তারকা বিড়ালের সাতকাহন

তারকা বিড়ালের সাতকাহন
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৮ জুলাই ২০২০, ১৩:০০

বাড়িতে অনেকেই বিড়াল পুষতে ভালোবাসেন। পৃথিবীখ্যাত অনেক তারকাই বিড়াল পুষে থাকেন। কিন্তু জগৎ খ্যাত কিছু বিড়ালের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়। এই বিড়ালগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয়। ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইনস্টাগ্রামে এদের রয়েছে লাখ লাখ ফলোয়ার।

হলিউড-বলিউডের অনেক ডাকসাইটে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এদের ফলোয়ার সংখ্যা বেশি। তাই এদের তারকা বিড়াল বলা হয়। কয়েকটি তারকা বিড়াল নিয়ে আজকের আয়োজন-

স্নুপি

স্নুপি একটি চাইনিজ বিড়াল। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেঙ্দু শহরের এই পুরুষ বিড়ালটির ফটো শেয়ারিং সাইট ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট আছে। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবেতেও অ্যাকাউন্ট রয়েছে। দুই মাধ্যমেই স্নুপি সমান জনপ্রিয়। লাখ লাখ ফলোয়ার রয়েছে বিড়ালটির। স্নুপি তার চোখ ও আদুরে ভঙ্গির জন্য বিখ্যাত।

২০১২ সালে বিড়ালটির মালিক মিস নিং স্নুপির একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। এক বছরের মাথায় ছবিটিতে ৩৬ হাজার লাইক পড়ে যা ওই সময়ের রেকর্ড। বর্তমানেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

গারফি

গারফিকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে রাগী বিড়াল। ইন্টারনেট জুড়ে গারফির রাগান্বিত মুখের ছবিতে সয়লাভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গারফির অনেক ফলোয়ার রয়েছে। গারফির বাস তুর্কিতে। বিড়ালটির মালিকের নাম ওজকোক হুলিয়া।

মন্টি

মন্টির ঠোঁটের তালু কাটা। মানুষের মধ্যে যেমন তালু কাটা আছে মন্টিও একই সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়। মন্টিকে বিশেষ সুবিধা সম্পন্ন বিড়ালের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিড়ালটির মালিক ডেনমার্কের মেক্কা কিলেন। তিনি মন্টির মাধ্যমে যেসব বিড়ালের শারীরিক অক্ষমতা আছে তাদের লালন-পালনের আহ্বান জানান।

হ্যামিল্টন

হ্যামিল্টন মূলত গোঁফের জন্য বিখ্যাত। তার ভিন্নধর্মী গোঁফ তাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে। আমেরিকান এই বিড়ালটি মুখ দিয়ে ঠিক মানুষের মতো অঙ্গভঙ্গি করে। আর এজন্যই বিড়ালটি পৃথিবী বিখ্যাত। আমেরিকার সান জোসের একটি কলোনিতে বিড়ালটিকে প্রথম পাওয়া যায়।

২০১২ সালে সিলিকন ভ্যালি অ্যানিমেল শেল্টার থেকে বিড়ালটি নিয়ে আসেন জে নামে এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে বিড়ালটির ছবি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন তিনি। বিড়ালটির বিশেষ লুক মানুষের নজর কাড়ে।

গ্রাম্পি ক্যাট

এটি গোমড়ামুখো বিড়াল। সম্ভবত সেলিব্রেটি বিড়ালদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তার মুখ এতটাই গোমড়া যে প্রথম যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করা হয়, তখন অনেকেই তাকে প্রকৃত বিড়াল বলে বিশ্বাস-ই করতে চাননি। গ্রাম্পি ক্যাটেরও বাসস্থান যুক্তরাষ্ট্র।

নালা

নালা তার হাস্যকর কাজের জন্য বিখ্যাত। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নালার মালিক তার হাস্যকর কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে থাকেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভিডিওটির লাখ লাখ ভিউ হয়। এই ভিউ থেকে অর্জিত অর্থ নালার আমেরিকান মালিক অ্যানিমেল চ্যারিটিতে দান করেন।

ভেনাস

ভেনাসকে বলা হয় দুমুখো বিড়াল। কারণ ভেনাসের মুখের দুই পাশের লোমে দুই রকমের রং। এক পাশে লাল ও অন্যপাশে কালো। তার চোখের রঙও দুই রকমের। এই ভিন্ন রঙের জন্যই ভেনাস জগৎ বিখ্যাত।

মারু

স্কটিশ বিড়াল মারুকে বলা হয় ফোল্ডেড ক্যাট। ছোট্ট মারু ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। ইউটিউবে তার ভিডিওগুলো প্রায় ৪ শত মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। কোনো প্রাণীর ভিডিওর ভিউ হিসেবে এটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কর্নেল মিও

কর্নেল মিও হিমালিয়ান বিড়াল। গারফির মতো এই বিড়ালটি রাগী হিসেবে বিখ্যাত। তবে দুঃখের বিষয় হলো, ২০১৩ সালের নভেম্বরে হার্টের সমস্যার কারণে বিড়ালটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মারা যায় মিও।

