প্যারিস থেকে জয় নিয়েই ফিরল সিটিজেনরা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৯ এপ্রিল ২০২১, ১৮:১৫

স্বপ্নের ফাইনাল খেলতে পেরোতে হবে দুটি ধাপ। যার একটি বুধবার রাতে সফলভাবেই সম্পন্ন করল ম্যানচেস্টার সিটি। চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজির মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরেছে সিটিজেনরা।

পার্ক দে প্রিন্সেসে নেইমার-এমবাপ্পেদের পিএসজিকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলার পথ মসৃণ করে ম্যানসিটি। শুরুতে পিএসজি ডিফেন্ডার ও অধিনায়ক মারকুইনোসের গোলে পিছিয়ে পড়লেও, কেভিন ডি ব্রুইন ও রিয়াদ মাহরেজের গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পেপ গার্দিওলার দল।

শেষ ষোলতে বার্সেলোনা, কোয়ার্টার ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখকে বিদায় করে সেমির টিকিট কেটেছিল পিএসজি। আক্রমণভাগে নেইমার-এমবাপ্পে-ডি মারিয়া প্রতিনিয়ত নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছিলেন প্রতিপক্ষদের। তবে সিটির রক্ষণের সামনে পড়তেই যেন নিজের ছায়া হয়ে গেলেন এমবাপ্পে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে এদিনই প্রথম পুরো ম্যাচ খেলেও গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেননি এই ফরাসি তারকা। নেইমার মাঝেমধ্যে সুযোগ তৈরি করলেও, ফাইনাল থার্ডে সুবিধা করতে পারেননি স্টোনস-ডিয়াজদের সামনে। মোটামুটি সফল ছিলেন ডি মারিয়াই। তার কর্নার থেকেই তো প্রথম গোলটা করেছিল পিএসজি।

ম্যাচের ১৫ মিনিটে বাঁ প্রান্তের কর্নার থেকে অ্যানহেল ডি মারিয়ার ভাসানো বল হেডে সিটির জালে পাঠান পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মারকুইনোস। কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্নের বিপক্ষে গোল ছিল পিএসজি অধিনায়কের। ওই গোলের পর আরো বেশ কয়েকটা সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। তবে কখনো সিটির রক্ষণ, কখনো আবার তাদের কিপার এডারসনের কল্যাণে তা বিফলে যায়। পিছিয়ে পড়া সিটি সে সময় আস্তে আস্তে নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরু করে। দ্বিতীয়ার্ধে পড়ে যার প্রভাব।

টানেল থেকে ফেরার পর পিএসজি অনেকটা রক্ষণাত্মক ভঙ্গীতে খেলতে শুরু করে। কোচ মরিসিও পচেত্তিনো সিটিকে এওয়ে গোলের সুবিধা না দিতেই সেই ছক কষেন। তবে ততক্ষণে মাঝ মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলায় সিটিজেনরা আটকানো আর সম্ভব হয়নি। কোনো পরীক্ষিত স্ট্রাইকার ছাড়া দলকে মাঠে নামালেও, কোচ পেপ গার্দিওলা ঠিকই বের করে আনেন ম্যাচ। ৬৪ মিনিটে ডি ব্রুইন ক্রস হিসেবে উড়ন্ত বল বাড়ান ডি বক্সে। তবে বল অপ্রত্যাশিত বাঁক খেয়ে, মাটিতে ড্রপ করে ঢুকে যায় স্বাগতিকদের জালে। বল পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যাবে ভেবে পিএসজি কিপার কেইলর নাভাসও সে বল আটকানোর কোনো চেষ্টা করেননি।

সমতায় ফিরতে সিটি জয়সূচক গোলের পেতে মরিয়া হয়ে উঠলেও, হতাশা যেন আঁকড়ে ধরে পিএসজিকে। ৭০ মিনিটে নিজেদের ডি বক্সের একটু সামনে তরুণ ফিল ফোডেনকে আটকাতে গিয়ে ফাউল করে বসেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। হলুদ কার্ড দেখে সিটিকে উপহার দেন ফ্রি কিক। আর সেখান থেকেই দারুণ শটে অতিথিদের জয় নিশ্চিত করেন রিয়াদ মাহরেজ। ডি ব্রুইনের সঙ্গে বোঝাপড়ায় বাঁ পায়ে যে শটটি নেন এই আলজেরিয়ান তারকা, তা আবার ওই পারেদেস এবং ফরাসি ডিফেন্ডার কিমপেম্বের মাঝ দিয়ে জালে জড়ায়।

দুটির জায়গায় সিটি মহামূল্যবান এওয়ে গোল আর বাড়াতে পারত ম্যাচের শেষদিকে, যদি প্রতিপক্ষের ১০ জনে পরিণত হওয়ার ফায়দাটা নিতে পারত তারা। ৭৭ মিনিটে পেছন থেকে সিটিজেন মিডফিল্ডার ইলকায় গুনদোয়ানকে খুব বাজেভাবে ফাউল করেন পিএসজি মিডফিল্ডার ইদ্রিস গানা গুয়ে। রেফারি একটু জেনে-শুনে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে দেন এই সেনেগালিজ ফুটবলারকে।

৮৮ মিনিটে দুর্বল হয়ে পড়া পিএসজি বাঁচে নাভাসের দারুণ এক সেভে। ফোডেন তাদের তিন ডিফেন্ডারকে প্রতিহত করে শট নেন বটে, তবে তা রুখে দেন নাভাস। শেষে ওই ২-১ গোলের জয়েই প্যারিস ছাড়ে স্কাই-ব্লুজরা। দুদলের দ্বিতীয় লেগ আগামী মঙ্গলবার রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।






ads
ads