পরনারীতে আসক্তি, জেনে নিন এই টিপসগুলো

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৫৯,  আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৫

পরনারী বা পরপুরুষে আসক্তির বীজ ঘরের আসবাবপত্র, ঘরে আয়নার অবস্থান, গৃহের প্রধান প্রবেশপথ, বাথরুমের জানলা, কিচেনে আয়না সমেত কয়েকটি জিনিসের সাজানোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে। 'ফেং শ্যুই' মতে কিছু বিষয় মাথায় রাখলে সহজেই মুক্ত হওয়া যায় এই সর্বগ্রাসী আসক্তি থেকে। ফেং শ্যুই মতে স্বামী বা স্ত্রী যাতে পরনারীতে বা পরপুরুষে আসক্ত হয়ে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে না পড়ে তার জন্য ১০টি টিপস দেয়া হলো- 

(১)  বাড়ির মূল দরজা ফেং শ্যুই মতে এক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। কারণ এখান দিয়ে ‘চি’ নামে শুভ এনার্জি প্রবেশ করে। যদি কোনও কারণে এই শুভ এনার্জি অশুভ শক্তি বা অশুভ এনার্জিতে, যাকে চিনা ভাষায় ‘শাচি’-তে কনভার্ট হয়ে যায় তা হলে বাড়িতে স্বামী বা স্ত্রীর মনে অবৈধ কাম, অবৈধ প্রেমের চিন্তা প্রবেশ করবে এবং পরপুরুষ বা পরনারীতে আসক্ত হবেই।

কারও বাড়ির প্রধান দরজার সামনে যদি একটি লাইটপোস্ট বা টেলিফোনের পোস্ট থাকে, তা হলে অনেক ক্ষেত্রে ওই বাড়িতে নিরন্তন ‘শাচি’ বা নেগেটিভ ভাইব জমা হতে থাকবে, কালক্রমে ওই বাড়িতে বসবাসকারীদের নানা ভাবে ক্ষতি করবে।

তাই সমাধান হিসেবে বাড়ির প্রধান ফটক দিয়ে যদি প্রবেশ করা হয় তবে ফেং শ্যুই মতে বাঁ দিকটা হয় পুরুষ আর ডান দিকটা স্ত্রী বা মেয়ে বোঝায়। এখানে বাঁ দিকে বা পুরুষের দিকে সবুজ ড্রাগন মূর্তি বসাতে হবে আর ডানে মেয়েদের দিকে সাদা বাঘের মূর্তি রাখতে হবে ব্যালান্স করে। তা হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসা ও দাম্পত্য প্রেম আরও গাঢ় হবে।

(২) বাড়িতে কোনও ঘরে বা যে ঘরে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বাস করেন সেখানে ফেং শ্যুই-এর নিয়ম মেনে ফুলদানি রাখতে হবে। অনেকে না জেনে ঘরবাড়ি সাজাবার জন্য নানা  ধরনের ফাঁকা ফুলদানি রেখে থাকেন। ফেং শ্যুই মতে স্বামী-স্ত্রী যে ঘরে বাস করেন সেখানে ফাঁকা ফুলদানি রাখা যাবে না। ফাঁকা ফুলদানি মানেই ফেং শ্যুই মতে তৃতীয় শক্তির প্রবেশ যা অবৈধ সম্পর্কের দিকে ঠেলে দেবে।

(৩) অনেকে শোবার ঘরে না জেনে পরস্পরবিরোধী অনেকে অনেক রকম ছবি টাঙিয়ে থাকেন। ফেং শ্যুই মতে ছবি টাঙাবার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শোবার ঘরে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন, পূর্বপ্রেমের কোনও ছবি যার সঙ্গে এখন কোনও সম্পর্ক নেই, বা এমন ছবি আছে যাতে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত বা মত্ত বোঝায়, কোনও পশুর ছবি যেখানে একটি পুরুষ পশুকে ঘিরে কয়েকটা নারী পশু, শৃঙ্গারের কোনও ছবিও ফেং শ্যুই মতে দেওয়ালে টাঙানো যাবে না। এই সব ছবি থাকলে স্বামী-স্ত্রীর মনে পরকীয়া প্রেমের অভীপ্সা জাগে।

সমাধান হিসেবে অন্য সব ছবি সরিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিজেদের উজ্জ্বল দিনের স্মৃতিবিজড়িত প্রেমের, ভালবাসার, ডেটিং বা চুমুর উপর যত বেশি ছবি টাঙাতে পারবেন ততই নিজেদের মধ্যেকার ভালবাসা বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

(৪) ফেং শ্যুই মতে, রোজ কোয়ার্জ ক্রিস্টাল বা স্ফটিক ভীষণ শুভ। ফেং শ্যুই মতে রোজ কোয়ার্জ ক্রিস্টাল দিয়ে তৈরি এক জোড়া ম্যান্ডারিন ঘুঘুপাখির মডেল ঘরে রাখতে পারলে অশুভ ‘শিচি’র নেগেটিভ শক্তির প্রভাব দূর হয় আর এই জোড়া ঘুঘুপাখির এমন শক্তি যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রেম ও রোমান্সকে শক্তিশালী করে তোলে এবং অবৈধ পরকীয়া প্রেমের আকর্ষণকে নষ্ট করে দেয়।