শিরোনেকো ক্যাট

বিড়ালেরা স্বভাবতই অলস এবং ঘুমকাতুরে প্রাণী। কিন্তু এদের মধ্যে ঘুমের রাজা বলা হয় শিরোনেকোকে। এ বিড়ালটি প্রায় ২৪ ঘণ্টাই তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে। ২০০৬ সালে প্রথম শিরোনেকোর ছবি প্রকাশ পায়। এর পর থেকেই এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। বিভিন্ন বøগে ‘বাস্কেট ক্যাট’ হিসেবে তার ছবি প্রকাশ হতে থাকে।

ঘুমন্ত অবস্থায় বিড়ালটির মাথায় রাখা বিভিন্ন জিনিস আর আদুরে অভিব্যক্তির জন্য সকলের কাছে শিরোনেকো জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বারো বছর বয়সী এই সাদা বিড়ালটি অত্যন্ত আরামপ্রিয়।

জাপানি এই তারকা বিড়ালের ইন্সটাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ১৬.২ হাজার। তার ঘুমানোর ভঙ্গি এবং আয়েশি স্বভাবের জন্য শিরোনেকোকে পৃথিবীর সুখীতম বিড়ালও বলা হয়ে থাকে।

লিল বাব ক্যাট

ইন্টারনেট জগতের আরেক তারকা বিড়াল হচ্ছে মার্কিন লিল বব বা লিটল বব। আদুরে চেহারার এই বিড়ালকে দেখলে মনে হবে, যেন জিভ বের করে ভেংচি কাটছে। বব জন্মেছিল জিনগত কিছু ত্রুটি নিয়ে, আর এই ত্রুটিই তাকে সবার মাঝে জনপ্রিয় করে তুলে। লিল ববকে বলা হতো পারমা কিটেন।

অর্থাৎ চিরস্থায়ী বিড়ালছানা, যে কিনা সারাজীবন ছোটই থাকবে। ববের এই জিনগত অসংগতিকে বলা হয় ‘ওয়ান অফ ন্যাচারস হ্যাপিয়েস্ট অ্যাকসিডেন্ট’ অর্থাৎ প্রকৃতির অন্যতম সুখকর দুর্ঘটনা।

কারণ, এই দুর্ঘটনাই ববকে সবার থেকে আলাদা করে তুলেছে। ববের ওজন মাত্র ৩.৯ পাউন্ড। ববকে দত্তক নেওয়া মাইক ব্রাইডেভস্কি বলেন, ‘ববকে যখন ভেটের কাছে নিলাম, ভেটের মতে ববই ছিল তার দেখা সবচেয়ে অদ্ভুত বিড়াল।’ জন্মগত ত্রুটির কারণে ববের নিচের চোয়াল অতিরিক্ত ছোট, যার ফলে সে জিভ ভেতরে নিতে পারে না।

আর এই ত্রুটিই ববকে দিয়েছে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। বব সম্পর্কে মাইক কিছু মজার তথ্য দিয়েছেন। তারকা খ্যাতি লাভের পর থেকে বব প্রায় ১০০০ মাইল ভ্রমণ করেছেন নিউইয়র্কের বিভিন্ন শহরে।

বিমানে ভ্রমণকালে বব সাধারণত ঘুমিয়েই কাটায় এবং বিমানবন্দরে সে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ববের প্রিয় খাবার দই। যখনই সে নিজে ভালো কিছু খেতে চায়, তখন মিষ্টি দই খায়। লিল ববের বর্তমান ইন্সটাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ২.১ মিলিয়ন।

গ্রাম্পি ক্যাট

ইন্টারনেটে বিখ্যাত গোমড়ামুখী এই বিড়ালটি সবার কাছে পরিচিত গ্রাম্পি ক্যাট হিসেবে, যার আসল নাম টারডার সস। ৭ বছর বয়সী টারডার ইন্টারনেট জগতে পেট ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিড়ালটির মালিক ট্যাবাথা বুন্ডেসেন ২০১২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর টারডারকে ঘরে নিয়ে আসেন।

ট্যাবাথার ভাই ব্রায়ান তারপর একদিন বিড়ালটির সেই গোমড়ামুখী অভিব্যক্তি খেয়াল করলেন। সেটি ছবি তুলে রেডিট (ৎবফফরঃ.পড়স)-এ ছেড়ে দিলেন। ৪৮ ঘণ্টার মাঝেই তুমুল সাড়া পেল টারডারের ছবি।

এরপর মজাদার সব ছবি আর ক্যাপশনের জোয়ারে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভেসে বেড়াতে শুরু করল বিখ্যাত এই গ্রাম্পি ক্যাট। রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া টারডার, মডেলিং ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রায় ১১.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে।

বিশ্বের প্রথম বিড়াল হিসেবে মাদাম তুসোর জাদুঘরে টারডারের মোমের মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছিল। গ্রাম্পি ক্যাটের জনপ্রিয়তা তখন আকাশছোঁয়া। এরই মাঝে হুট করে টারডারের ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন ধরা পড়ে। চিকিৎসা চললেও ধকল সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে মারা যায় ইন্টারনেটের বিখ্যাত এই গ্রাম্পি ক্যাট।

তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শোকের ছায়া নেমে আসে। ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১১ মিলিয়ন ফলোয়ার শেয়ার করে এই শোক বার্তাটি। রাগী বা গোমড়ামুখী অভিব্যক্তির জন্য পরিচিত হলেও অসখ্য ইন্টারনেটবাসীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে এই গ্রাম্পি ক্যাট।

মানবকণ্ঠ/আরএস

 





ads






Loading...