নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলাকারীর রায় ঘোষণায় যা বললেন বিচারক

মানবকণ্ঠ
ব্রেন্টন টারান্ট - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৭ আগস্ট ২০২০, ১০:২৩

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে বর্বরোচিত হামলা করা সেই অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন টারান্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন স্থানীয় আদালত।

শুনানির শেষ দিন বৃহস্পতিবার আদালতে পবিত্র কোরআন শরীফের আয়াত তিলাওয়াত করা হয় এবং ভুক্তভোগী ও তাদের প্রিয়জনদের ছবি প্রদর্শন করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত টারান্টের উদ্দেশে বিচারক ক্যামেরন ম্যান্ডার বলেন, ‘আপনি নিজেকে মানসিকভাবে চরম অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যে কি না নিজের থেকে ভিন্ন মনে করা অন্য মানুষদের ঘৃণা করে।’

শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী টারান্টের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘আপনি একটি গণহত্যা চালিয়েছেন। আপনি নিরস্ত্র ও প্রতিরোধবিহীন মানুষদের হত্যা করেছেন। আপনি যে ক্ষতি করেছেন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা বা জনসম্মুখে স্বীকারোক্তি দেননি। যদিও আমি আপনার (আদালতের) এই প্রক্রিয়াগুলো প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ ত্যাগ করার প্রশংসা করছি, কিন্তু আপনাকে মোটেও অনুতপ্ত বা লজ্জিত দেখাচ্ছে না।’

ক্রাইস্টচার্চ হামলায় সর্বকনিষ্ঠ ভুক্তভোগীর নাম মুকাদ ইব্রাহিম। টারান্টের গুলিতে প্রাণ হারানোর সময় তার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। মুকাদের কথা উল্লেখ করে বিচারক বলেন, ‘এত ছোট বাচ্চা হারানোর পর কোনও মা-বাবাই স্বাভাবিক হতে পারবে না।’

চলতি সপ্তাহে টানা চারদিন ধরে হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য আদালতের শুনানিতে অংশ নেন। তাদের সবাই হত্যাকারী টারান্টের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। আদালতের বিচারক টারান্টের কর্মকাণ্ডকে ‘পাশবিক’ বলে মন্তব্য করেন এবং এমন জঘন্য অপরাধের শাস্তিতে কোনও ধরনের দয়া দেখানো হয়নি বলে জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নুর ও লিনউড মসজিদে হামলা চালান টারান্ট। মসজিদ দু’টিতে জুমার নামাজের সময় অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালান তিনি। হামলার ঘটনা ফেসবুক লাইভে প্রচারও করেন। ১৭ মিনিট ধরে ওই হামলার সরাসরি ভিডিও প্রচারিত হয়। মুসল্লিদের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকেন শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী টারান্ট। এ হামলায় ৫১ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হন।

সূত্র: বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads