করোনার মধ্যেও দেশে দেশে নববর্ষের বর্ণিল উচ্ছ্বাস

অপেরা হাউজ সিডনি
নববর্ষের রঙিন আলোয় উদ্ভাসিত সিডনির অপেরা হাউজ। বর্ষবরণে দেশটিতে ছিলো ব্যাপক আয়োজন। - ছবি: ডেইলি মেইল

poisha bazar

  • ফরাজি এম ইসমাঈল
  • ০১ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:১৪,  আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:৫২

বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা। দেশে দেশে বৈশ্বিক মহামারী। এক রকম থমকে আছে গোটা বিশ্ব। এরই মধ্যে ঈদ-পূজার আয়োজন ভেস্তে গেছে করোনায়। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও প্রাণহীন। বছরজুড়ে এত অপূর্ণতার মধ্যেই এলো ইংরেজি নতুন বর্ষ উদযাপনের দিনক্ষণ। এই দিনটির উদযাপনেও দেশে দেশে ছিল নিষেধাজ্ঞা। তবে বর্ষবরণের উদ্যোগকে আটকে রাখা যায়নি। সীমিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়েছে খ্রিস্টীয় নববর্ষ। ২০২১ এর প্রথম প্রহরে দিনটি উদযাপনে সীমিত আয়োজনেও ছিল উদ্দাম।

করোনার মহামারির মধ্যেই বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে প্রথম দেশ হিসেবে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড। অতিমারির ভয়কে জয় করে নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম শহর অকল্যান্ডের রাস্তায় নববর্ষের উচ্ছ্বাস বিরাজ করেছে। ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, করোনার কারণে বর্ষবরণ নিয়ে দেশে দেশে কড়াকড়ি থাকলেও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে থাকছে নানা আয়োজন। ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে তৈরি বিশ্ব। এরই মধ্যে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে প্রথম আতশবাজির জমকালো আয়োজনে নতুন ইংরেজি বছর ২০২১ সালকে স্বাগত জানিয়েছে।

অকল্যান্ডে রাত ১২টা ১ মিনিট (স্থানীয় সময়) বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় নববর্ষ উদযাপন। তবে এবার বিশ্বে প্রথম নববর্ষ পালন শুরু হয় সামোয়াতে। এই মহামারী করোনার মধ্যেও দেশটিতে বর্ষবরণের রীতিতে তেমন একটা পার্থক্য দেখা যায়নি। ঠিক আগের বছরের মতই পালন করেছে নতুন বছরের প্রথম প্রহর।

এদিকে, নিউজিল্যান্ড ছাড়িয়ে এই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ায়ও। বর্ণিল সাজে রাতের সিডনি ধরা দেয় এক মোহনীয় রূপে। মেলবোর্নের রাস্তায়ও ছিল নাগরিকদের উল্লসিত ইংরেজি নববর্ষের উদযাপন। নিউজিল্যান্ডের হ্যাগলি পার্কে ছিলো বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। ঝমকালো আয়োজন নতুন বছরকে বরণ করে নেন দেশটির সর্বস্তরের নাগরিকেরা।

ব্যাংকক

ব্যাংককে মাস্ক পরেই চলে আনন্দ উৎসব। চলে বর্ষবরণের আয়োজন। তবে করোনার উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত চিনেও লেগেছে নতুন বর্ষের প্রাণোস্পন্দন। উহান শহরের বিপুল জনতার ঢল দেখে মনে হবে জীবনযাত্র যেন খুব স্বাভাবিক পথেই চলছে। করোনা কথা হয়তো ঘূণাক্ষরেও মনে আসবে না উদযাপনকারীদের।

গত বছরে চলে যাওয়া রোগী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তারদের চলে যাওয়াকে স্মরণ করে এক মিনিটের নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে ২০২১ সালকে বরণ করা হয়। সাও পাওলোর বাসিন্দারা এভাবেই ২০১৯-কে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

