মসজিদে কুবা : ইতিহাসের প্রথম মসজিদ

রুহিত সুমন

মানবকণ্ঠ
মসজিদে কুবায় সুমন - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • ০৪ মে ২০২০, ১৯:৪৬,  আপডেট: ০৫ মে ২০২০, ১০:৫৬

বছরের শুরুটা আমার জীবনে অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে রয়েছে। এবছরের শুরুতে অর্থাৎ, ১ জানুয়ারি পবিত্র ওমরাহ করার সুযোগ হয় আমার। মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট লাখো শুকরিয়া পবিত্র মক্কায় মহান আল্লাহর ঘর সঠিকভাবে তাওয়াফ করতে পেরেছি।

ওমরাহ হজ্জের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ৭ দিন পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পবিত্র রওযা মোবারকের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদীনায় গমন করি। সকালের দিকে বাসে চড়ে সন্ধ্যায় মদীনায় পৌঁছাই। পবিত্র মদীনা শরীফে মাগরিব ও এশার সালাত আদায় করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মহামানব, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মহানবী (সাঃ) পবিত্র রওযা মোবারক যিয়ারত করি। মদীনা শরীফে সারারাত ইবাদত বন্দগী করি।

ভোরে ফজর সালাত আদায় করে যাই ইসলামের প্রথম মসজিদ 'মসজিদে কুবা'তে নফল সালাত আদায় করতে। কারণ, মহানবী (সাঃ) বলেছেন, মসজিদে কুবায় আগমন করে যে নামাজ আদায় করে, তাকে এক ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। রাসুল (সঃ) নবুওয়াত পাওয়ার পর এটাই প্রথম মসজিদ, এমনকি ইসলামের এবং উম্মতে মোহাম্মদির প্রথম মসজিদ। মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসার পরই মসজিদে কুবার সম্মান ও ফজিলত।

মদিনায় মসজিদে নববির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মসিজদে কুবা অবস্থিত। মসজিদে নববি থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩.২৫ কিঃ মিঃ। হিজরতের পর বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় ১০ বছর কাটিয়েছেন। এ সময়ে বিশ্বনবি পায়ে হেঁটে কখনো উটে আরোহণ করে কুবা মসজিদে যেতেন এবং সেখানে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করতেন।

‘কুবা’ একটি কূপের নাম। এই কূপকে কেন্দ্র করে যে বসতি গড়ে উঠেছে তাকে কুবা মহল্লা বলা হয়। এই যোগসূত্রে মসজিদটির নামকরণ হয় মসজিদে কুবা। নবী করিম (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রথম দিন কুবায় অবস্থানকালে এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং নির্মাণকাজে সাহাবাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন এর ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেন।

মসজিদে কুবা শুরু থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করা হয়। নবীর আমলের পর ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ( রা.) তার খেলাফতকালে মসজিদে কুবার সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরও বেশ কয়েকবার এই মসজিদের পুনর্নিমাণ ও সংস্কার করা হয়। সবশেষ ১৯৮৬ সালে মসজিদটি পুনর্নিমাণ করা হয়। এই মসজিদ নির্মাণে পুরো মসজিদে এক ধরনের সাদাপাথর ব্যবহার করা হয়, যা অন্যকোনো মসজিদে সাধারণত দেখা যায় না।

চারটি উঁচু মিনার, ছাদে ১টি বড় গম্বুজ এবং ৫টি অপেক্ষাকৃত ছোটো গম্বুজ রয়েছে। এ ছাড়া ছাদের অন্য অংশে রয়েছে গম্বুজের মতো ছোটো ছোটো অনেক অবয়ব। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন। মসজিদে নারী ও পুরুষদের নামাজের জায়গা ও প্রবেশ পথ আলাদা। অজুর জায়গাও ভিন্ন। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদের ভেতরের কারুকাজও বেশ মনোমুগ্ধকর। মূল মসজিদ ভবনের মাঝে একটি খালি জায়গা আছে, সেখানেও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। দামি কারপেট বিছানো মেঝেতে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন, রয়েছে জমজম পানির ব্যবস্থা।

বর্তমানে মদিনায় অনেক সুন্দর সুন্দর মসজিদ রয়েছে। মসজিদে নববির পর সৌন্দর্য্য ও নান্দনিকতার তালিকায় মসজিদে কুবা অন্যতম। ওমরা, হজ ও দর্শণার্থীদের জন্য মসজিদে কুবা সাওয়াব ও সৌন্দর্য্যের অনন্য প্রতীক। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মক্কা মদিনা জিয়ারাতের সময় মসজিদে কুবা পরিদর্শন ও তথায় নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক- রুহিত সুমন : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ময়ূরপঙ্খী শিশু-কিশোর সমাজকল্যাণ সংস্থা
[email protected]

মানবকণ্ঠ/জেএস/এইচকে




Loading...
ads






Loading...