সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাসে ব্যারিকেড সৃষ্টি

মানবকণ্ঠ
ফাইল ছবি - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৪ মার্চ ২০২০, ১০:৩৩

একাত্তরের এই দিনে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। মুক্তির দাবিতে রাজপথে ছাত্র-জনতার ঢল নামে। আন্দোলন প্রতিহত করতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নামে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। ঢাকার মিরপুর, চট্টগ্রাম, রংপুর ও সৈয়দপুরে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে রাজপথে নামে বাংলাদেশে থাকা বিহারীরাও। তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে লিপ্ত হয় সংঘর্ষে। এদিন চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুরে তিন শতাধিক নিরস্ত্র বাঙালি পাকিস্তানি সেনাদের সশস্ত্র আক্রমণে শহীদ হন। এদিকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সব সরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষাঙ্গনে পূর্ণদিবস হরতাল পালিত হয়। টেলিভিশন কেন্দ্রে পাহারারত সৈনিকরা টেলিভিশনের কর্মীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করার প্রতিবাদে সন্ধ্যা থেকে ঢাকা টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।

আজকের দিনে পাকিস্তানি সেনারা চট্টগ্রাম নৌবন্দরের ১৭ নম্বর জেটিতে নোঙর করা এমভি সোয়াত জাহাজ থেকে সমরাস্ত্র খালাস করতে গেলে চট্টগ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ জেটি থেকে কদমতলী পর্যন্ত প্রায় চার মাইল এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় অস্ত্রের মুখে সেনাবাহিনীর সদস্যরা জাহাজ থেকে খালাস করা অস্ত্র ১২টি ট্রাকে করে অন্যত্র নেয়ার চেষ্টা করলে ডবলমুরিং রোডে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাকের পথরোধ করে আন্দোলনরত চট্টগ্রাবাসী। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনতার ওপর পাকিস্তানি সেনা সদস্যরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে নিরস্ত্র বাঙালি লাঠিসোটা দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। রাতভর চলা সংঘর্ষে প্রায় ২শ’ বাঙালি শহীদ হন। দেশব্যাপী পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নতুনভাবে সম্ভাব্য সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করতে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা এক বিবৃতিতে সশস্ত্র গণবিপ্লব জোরদার করার আহ্বান জানান। প্রস্তুতি হিসেবে চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

সৈয়দপুরে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর গুলিবর্ষণে কমপক্ষে শতাধিক মুক্তিকামী বাঙালি শহীদ হন আজকের এই দিনে। এ অবস্থায় সৈয়দপুরের অধিবাসীরা যে যেভাবে সম্ভব প্রতিরোধ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শহরে কারফিউ দিয়ে পাকিস্তানি সেনারা সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। জুলফিকার আলী ভুট্টো দুপুরে প্রেসিডেন্ট হাউসে ইয়াহিয়া ও তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে উপদেষ্টা পর্যায়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকও পাকিস্তানিদের একগুঁয়েমির কারণে নিষ্ফল বৈঠকে পর্যবসিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান সফরররত পাকিস্তানের নেতারা বিকেলে পিআইএর একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...