ঐতিহ্যের চা বাগান উদালিয়া


poisha bazar

  • ২৫ আগস্ট ২০২০, ০৮:১৭,  আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২০, ১৪:৩৩

এম এম খালেদ, চট্টগ্রাম ও খোরশেদ আলম শিমুল, হাটহাজারী:  উদালিয়া চা বাগান যেন তার ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে। সবুজ চা গাছের সৌন্দর্য যেন প্রকৃতিকে ডাকছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ ছুটে আসে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানায় উদালিয়া চা বাগানটির অবস্থান। বেশ কয়েক বছর আগেও অবহেলিত ছিল এ বাগানটি।

২০০৩ সালে দেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান মোস্তাফা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ চা বাগানটি কিনে নেয়। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে বাগানটি বছরের পর বছর সাফল্যের চ‚ড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।

চা বাগানটি বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৪ ভূষিত হয়। বাগানটিতে গত ২০১৯ সালে ১০ লাখ কেজি চা উৎপাদন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও প্রাকৃতিক প্রতিক‚লতার কারণে ৯ লাখ ৬০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। এ বছর ২০২০ সালে চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার কেজি। বাগান কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে ইতোমধ্যে ৫০% চা উৎপাদন হয়েছে বলে জানান।

উদালিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে প্রাকৃতিক অনুক‚লতা এবং বাগানে কর্মরত পরিশ্রমী, সাহসী ও কর্মঠ সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবে। আমাদের উৎপাদিত চা পাতা নিলামে উঠছে। চলতি বছরে করোনা পরিস্থিতির কারণে বছরের শুরুতেই ২ মাস চা নিলাম বন্ধ থাকে। পরবর্তিতে চা নিলাম শুরু হলেও আশানুরূপ ক্রেতা নিলামে অংশগ্রহণ না করায় এবং বিদেশি কিছু নিম্নমানের চা অত্যন্ত কম মূল্যে বাজারজাত করণের কারণে আমরা চায়ের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। চায়ের বাজারদর কম হওয়ায় বাগান কর্তৃপক্ষ বাগান নিয়ে চিন্তিত। এ ব্যাপারে সরকার চা বাগানের দিকে নজর দিলে উৎপাদিত চা পাতার ন্যায্যমূল্য পাবে বলে জানান বাগান কর্তৃপক্ষ।

ফটিকছড়ি উপজেলার উদালিয়া চা বাগানটি ৩ হাজার ৪৪ একর পাহাড়ি টিলা ও সমতল ভ‚মিতে গড়ে উঠা। বাগানটিতে চা বাগানের পাশাপাশি রাবার, ফলজ ও ঔষধি গাছের বাগান এবং মাছ চাষ করছে কর্তৃপক্ষ। ফলজ বৃক্ষের মধ্যে ড্রাগন থেকে শুরু করে লেবুসহ দেশি-বিদেশি আরো বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ লাগানো হয়েছে। আছে ঔষধি গাছের বাগানও। বাগানের প্রাকৃতিক লেক এবং অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা সংস্কার করে মাছ চাষ করেছে। এককথায় চা বাগানের পাশাপাশি বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাগানটি বর্তমান মালিকের অধীনে কয়েক বছরের মধ্যে সাফল্যের মুখ দেখছে।

বর্তমানে চা বাগানের শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ৯৯৭ জন। এর মধ্যে ৫৪৭ জন পুরুষ ও ৪৩০ জন মহিলা কাজ করছে। বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ চা-সংসদ কর্তৃক চুক্তি মোতাবেক শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় বলে জানান কর্তৃপক্ষ। বাগানে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে আসছে প্রকৃতিপ্রেমিক অসংখ্য পর্যটক। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে পর্যটকরা চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

সরকারি বা বেসরকারিভাবে বাগানটিকে কেন্দ্র করে পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হলে বাগানটির আরো উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। বাংলাদেশ চা-গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের কেন্দ্রটিও এ বাগানের অভ্যন্তরে অবস্থিত। দৃষ্টিনন্দন ভবনে চলছে চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম। বাগানটির আরো যথাযথ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বাগানে রূপান্তর করা এবং পর্যটন স্পট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানান।





ads







Loading...