কিন্তু এখানেও একটা কথা আছে, রোজ কোয়ার্জ ক্রিস্টাল ভাল বলে সেই ক্রিস্টাল দিয়ে বলের মতো গোল আকৃতির বা বেকনের মতো কোনও আকৃতির মডেল ঘরে রাখলে একদম  উল্টো ১৮০ ডিগ্রি ফল ফলবে। এর ফলে ‘শিচি’র মতো নেগেটিভ ভাইভ ঘরে প্রবেশ করে স্বামী বা স্ত্রীকে পরনারী বা পুরুষের দিকে প্রলুদ্ধ করবে। ঘরে তৃতীয় মানুষের আগমন ঘটবে।

(৫) ফেং শুই মতে বাথরুম ও শোবার ঘরে আয়নার অবস্থান ভীষণ স্পর্শকাতর। স্ত্রী বা স্বামীর মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে বাথরুম ও শোবার ঘর থেকে আয়না সরিয়ে পাশের কোনও ঘরে রাখতে হবে। এই আয়না ‘চি’ শক্তি, মানে প্রেম ভালবাসার শক্তিকে ঘরে ঢুকতে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে দুর্বল মনের স্বামী ও স্ত্রীরা খুব সহজেই পরকীয়া প্রেমে মত্ত হয়ে পড়েন। অলক্ষ্যেই সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির আগমন ঘটে থাকে।

প্রাচীন চিনা মতে রান্নাঘর স্ত্রী ভাবের আর শোবার ঘর পুরুষ ভাবের প্রতীক। ফেং শুই মতে, রান্নাঘরে আয়না লাগানো দুই স্ত্রী আর বেডরুমে আয়না লাগানো দুই স্বামীকে বোঝায়। ফেং শুই মতে আয়না সব কিছুকেই প্রবর্ধিত করে তোলে। খারাপ হলে বেশি খারাপ করে আর ভাল হলে আরও বেশি করে ভাল করে। তাই পথ্য হিসেবে শোবার ঘরে রান্নাঘরে আয়না টাঙাবেন না।

(৬) ঘরের মধ্যে ঘর থাকলে ফেং শুই মতে বাড়িতে তৃতীয় মানুষের আগমন ঘটবে চুপিসারে। ঘরের মধ্যে ঘর থাকলে বাড়িতে ‘শিচি’ শক্তি নেগেটিভ ভাইব উত্পন্ন করে। এই ভাইব স্বামী বা স্ত্রীকে পরকীয়ায় ইন্ধন যোগাবেই। ঘরের মধ্যে ঘর অবচেতন মনে এক ধরনের অপরাধ বোধ প্রশ্রয় দিয়ে থাকে।

(৭) ফেং শুই মতে, যে ঘরে স্বামী-স্ত্রী বসবাস করেন, সেখানে দুটো আলাদা বিছানা থাকা মানেই ‘শিচি’ বা অবৈধ প্রেমের শক্তিকে আহ্বান করা। তার মানে জোর করে তৃতীয় নারী বা পুরুষকে ঘরে থাকার জন্য বলা। দুটো বিছানা মানে অবচেতন মনে অবৈধ প্রেমকে প্রশ্রয় দেওয়া। তাই পথ্য হিসেবে স্বামী-স্ত্রীর শোবার ঘরে দ্বিতীয় বিছানাটাকে বাড়ির অন্যত্র সরিয়ে রাখতে হবে।

(৮) ফেং শুই মতে, বাথরুমে বড় বড় করে একাধিক জানলা থাকা মানে অবৈধ প্রেমকে হাতছানি দিয়ে ঘরে ডেকে আনা। পাশ্চাত্যে এই ধরনের জানলা দেখা যায়। এর ফলে অবৈধ প্রেমের প্রকোপ বেড়ে গিয়েছে। বড় জানলা মানে ঘরের ভিতরের আব্রুকে বাইরের সামনে প্রকট করে তোলা। এতে প্রাইভেসি বলে কিছুই থাকেনা। পথ্য হিসেবে বাথরুম কী ভাবে আড়াল করতে হয় সেটা ভাল করে জানতে হবে।

(৯) শোবার ঘরে যেখানে বিছানা থাকে, তার সামনে যেন কোনও আয়না না থাকে। যাকে ‘মিরর রিফ্লেক্টিং বেড’ বলে। অনেকে এটা ইচ্ছা করে তৈরি করেন। ফেং শুই মতে এটা ভীষণ অশুভ। এই আয়না পরকীয়া প্রেমেকে জোর করে ঘরে প্রবেশে সাহায্য করে। একটা বিছানা মানে, যেখানে কাজের অবসরে স্বামী-স্ত্রী বেশির ভাগ সময় কাটান বিশ্রামের জন্য। ফেং শুই মতে বাড়ির প্রধান দরজা দিয়ে ‘চি’ শক্তি যখন প্রবেশ করে যখন শোবার ঘরে ঢোকে, তখন বিছানায় থাকা স্বামী বা স্ত্রীর মনে প্রেমের বা দাম্পত্য ভালবাসার পরশ লাগায়। এতে দাম্পত্য ভালবাসা জোরালো হয়। কিন্তু সেই শক্তি যখন দেখে বিছানার সামনে আয়না, সেই শক্তি আর অগ্রসর হতে পারে না। উল্টে ‘শিচি’ আত্মপ্রকাশ করে। তাই রেমেডি হিসেবে বিছানার সামনের ঝোলানো আয়নাটা সরিয়ে ফেলুন।

(১০) শোবার ঘরে বিছানা কখনই ছাদের সঙ্গে সংযুক্ত লোহা বা কংকিটের বিমের নীচে রাখা যাবে না। এতে দাম্পত্য প্রেমে চিড় ধরে এবং তৃতীয় মানুষের আগমন ঘটে।




Loading...
ads





Loading...