ফিদেল-ম্যারাডোনা: ‘পিতা’র ৪ বছর পর একইদিনে ওপারে গেলেন ‘পুত্র’


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:৩৫,  আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৫০

এ আলোচনা সকল স্তরেই চর্চিত যে, কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে অর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার মেরাডোনার সম্পর্ক ছিলো পিতা-পুত্রের মতোও। অদ্ভুত এক বন্ধুত্ব ছিল তাদের। কে জানতো, তাদের দুজনেরই জীবনযাত্রা ক্যালেন্ডারের পাতার হিসেবে একই তারিখে থেমে যাবে!

ফিদেল কাস্ত্রো ও ম্যারাডোনা

২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর প্রয়াত হন ফিদেল। ঠিক চার বছর পর, সেই ২৫ নভেম্বরই ম্যারাডোনাও বিদায় নিলেন জীবন থেকে।

আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরিসের এক বস্তিতে হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ম্যারাডোনার। বাবা ছিলেন কারখানা শ্রমিক। ফুটবলার হিসেবে ম্যারাডোনা যখন মাত্রই বেড়ে উঠছেন, তখন স্বপ্ন দেখতেন একদিন বাবা-মায়ের জন্য একটা বাড়ি কিনে দিতে ও নিজের বড় তিন বোনের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হবেন। তার ব্যাকগ্রাউন্ড ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই সম্ভব ফিদেলকে আকৃষ্ট করেছিল। আমাদের নিশ্চয় মনে আছে, ফিদেলের বিপ্লব সঙ্গী চে গেভারাও আর্জেন্টাইন।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে অনেকটা একক জাদুতে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার অল্প কিছুদিন পরই ম্যারাডোনা প্রথমবারের মতো কিউবা সফরে যান, ফিদেলের সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে ফিদেলের কাছ থেকে কিউবা বিপ্লবের আদ্যোপান্ত শোনেন তিনি। নিজের ১০ নম্বর আর্জেন্টাইন জার্সি ফিদেলকে দেন উপহার।

 

তারপর থেকে এ দুজনের নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ব্যক্তিজীবনে মারাত্মক খামখেয়ালী ম্যারাডোনা নিজেও বারবার বলেছেন, ফিদেল তার জীবন বাঁচিয়েছেন। অন্যদিকে, ফিদেলও তাকে 'দারুণ বন্ধু' হিসেবে করেছেন অভিহিত। ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, 'তিনি ছিলেন আমার কাছে দ্বিতীয় বাবার মতো।' আরও বলেছিলেন, 'আর্জেন্টিনা যখন আমার জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছিল, কিউবা তখন খুলে দিয়েছে।'

ম্যারাডোনার বাম পায়ে আজীবন ছিল ফিদেলের ট্যাটু।

মানবকণ্ঠ/এনএস






ads