ক্যাসিনোর ইতিহাস


poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:২৫

ক্যাসিনো কী

জুয়ার নাম শুনে থাকবেন নিশ্চয়ই আর ক্যাসিনো হচ্ছে জুয়া খেলার নির্দিষ্ট আসর; সাধারণত নামি হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল, দর্শনীয় স্থানের সঙ্গে বা কাছেই এর অবস্থান থাকে। অনেক ক্যাসিনোতে আবার লাইভ রিয়্যালিটি শো, কমেডি শোয়ের ব্যবস্থা থাকেই। সঙ্গে এক্সটিক (ভাড়া পাওয়া যায় এমন মেয়ে/ছেলে) সার্ভিসও থাকে। ক্যাসিনোতে সুন্দরী মডেল কিংবা পার্টিগার্ল জুয়া খেলোয়াড়ীদের উৎসাহ দিয়ে থাকেন।
ক্যাসিনো অর্থ সরকার নিয়ন্ত্রিত জুয়া খেলার আসর। ক্যাসিনো স্থাপিত হওয়ার পেছনে একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে। আগে ভারতীয় উপমহাদেশে জুয়া খেলা হতো অনিয়ন্ত্রিতভাবে, যেখানে-সেখানে। সরকারিভাবে ক্যাসিনো স্থাপন করা হয় কেবল এই অনিয়ন্ত্রিত জুয়াকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে নিয়ে আসার জন্য। এটি স্থাপনের আরো একটি কারণ ছিল জুয়া থেকে সরকারি লভ্যাংশ ও শুল্ক নিশ্চিত করা।

প্রায় দুই হাজার বছর আগে ভারতে ক্যাসিনো স্থাপিত হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থানের হদিস এখনো পাননি ইতিহাসবিদরা। তবে কাউতিলিয়া নামের একজন প্রাচীন ভারতীয় অর্থশাস্ত্রবিদের লেখায় উঠে এসেছে জুয়ার স্থান হিসেবে ক্যাসিনো স্থাপনের কিছু কারণ।
কাউতিলিয়া তার অর্থশাস্ত্র পুস্তকে ভারতীয় উপমহাদেশে ক্যাসিনো স্থাপনের কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন। এগুলোর মধ্যে আছে জুয়াকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা। জুয়া খেলায় ‘সাম্যতা’ নিশ্চিত করা সর্বোপরি এই খেলা থেকে সরকারি শুল্ক প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

ক্যাসিনো বিভ্রান্তি
এখন পর্যন্ত ক্যাসিনো সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানা সম্ভব হয়নি। কারণ আপনি যদি ইতিহাস পড়েন তবে দেখবেন, পৃথিবীর প্রথম থেকেই বাজি বা জুয়া খেলার প্রচলন দেখা যায়। সব দেশেই এর প্রচলন আছে।

ইউরোপের ইতিহাসে ক্যাসিনো
তবে ইউরোপের ইতিহাসে ইতালিতে সর্বপ্রথম ১৬৩৮ সালে ভেইনস শহরে রিডোট্ট নামে এক ক্যাসিনো তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা যায়; ওই সময়কার জ্ঞানী লোকদের পরামর্শে এটি তৈরি করা হয় আর এর উদ্দেশ্য ছিল কার্নিভ্যাল সিজনে সচরাচর হওয়া জুয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা। তবে সামাজিক অবক্ষয়ের কথা ভেবে ১৭৭৪ সালে সেই শহরের প্রধান এটিকে বন্ধ করে দেন।

