সু চি'র প্রথম প্রেমিকের সঙ্গে যেভাবে অশান্তি শুরু

মানবকণ্ঠ
বামে তারিকের সঙ্গে, ডানে স্বামী মাইকেলের সঙ্গে সন্তানসহ সু চি - ছবি : সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:২৫,  আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৩২

গত শতাব্দীর ষাটের দশকে সু চি তখন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অক্সফোর্ডে পড়ার সময় টাইট জিন্স আর স্কার্টে তাকে বেশ মানাত। তার লাবণ্যে মুগ্ধ তখন অসংখ্য তরুণ। তাদেরই একজন পাকিস্তানের তরুণ কূটনীতিক তারিক হায়দার। অক্সফোর্ডে পড়ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৃত্তি নিয়ে তিনি সেখানে গিয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রী নেয়ার জন্য। ধর্মে মুসলিম; দেখতে সুদর্শন, সুঠাম ও দীর্ঘদেহী।

লাবণ্যময়ী সু চির হৃদয়ে জায়গা করে নিলেন পাকিস্তানী তরুণ তারিক হায়দার। তারিকের প্রেমে হাবুডুবু খেতে লাগলেন সু চিও। বিখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক পিটার পপহ্যাম সু চির জীবনীগ্রন্থ ‘দি লেডি অ্যান্ড দি পিকক: দি লাইফ অব অং সান সু চি অব বার্মা’য় লিখেছেন: ‘এটি সত্যিই বেশ আশ্চর্যজনক যে সংস্কৃতিগতভাবে অনেক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সু চি তারেক হায়দারের সঙ্গে আবিষ্ট হয়েছিলেন গভীর প্রেমে।’

সু চি তারিকের প্রেমে এতটাই মজেছিলেন যে, তার যেকোন আবদার তিনি রাখতে প্রস্তুত ছিলেন। এমনকি কারো সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হলে সেটিও! পশ্চিমে যওয়ার আগে সু চি দিল্লীতে পড়ালেখা করেছেন। সেই সুবাদে ভারতীয় সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় ছিল। অক্সফোর্ডে থাকাকালীন তিনি ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে স্বাচ্ছন্দবোধ করতেন। কিন্তু ১৯৬৫ সালে শুরু হলো ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। সে যুদ্ধের হাওয়া লাগে সু চি’র প্রেমেও। শুরু হলো অশান্তি।

তারিকের সঙ্গে সু চি’র অশান্তি যতই বাড়তে লাগলো, ততোই মন বসে না পড়ার টেবিলে। ফলে পরীক্ষার টেবিলে সু চি পরলেন বিপাকে। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বিভাগে কোনো রকমে পাশ করেন তিনি।

হায়! সেই সঙ্গে পরীক্ষার ফলের ন্যায় সু চি’র প্রেমও ভেতরে ভেতরে অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়ক! অশান্তি আর প্রেম কখনও একসঙ্গে থাকতে পারে না। ফলে সু চি’র প্রেম শেষ পর্যন্ত স্থায়িত্ব পাবে না সেটাই স্বাভাবিক।

অক্সফোর্ডের পাঠ চুকিয়ে তারিক প্রস্তুতি নেন দেশে ফিরে আসার। তারিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকরি আর প্রেমিকাকে দেয়া ওয়াদার মধ্যে হিসেব কষে চাকরিতে যোগ দিতে ফিরে আসেন নিজ দেশে। এক মুহূর্তেই উচ্চাভিলাষী সু চি’র স্বপ্নভঙ্গ হয়। কয়েকমাস তার প্রেমিকের শোকে অশ্রু বিসর্জন দিতেই কেটে যায়। সু চির জীবনীকার পপহ্যাম লিখেছেন: ‘সু চি প্রায় বছরখানেক সময় বিরহে কাটিয়েছেন তারিক হায়দারের জন্য, সে সময় তিনি ছিলেন শোকে মুহ্যমান ও বিধ্বস্ত।’

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সু চি যখন ভেঙে পড়েছেন সেই মুহূর্তে তার পারিবারিক বন্ধু স্যার পলগর বুথ ও মিসেস বুথের পুত্র ক্রিস্টোফারের মাধ্যমে পরিচয় হয় তিব্বতের সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ মাইকেল আরিসের সঙ্গে। ১৯৭২ সালে আরিসের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন অং সান সু চি। অশান্তির ইতিহাস ভুলে একটু শান্তির জন্য।

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads