‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইউরোপে দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ’


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৪ অক্টোবর ২০২০, ১৯:১২,  আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২০, ১৯:২২

ইউরোপে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে দাবি করেছেন ফরাসি বিজ্ঞানী আর্নড ফন্টানেট।

তিনি বলছেন, প্রথমে যে গতিতে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছে, দ্বিতীয় ঢেউয়ে তার তুলনায় অনেক বেশি গতিতে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

বৃহস্পতিবারই ফ্রান্সে সাড়ে ৪১ হাজার মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন। জন্স হপকিন্স বিশ্বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষের।

শুক্রবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ফন্টানেট জানান, জুনের শেষের দিকে ফ্রান্সে করোনার সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। হাসপাতালেও রোগী ভর্তির সংখ্যা কমে এসেছিল আগস্টে। তখন মনে করা হয়েছিল যে করোনার দাপট থেকে আপাতত মুক্তি পেতে চলেছে ফ্রান্স। কিন্তু সেপ্টেম্বরে ঠান্ডা পড়তেই চিকিৎসকদের সব ধারণাকে ভ্রান্ত করে আবারও সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এবং আগের তুলনায় অনেকটাই দ্রুত হারে। যা উদ্বেগজনক বলেই দাবি করছেন এই বিজ্ঞানী।

গত সপ্তাহেই প্যারিসে কারফিউ জারি করেছিল সরকার। সামনে নভেম্বর। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এই আশঙ্কায় কারফিউর সময় আরও বাড়িয়েছে তারা। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জঁ ক্যাসট্যঁ-র গলাতেও উদ্বেগ ধরা পড়েছে। যদিও তিনি বলেছেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়তে আমরা সব রকম ভাবে প্রস্তুত। কিন্তু আমরা খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। নভেম্বর মাসে আরও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স-সহ গোটা ইউরোপ।

এদিকে ব্রিটেনেও সম্প্রতি সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে সামলাতে সেখানেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ইউরোপের সবচেয়ে বেশি করোনা প্রভাবিত দেশগুলির মধ্যে বেলজিয়াম অন্যতম। সেখানেও সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। হঠাৎ করে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় চেক প্রজাতন্ত্রও বেশ কিছু জায়গায় লকডাউনের পথে হেঁটেছে। নেদারল্যান্ডসে আংশিক লকডাউন জারি করা হয়েছে।

ইউরোপের কোভিড হটস্পটগুলোর মধ্যে ছিল জামার্নি আর স্পেন। জার্মানিতে মাঝে সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও দৈনিক সংক্রমণ ১১ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। স্পেনে এক সপ্তাহে সেখানে ১০ লক্ষ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে শীতে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে শঙ্কায় আছে এশিয়ার দেশগুলো। এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশই এ নিয়ে সতর্কতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।

মানবকণ্ঠ/এনএস






ads