স্টেগেনের নৈপুণ্যে ফাইনালে বার্সা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:৫৭

টাইব্রেকারে রিয়াল সোসিয়েদাদকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে উঠেছে জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনা। গোলরক্ষক আন্দ্রে টের স্টেগেন ছিলেন ম্যাচের জয়ের নায়ক। অতিরিক্ত সময়ের খেলায় দু’দুটো দুর্দান্ত সেভের পাশাপাশি টাইব্রেকারে ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের দুটি শট। আর এতেই ফাইনালের ওঠার পথ সুগম হয় কোচ রোনাল্ড কুম্যানের শিষ্যদের।

কোর্দোবায় বুধবার রাতে প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা টানেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। অতিরিক্ত সময়ের খেলাও ১-১ সমতায় শেষ হয়। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শিরোপা লড়াইয়ে পা রাখে রোনাল্ড ক্যুমানের দল। পেনাল্টি শুট আউটে সোসিয়েদের জন বাতিস্তা ও ওইয়ারসাবালের শট ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক আন্দ্রে টের স্টেগেন।

আর সোসিয়েদাদের উইলিয়ান জোসে মারেন পোস্টে। দলটির সফল শট নেন মিকেল মেরিনো ও আদনান ইয়ানুজাই। আর বার্সেলোনার হয়ে প্রথম শট পোস্টে মারেন ডি ইয়ং। পরের দুটি শটে সফল উসমান ডেম্বেলে ও মিরালেম পিয়ানিচ। উড়িয়ে মারেন এন্টনিও গ্রিজমান। শেষ শটে রিকি পুস জালে বল পাঠালে উচ্ছ্বাসে ভাসে বার্সেলোনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনার আক্রমণভাগে লিওনেল মেসির শূন্যতা ফুটে ওঠে। হাল্কা ইনজুরিতে থাকায় কোচ কুম্যান মেসিকে নামাতে ঝুঁকি নেননি। বল দখলে আধিপত্য করলেও আক্রমণে সুবিধা করতে পারছিল না তারা। চাপ ধরে রেখে বরং প্রথম ২০ মিনিটে ভালো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে সোসিয়েদাদ।

গত মৌসুমের ফাইনালিস্ট সোসিয়েদাদ এগিয়ে যেতে পারতো শুরুতেই। তিন মিনিটের সময় ছয় গজ বাইরে থেকে অরক্ষিত আলেকজান্দার ইসাকের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। আট মিনিট পর ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন পোর্তু। খানিক পর ইসাকের আরেকটি প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন গোলরক্ষক টের স্টেগেন।

ধীরে ধীরে গুছিয়ে উঠে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে বার্সেলোনা। ডান দিক দিয়ে দুবার ভীতি ছড়ান ডেম্বেলে, কিন্তু গোলরক্ষককে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারছিল না তারা। এর মাঝে ৩৯তম মিনিটে প্রথম নিশ্চিত সুযোগ পেয়েই এগিয়ে যায় লিগে টানা আট ম্যাচ অপরাজিত দলটি। এক জনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে পাস দেন মার্টিন ব্র্যাথওয়েট আর বাঁ দিক থেকে বক্সের মুখে ক্রস বাড়ান গ্রিজমান।

দারুণ ভঙ্গিমায় লাফিয়ে হেডে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ডি ইয়ং। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ওইয়ারসাবালের সফল স্পট কিকে সমতায় ফেরে সোসিয়েদাদ। ডি-বক্সে ডি ইয়ংয়ের কনুইয়ে বল লাগলে পেনাল্টি পায় দলটি। ৬২ মিনিটে আবারো এগিয়ে যেতে পারতো বার্সেলোনা। তবে ডেম্বেলের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৭৮ মিনিটে ডি-বক্সে থেকে ক্লেমোঁ লংলের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে টের স্টেগেনের নৈপুণ্যে বেঁচে যায় বার্সেলোনা। ইয়োসেবা জালদুয়ার ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেয়া বুলেট গতির শট ঝাঁপিয়ে কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান জার্মান গোলরক্ষক। ছয় মিনিট পর ডি-বক্সে এক ঝটকায় একজনকে কাটিয়ে জায়গা বানিয়ে দুর্বল শট নেন ডেম্বেলে। ১১২ মিনিটে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে দু’দলই সুযোগ তৈরি করেছিল; কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। গোলরক্ষক বরাবর গ্রিজমান শট নেয়ার পর পাল্টা আক্রমণে কাছ থেকে ব্যর্থ হন ওইয়ারসাবাল। ছয় মিনিট পর আদনান ইয়ানুজাইয়ের ফ্রি-কিকে বল টের স্টেগেনের হাত ছুঁয়ে পোস্টে লাগলে আবারো বেঁচে যায় বার্সেলোনা। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

খেলা শেষে পুজ বলেন, ‘আমি বলে শট নিতে চাইনি। কিন্তু বাড়তি একজন শুটারের প্রয়োজন হলে আমি এগিয়ে যাই। এই জয়ে ফাইনালে হয় রিয়াল মাদ্রিদ নতুবা অ্যাটলেটিকো বিলবাওয়ের মোকাবেলা করবে বার্সেলোনা। ফাইনালে মেসিকে পাবার আশা করছেন কোচ কুম্যান। যদিও গোটা সময় বেশ সতর্ক ছিলেন তিনি। বার্সা কোচ বলেন, ‘মেসিকে ফাইনালে পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। তবে নিশ্চিত নই। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

 

 






ads