চার গোলের রোমাঞ্চে ড্র ঢাকা ডার্বি


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:২৪

আবাহনীর নামের পাশে টানা তিন জয়ে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই শুরু করে এবারের প্রিমিয়ার লিগ। ঠিক উল্টো অবস্থা আবাহনীর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের। একটি জয়ের বিপরীতে দুই ম্যাচে পয়েন্ট খোয়ায় দলটি। একটি ড্র, একটি হার। তার ওপর আবার গেল ফেডারেশন কাপে মোহামেডানকে ৩-০ গোলে হারানোর সুখস্মৃতি তো ছিলই মারিও লেমসের শিষ্যদের।

কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার লিগের প্রথম ঢাকা ডার্বিতে দল দুটি নামার আগে তাই পরিষ্কারভাবে এগিয়ে ছিল আবাহনী লিমিটেড ঢাকা। তবে ঘরের মাঠে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সব সমীকরণ উল্টে দিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। রোমাঞ্চের জন্ম দিয়ে আবাহনীকে দলটি রুখে দিয়েছে ২-২ গোলে।

ঢাকা ডার্বি আগের মতো আর উত্তেজনা ছড়ায় না, খেলোয়াড়রাও ক্লাবের প্রতি আগের মতো আর আবেগি না—এই ধরনের কথা এখন প্রচলিত হয়ে গেছে। কিন্তু কাল একটু হলেও পুরনো আবহ ফিরিয়ে আনে আবাহনী-মোহামেডান। অন্তত দল দুটির হাল না ছাড়ার মানসিকতা রোমাঞ্চ জাগায় পুরো ম্যাচেই। অতিথি দল হিসেবে কুমিল্লায় প্রথমার্ধের বিরতি পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল আবাহনীই।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকই শন লেনের দল ম্যাচের স্কোরলাইনে আনে সমতা। এর আগে, শুরুতেও গোল হজম করেছিল স্বাগতিকরা। তবে দুইবারই তাদের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান সোলাইমানে দিয়াবাতে। তার গোলদুটিও ছিল দর্শনীয়—একটি ফ্লিকে এবং অন্যটি ব্যাক ভলিতে।

আবাহনী নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দেয় ম্যাচের ১৪ মিনিটেই। গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ফ্রান্সিসকো তোরেস। আবাহনীর আফগানিস্তানের ডিফেন্ডার মাসিহ সাইঘানির ফ্রি কিকে কেরভেন্স ফিলস বেলফোর্ট হেড পাস বাড়ানোর পর হেডেই জাল খুঁজে নেন তোরেস। যদিও সেই লিড ২ মিনিটও স্থায়ী হয়নি। দিয়াবাতে দারুণ এক ফ্লিকে স্বাগতিক সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান। জাফর ইকবালের ক্রস এক ডিফেন্ডারের ফেরানোর পর পেয়ে যান আবিওলা নুরাত। নাইজেরিয়ার এই ফরোয়ার্ডের পাস আমির হাকিম বাপ্পীর পা হয়ে যায় গোলমুখে থাকা দিয়াবাতের কাছে। সেখান থেকেই নিখুঁত ফ্লিকে লক্ষ্যভেদ করেন মালির এই স্ট্রাইকার।

ফেডারেশন কাপে মোহামেডানের বিপক্ষে জোড়া গোল করা জুয়েল রানাও গতকালও দুইবার লক্ষ্যভেদ করেন। কিন্তু কপাল খারাপ তার, একটি বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের খড়গে পড়ে। ৩৬ মিনিটে সেই আক্ষেপে পোড়ার মিনিট তিনেক আগেই অবশ্য আনন্দে ভেসেছিলেন তিনি। ৩৩ মিনিটে সাদউদ্দিনের লম্বা ফ্রি কিক বেলফোর্ট হেড করে নামিয়ে দেয়ার পর তোরেসের শট কৌলিদিয়াতির গায়ে লেগে ফিরে। বল চলে যায় বাঁ দিকে থাকা জুয়েলের পায়ে। নিখুঁত কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড। সেই গোলে এগিয়ে থেকেই দ্বিতীয়ার্ধে যায় আবাহনী।

তবে শন লেনের ছাত্ররা দমে যায়নি। আগের দেখায় ৩-০ গোলে হারের আক্ষেপে জ্বলা মোহামেডান দ্বিতীয়ার্ধে আরো গুছিয়ে খেলতে থাকে। আবাহনীকে বেশ চেপে ধরার ফল ৬৬ মিনিটে পায় পুরান ঢাকার ক্লাবটি। সোহাগের গড়ানো কর্নারে নুরাতের ব্যাকহিল ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফেরার পর আলতো চিপে বল তুলে দেন উরু নাগাতা। তাতে দিয়াবাতের ব্যাক ভলি চোখের পলকে জালে জড়ায়।

মোহামেডান আগে পয়েন্ট হারালেও, লিগে আবাহনী ছিল অপ্রতিরোধ্য। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানই প্রথম পয়েন্ট হারাতে বাধ্য করল আবাহনীকে। ৪ ম্যাচ শেষে আবাহনীর পয়েন্ট ১০, মোহামেডানের ৫। আবাহনী পয়েন্ট হারানোয় মূল লাভটা হলো বসুন্ধরা কিংসের। চার ম্যাচ শেষে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এখন এককভাবে শীর্ষে। তাদের চেয়ে ২ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ল আবাহনী।






ads
ads