উহান, চিন

আলোকসজ্জা ও জাঁকজমকে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় রাশিয়া। দেশটির রাজধানী মস্কোতে নতুন বছরের দিবস উদযাপনের সময় সেন্ট বাসিলের ক্যাথেড্রালের কাছে ক্রেমলিনের স্পাসকায়া টাওয়ারের পিছনে আতশবাজি ফোটানো হয়েছিল।

নতুন বছরের দিবসটি জাপানের ক্যালেন্ডারে বৃহত্তম ছুটির দিন। কিন্তু দেশব্যাপী নতুন করোনভাইরাসের সংক্রমণের রেকর্ডের পরেই এই বছরের উত্সবগুলোতে বঞ্চিত রয়েছে দেশটির নাগরিকেরা। তাদেরকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। দেশের মানুষের উৎসবের আনন্দ ম্লা করে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা।

পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ছিলো বর্ষবরণের নানা আয়োজন। অমৃতসার, চেন্নাইয়র নেপিয়ার ব্রিজ, মুম্বাই ছাড়াও আগ্রার তাজমহলের সামনে বর্ণিল সাজে ধরা দিয়েছে ইংরেজি নববর্ষ।

চিনে উদযাপনের আরো একটি দৃশ্য

এদিকে করোনার ভয়বহতা ছড়িয়ে পড়ায় কারফিউ জারি করেছে ফ্রান্স। কারফিউ বলবৎ রাখতে ১ লাখ পুলিশ মোতায়েন করেছে দেশটি। তাই ঘরের বাইরে নববর্ষ উদযাপনে বাড়তি উচ্ছ্বাসের দেখা মেলেনি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোর দেশে।

বাংলাদেশে ইংরেজি নববর্ষ: করোনা পরিস্থিতির কারণে এক রকম ঘরবন্দি জীবনযাপন করছেন বাংলাদেশের মানুষ। নববর্ষের উদদযাপন তথা থার্টি ফার্স্ট নাইট নিয়ে ছিল পুলিশের আরোপিত বিধিনিষেধ। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও করোনা মহামারীর কারণে থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বর্ণিল রাজধানীর হাতিরঝিল

নির্দেশনা অনুযায়ী, উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অনুষ্ঠান করতে হবে। এছাড়া পটকাবাজি, আতশবাজি, বেপরোয়া গাড়ি, মোটরসাইকেল চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতেও ছিলো বর্ষবরণের উদ্দীপনা 

তবে রাষ্ট্রীয় এই নির্দেশনার মধ্যেও সীমিত পরিসরে নববর্ষ উদযাপন ছিল দেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নতুন বছরের উদযাপনে ছিলো সীমিত আয়োজন। দিনটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থীরা ফানুশ উড়িয়ে উদযাপন করেন ২০২১ সালের প্রথম প্রহর। যদিও ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে ছিল প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের বিধিনিষেধ। বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নীলক্ষেত ও শাহবাগ, গুলশান, বনানীতে সাধারণ মানুষদেও চলাচলে ছিল নিষেধাজ্ঞা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকায় বহিরাগত শিক্ষার্থীদেরও প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

পুরান ঢাকার বংশালের বাড়ির ছাদে এভাবেই বরণ করা হয় ইংরেজি নববর্ষকে

এদিকে, ঘটা করে নববর্ষ উদযাপনে বাধা থাকলেও নিজস্ব পরিসরে এই আয়োজনে কোনো বাধা ছিল না। তাই নগরীর বাড়িতে বাড়িতে বিল্ডিংয়ের ছাদে ছিল বর্ষবরণের সীমিত আয়োজন। নগরপ্রেমীদের আড্ডায় রাতের হাতিরঝিল বাড়তি মাত্র যুক্ত করলেও এবারের নববর্ষে সন্ধ্যার পরে হাতিরঝিলে প্রবেশে মানা ছিল। [সূত্র: রয়টার্স, ডেইলি মেইল, হিন্দুস্তান টাইমস ও দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম]

মানবকণ্ঠ/আইএইচ






ads