উদযাপনের রাতে রোমাঞ্চকর জয়, চেলসির হারে সমীকরণ ‘জটিল’

মানবকণ্ঠ
- ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ২৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

সাত ম্যাচ হাতে থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত, লিভারপুল এখন প্রিমিয়ার লিগে নিয়মরক্ষার ম্যাচ খেলে যাচ্ছে। বুধবার রাতে চেলসির বিপক্ষে লিভারপুল তাদের আরেক নিয়মরক্ষার ম্যাচে তুলে নিয়েছে রোমাঞ্চকর এক জয়। গোল বন্যার ম্যাচের ফলাফল ছিল এরকম- লিভারপুল ৫: ৩ চেলসি। আট গোলের ম্যাচ জয়ে শেষ করে এদিন শিরোপা হাতে পায় জুর্গেন ক্লপের দল। দীর্ঘ তিন দশক পর লিগ শিরোপার খরা কাটিয়ে অলরেডরা ট্রফি উঁচিয়ে ধরতেই অ্যানফিল্ড হয়ে যায় রঙিন-বর্ণিল। লালের আলোয় আলোকিত।

এমন উৎসবের রাতে মাঠের খেলার চেলসিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি লিভারপুল। হেলায় আগের ম্যাচে আর্সেনালের কাছে হারলেও লন্ডনের আরেক দল চেলসির বিরুদ্ধে পুল তুলে নেয় ঘরের মাঠে টানা ২৪ জয়। সঙ্গে পোক্ত করে আরো একটি রেকর্ডও। এ নিয়ে টানা তৃতীয় মৌসুম অ্যানফিল্ডে অপরাজেয় রইল স্বাগতিকরা। ক্লাবটির ১২৮ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম টানা তিন মৌসুম ঘরের মাঠে হারহীন রইল অলরেডরা।

লিভারপুলের হয়ে ২৩ মিনিটে গোলের খাতা খোলেন নাবি কেইটা। দলের হয়ে অ্যানফিল্ডে ৪৫৩ দিন পর কেইটার গোলটি ছিল বাঁধাই করে রাখার মতো। ডি বক্সের বাইরে থেকে তার ডান পা থেকে বেরনো আগুনের গোলা প্রতিহত করার কোনো উপায়ই ছিল না প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষক কেপার। প্রায় একই জায়গা থেকে ১৫ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ট্রেন্ট আলেকজান্দার আর্নোল্ড। ২১ বছর বয়সী এই ফুলব্যাক ফ্রি কিক থেকে এবার পরাস্ত করেন কেপাকে। স্কোরশিটে নাম তুলে প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ডবুকেও জায়গা করে নেন আর্নোল্ড। এ নিয়ে তৃতীয়বার ডিরেক্ট ফ্রি কিক থেকে সরাসরি বল জালে জড়ালেন এই ডিফেন্ডার। ২১ অনূর্ধ্ব ফুটবলারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি ডিরেক্ট ফ্রি কিক গোল এখন আছে একমাত্র জ্যামি রেডনেপের (৪টি)।

বিরতিতে যাওয়ার আগে অতিথিদের জালে আরো একবার বল পাঠায় লিভারপুল। কেইটা-আর্নোল্ডদের পর জর্জিনিও উইজনাল্ডম কর্নার কিক থেকে পাওয়া বল দুর্ভেদ্য কোণ থেকে জালে পাঠান। বিরতির বাঁশি বাজার আগে চেলসি সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান অলিভিয়ের জিরু। উইলিয়ানের শট অ্যালিসন বেকার ফিরিয়ে দিলেও ডি বক্সে ওতপেতে থাকা এই ফরাসি তারকা ঠিকই বলে পা ছুঁইয়ে চেলসিকে ম্যাচে রাখেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৯ মিনিটে রবার্তো ফিরমিনো গোল করলে সেখানেই মোটামুটি হার নিশ্চিত হয়ে যায় অতিথি দলের। যদিও ৬১ মিনিটে ট্যামি আবরাহাম আর ৭৩ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ গোল করে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচের জন্ম দেয়। তবে ম্যাচ শেষের ছয় মিনিট আগে অ্যালেক্স অক্সলেড চেম্বারলাইন লিভারপুলের হয়ে পঞ্চম গোলটি করলে হারের আক্ষেপেই পুড়তে হয় চেলসিকে।

এই হারে ক্ষতি হয়েছে চেলসির। আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ টিকিট এদিনই কাটতে পারত ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড বাহিনী। তবে হারে তা আর হলো কই! লিগের শেষদিন পর্যন্ত তাই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ব্লুজদের। চেলসি হেরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিস্টার সিটির লড়াইকেও জমিয়ে তুলল। লিগের শেষদিন লড়বে ম্যানইউ ও লিস্টার। রেড ডেভিলসের কাছে ফক্সরা হেরে গেলে তিন ও চারে থেকে ইউরোপ সেরার মঞ্চে উঠে যাবে ম্যানইউ ও চেলসি। তবে লিস্টার জিতে গেলেই বিপদে পড়বে এই দুটি দলের যেকোনো একটি। ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে তখন চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নেবে লিস্টার। চেলসি ড্র বা জিতলে সঙ্গী হবে তাদের। বাদ পড়ে যাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সকল সমীকরণ এড়াতে চেলসি ও ম্যানইউর এখন তাই হার এড়ালেই চলে। আর লিস্টারের শেষ ম্যাচে জয় চাই-ই চাই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 





ads







Loading...