ক্যাসিনোতে কারা যায়
এ কথা আর বেশি বিশ্লেষণ করার দরকার হয় না যে কারা ক্যাসিনোতে যায়। ধনী বা টাকাওয়ালারাই এর মূল গ্রাহক। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী গ্রাহক বেশি হয়ে থাকে।
বিশেষ করে উন্নত দেশে এখানে যাওয়ার জন্য কোনো বাধা-নিষেধ থাকে না। এগুলো সরকার অনুমোদিত হয়ে থাকে আর সেখানে প্রায় সব বারের সঙ্গেই ছোটখাটো ক্যাসিনো থাকে। শপিং শেষে একটু রিফ্রেশমেন্টের জন্য কিংবা সময় কাটাতে অনেকেই ক্যাসিনোতে যায় কিন্তু এটা ভয়ঙ্কর হচ্ছে তাদের জন্য যারা নিয়মিত সেখানে যান এবং নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। নিয়মিত ভরা পকেট নিয়ে ক্যাসিনোতে গিয়ে খালি পকেটে বাসায় ফেরা লোকজন হচ্ছে আসল জুয়াড়ি।

কীভাবে সম্পন্ন হয়
ক্যাসিনোতে গ্রাহকরা তাদের পছন্দমতো বিভিন্ন খেলার সুযোগ পান। তবে যে যেই বিষয়ে পারদর্শী হন তিনি সেটি খেলার চেষ্টা করে থাকেন। বিশেষ করে ব্ল্যাকজ্যাক, ভিডিও পকার, ব্রাক্যারেট, ক্রাপ, রুলেট খেলে থাকেন।
এখানে কিছু কিছু খেলায় গাণিতিকভাবে খেলোয়াড়ের পক্ষে কিছু যুক্তি দেখায় যে, তার জেতার সম্ভাবনা আছে আর এটি খেলোয়াড়কে বেশি সময় ধরে রাখে। কারণ তিনি ধরে নেন তার জেতার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। কিছু কিছু খেলায় গ্রাহকরা সরাসরি একে অপরের বিপক্ষে বাজি খেলার সুযোগ পায় এবং ক্যাসিনো হাউজ এখান থেকে কিছু কমিশন নেয়। একে র‌্যাক বলা হয়ে থাকে; গ্রাহকদের আগ্রহী করতে ক্যাসিনো হতে নানা অফার দেয়া হয়ে থাকে।

আমেরিকার ক্যাসিনো
জানা যায়, আমেরিকার সর্বপ্রথম ক্যাসিনোর নাম স্যালুন্স। তবে এটি তৈরি করা হয়েছিল পর্যটকদের জন্য। এখানে তারা জুয়ার সঙ্গে সঙ্গে আড্ডা দেয়া, ড্রিংকস করার সুযোগ পেত। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে এটি স্যানফ্রান্সিকো, নিউ অরলিন্স, সেন্ট লুইস, শিকাগো শহরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০ শতকের দিকে ক্যাসিনো আমেরিকায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে ক্যাসিনো
বাংলাদেশ একটি মুসলিমপ্রধান দেশ আর ইসলামে জুয়া সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। তবে জুয়া বাংলাদেশের একটি অতিপরিচিত শব্দ অলিতে-গলিতে চোখ মেলে তাকালেই এর দেখা মেলে। তবে বেশ কয়েক বছর আগে এটা এতটা খোলামেলা ছিল না কিন্তু সম্প্রতি গুঞ্জন আসে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে আনুষ্ঠানিক ক্যাসিনোর খোঁজ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানতে পেরে বর্তমান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তিনি এদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। সর্বপ্রথম চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে র‌্যাব-১ এর অভিযানে ঢাকার ফকিরাপুলে ইয়ংমেন্স ক্লাব, শাহজাহানপুরের মুক্তিযোদ্ধা চিত্তবিনোদন ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও বনানীতে কয়েকটি ক্যাসিনোর সন্ধান পাওয়া যায়। র‌্যাব-১ এর সূত্রমতে, এগুলোর পরিচালনা করেন বর্তমান রাজনৈতিক ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কিছু নেতা। র‌্যাবের অভিযানে এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। র‌্যাবের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০টিরও বেশি ক্যাসিনো রয়েছে যেখানে জুয়ার পাশাপাশি নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে।

মানবকণ্ঠ/টিএইচ




Loading...
ads




Loading...