ফুটবলে সন্তুষ্টি ব্রোঞ্জ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কাঠমান্ডু থেকে


poisha bazar

  • বিশেষ প্রতিবেদক
  • ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:০৯

রোববার সকাল থেকেই শুধু বাজছে আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। আরচ্যারিতে ক্রমাগত সাফল্যের সাথে যোগ হয়েছিল মেয়েদের ক্রিকেটেও স্বর্ণ। এ রকম স্বর্ণ জয়ের মিছিলের দিন সবার বহুল কাক্সিক্ষত ফুটবলে ছিল স্বর্ণ জয়ের লড়াইয়ে টিকে থাকা। তার জন্য নেপালকে হারাতেই হবে। গেমসে ফুটবলের স্বর্ণ জয় যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এমনিতেই সবার জানা। সেখানে ফুটবলারদের উজ্জীবিত করতে দুপুরের দিকে বাফুফে থেকে ঘোষণা দেয়া হয় নেপালকে হারাতে পারলেই ৪০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেয়া হবে। স্বর্ণ জয়ের মিশনে গিয়ে বাংলাদেশ দল শুরুটা এতটাই বাজে করে বসে যে ফাইনালে উঠাই কঠিন করে তুলে। প্রথম ম্যাচে ভুটানের কাছে হেরে ও দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে জামাল ভুইয়ারা নিজেদের এ রকম খাদের কিনারায় নিয়ে যান। 

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় তাদের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখে। বিশ্বকাপ ফুটবলে কাতার ও ভারতের বিপক্ষে যে উজ্জীবিত নৈপুণ্য উপহার দিয়েছিলেন জামাল ভুইয়ারা তা গেমসে সম্পূর্ণ উধাও ছিল। তাই তাদের কাছে বাফুফে স্বর্ণ নয়, শুধু ফাইনাল খেলাই প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু তাদের এ সব টনিকে কোনো কাজেই আসেনি। উল্টো ১-০ গোলে হেরে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ দল। পাঁচ দলের মাঝে জুটেছে ব্রোঞ্জ। ভারত ও পাকিস্তান আসরে অংশ নেয়নি। খেলার ১১ মিনিটেই নেপালের সুজল শ্রেষ্ঠা বাংলাদেশের রক্ষণে ঢুকে দুই খেলোয়াড়ের ফাঁক দিয়ে ডি-বক্সে অরক্ষিত থাকা সুনিলের কাছে দিলে তিনি দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে প্লেসিং শটে গোল করে স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকদের উল্লাসে ভরিয়ে দেন।

নেপালকে হারাতে হলে বাংলাদেশকে অলআউট খেলতে হবে। দুপুরে টিম হোটেলে ১৫ মিনিটের সভায় কোচ জেমি ডে কৌশল বাতলে দিয়েছিলেন প্রথমার্ধে কোনো গোল হজম করা যাবে না। আর যদি গোল দেয়া সম্ভব হয়, সেটিকে দুইয়ে উন্নীত করতে হবে। এক গোলের ভরসা নেই। আর যদি প্রথমার্ধে কোনো গোলই না হয়, তাহলে দ্বিতীয়ার্ধে অলআউট খেলতে হবে। কিন্তু জেমি ডের কোনো কৌশলই জামাল ভুইয়ারা পরীক্ষার উত্তর দেয়ার মতো লিখতে (এখানে হবে খেলতে) পারেননি। বরং তাদের খেলা দেখে একটিবারও মনে হয়নি জেতা সম্ভব। অগোছালো খেলা। আর এই অগোছালো খেলার অন্যতম একটি কারণ ছিল নিজেদের পা বাঁচিয়ে খেলা।

গেমসের শুরু থেকেই এই অভিযোগ ছিল ফুটবলারদের বিরুদ্ধে। ফাইনালে উঠার জীবন-মরণ লড়াইয়েও তাদের সেই মনমানসিকতা থেকে সরে আসতে দেখা যাায়নি। সামনেই পেশাদার লিগ থাকায় এক একটি ক্লাবে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এক একজন খেলোয়াড় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তাই তারা দেশের স্বার্থে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চাননি। কাল নেপালের বিপক্ষে দেখা গেছে পায়ে বল গেলে তারা নিজেদের কাছে বল না রাখার লম্বা শট নিয়ে নিজেদের নিরাপদ রাখছেন। গোল করার মতো কোনো সুযোগও সৃষ্টি করতে পারেননি। সেখানে নেপাল আরো বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ পেয়েছিল। খেলার শেষের দিকে হঠাৎ মাথা গরম করে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে মারাত্মক ফাউল করে দলপতি জামাল ভুইয়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এ সময় তিনি এবং দলের কয়েকজন খেলোয়াড় রেফারির সাথে বাদানুবাদেও জড়িয়ে পড়েন!

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...