমি ফুটবল বুঝি। রিয়ালের কী কী দরকার তাও জানি। আমি জন্মেছি জেতার জন্যই। এখানে এসেছিলাম শিরোপা জেতার জন্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও মানুষ, জীবন, আবেগের মতো বেশ কিছু জিনিস থাকে, যেগুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হয়। কোনো না কোনোভাবে আমার ঘাড়ে দোষ চাপানোর একটা প্রবণতা দেখেছি।’

এরপর তিনি জানান দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব পালনের সময় ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে সম্পর্কেও ফাটল ধরেছে তার, ‘ক্লাব ও ক্লাবের সভাপতির সঙ্গে কয়েক মাস ধরে আমার যেমন সম্পর্ক, সেটি একটু অন্য রকম হলেই ভালো লাগত। আমি কোনো বাড়তি সুবিধা চাইনি। আমি কেবল আমাদের সবার অর্জনের স্বীকৃতি চেয়েছিলাম।

আজকাল যেকোনো বড় ক্লাবে কোচদের মেয়াদ হয় কমবেশি দুই বছর। এর চেয়ে বেশি দিন থাকতে চাইলে অবশ্যই ক্লাবের মধ্যে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা লাগে। এই সম্পর্কটাই টাকা, খ্যাতি সবকিছুর চেয়ে বড়।’

 


poisha bazar

ads
ads