‘আমার মা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন’


  • অচিন্ত্য চয়ন
  • ২০ জুলাই ২০২১, ০৯:৫৫,  আপডেট: ২২ জুলাই ২০২১, ১৪:০১

করোনার কারণে সব সেক্টরের মতো শোবিজের মানুষও ভালো নেই, বেশ সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন তারা। সংকট কেটে আলো উঁকি দিলেও অনুকূলে আসছে না সময়। তবু বেঁচে থাকার জন্য কাজ করছেন সবাই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শোবিজের অনেকেই কাজে ফিরছেন, আবার কাজ থেকে বিরতি নিচ্ছেন। এভাবেই চলছে শোবিজ অঙ্গন।

বাংলা চলচ্চিত্রের তারকা অভিনেতা শাকিব খানের হাত ধরে বড় পর্দায় পথচলা শুরু করেছেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ খ্যাত জাহারা মিতু। গদবাধা কাজ না করে খুব বেছে বেছে কাজ করতে চান এই প্রগতিশীল অভিনেত্রী। বর্তমান সময়টা সবার জন্যই খারাপ যাচ্ছে। টানা কাজ করতে পারছেন না। সবার মতো জাহারা মিতুও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছু কাজ করছেন। তবে করোনার কারণে টানা কাজ করতে পারছেন না।

মিতু বাপ্পীর নায়িকা হয়ে ‘যন্ত্রণা’র মাধ্যমে কাছে ফিরেছেন জাহারা। বাপ্পীর সঙ্গে এটি ছিল তার প্রথম কাজ। অপূর্ব রানার পরিচালনায় ‘যন্ত্রণা’ সিনেমার পর এবার বর্তমান সময়ের চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরীর সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো ‘জয় বাংলা’য় জুটি বাঁধছেন জাহারা মিতু। তিনি সম্মান ও মানুষের ভালোবাসা পেতে এই অঙ্গনে কাজ করতে এসেছেন।

সেই ভালোবাসা পাচ্ছেনও, এমন স্বীকারোক্তি দিয়ে তিনি বলেন— ‘আমি ভালো ও সম্মান দুটাই পাচ্ছি। আমি টেরও পাচ্ছি। এই ভালোবাসা আমার দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সিনেমায় অভিনয় করা আমার স্বপ্ন ও দায়িত্ব। সেই চেতনার প্রতিফলন ঘটাতে চাই জয় বাংলায় অভিনয় করে।’

বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশ ও স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনেক অশ্রু ও রক্তের ইতিহাস রয়েছে। মহান ত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে দিয়ে গেছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তিনি বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন; বাংলার শোষিত বঞ্চিত মানুষকে শোষণের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে উন্নত জীবন দিতে চেয়েছিলেন। এই মহান মানুষটির জন্যই আজ আমরা স্বাধীন। মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হয়েই একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেশ-বিদেশে রচনা হয়েছে অসংখ্য গ্রন্থ।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও অধ্যাপক মুনতাসির মামুনের কিশোর উপন্যাস ‘জয় বাংলা।’ এই উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমা বানাচ্ছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াত্। উপন্যাসের নামেই হবে ছবিটির নাম। ২০২০-২১ অর্থ বছরে সরকারি অনুদানও পায় ‘জয় বাংলা’। গত শুক্রবার বাপ্পি চৌধুরী আনুষ্ঠানিক চুক্তিবদ্ধ হন এই ছবিতে কাজ করার জন্য। অভিনেত্রী জাহারা মিতুও চুক্তিবদ্ধ হন শনিবার। বাপ্পি-মিতু জুটির দ্বিতীয় ছবি হতে যাচ্ছে এটি।

একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের এই প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ বিশ্বের মাত্রচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এটা আমাদের জন্য কম গর্বের কথা নয়, কম অহংকারের নয়। আর এই গর্ব ও অহংকারের সূচনা হয়েছিলো আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে। এই স্বাধীন দেশে বাস করে মিতু হার মানতে চান না।

তিনি বলেন— এখন পর্যন্ত আমার জীবনে কোনো কাজে আমি হারিনি। প্রত্যেক মানুষের জীবনে একটা স্ট্রাগল পিরিয়ড থাকে, আমার জীবনে তা ছিল না। আমি যখন নাটকে অভিনয় করছিলাম, প্রচুর নাটকের প্রস্তাব পেয়েছি। উপস্থাপনায় যখন ছিলাম, তখন অনেক উপস্থাপনার প্রস্তাব পেয়েছি। ছবির প্রস্তাবও প্রচুর পেয়েছি। কিন্তু আমি তা গ্রহণ করিনি। কারন একটাই ভালো কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই।’

মিতুর চেতনার বাতিঘর ‘মুক্তিযুদ্ধ’। ‘জয় বাংলা’ বিষয়ের সঙ্গে তার চেতনা মিলিয়ে গেছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে— সিনেমাটির পরিচালক একজন গুণী মানুষ। তাই কাজী হায়াতের এ সিনেমায় সম্পৃক্ত হতে পেরে উচ্ছ্বসিত জাহারা মিতু। এ অভিনেত্রী বলেন, ‘জয় বাংলা’ উপন্যাস আমি অনেক আগেই পড়েছি। আমার প্রিয় উপন্যাসের মধ্য অন্যতম এটি। সেই উপন্যাসে এবার অভিনয় করব। ভাবতেই ভালো লাগছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুজন গুণী মানুষের ছবিতে কাজের সুযোগ পাওয়াতে আমার মা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন। মায়ের কথা, এই ছবিতে কাজ করে ইতিহাসের একটি অংশ হয়ে থাকতে পারব।’ তিনি সবার নিকোট দোয়া চেয়ে বলেন, ‘মুনতাসির মামুন স্যারও আমার প্রিয় একজন লেখক। আর নির্মাতা হিসেবে কাজী হায়াতকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সবার দোয়া চাই, যেনো চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারি।’

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় পর্যন্ত এই ছবির গল্প। ছবিটিকে তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ মনে করেন কাজী হায়াত্। বলেন, ‘আমি সাধারণত বাণিজ্যিক ছবি করি। ‘জয় বাংলা’ বাণিজ্যিক ঘরানার নয়। এটি আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে।’ কবে শুটিং শুরু করবেন জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, ‘ঈদের পরপরই যে লকডাউন আসছে, তা উঠে গেলে শুটিং শুরু করব।’

পুবাইল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের লোকেশনে পর্যায়ক্রমে শুটিং হবে। ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশ সরকারের অনুদানের ছবি। এটি হবে কাজী হায়াতের ৫১তম সিনেমা। এই সংকটকালে এমন কিছু ভালো কাজের ঘোষণা আলো দেখায়— প্রত্যাশার শিকড় আরো শক্তিশালী হয়। হতাশার আকাশে আশার আলো উঁকি দেয়। মিতুর মতো কেউই এই যুদ্ধে হারতে চান না।

‘জয় বাংলা’ সিনেমা প্রসঙ্গে বাপ্পি চৌধুরী বলেন, ‘মুনতাসির মামুন স্যারের ‘জয় বাংলা’ উপন্যাস নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এটি পর্দায় উপস্থাপন করবেন কাজী হায়াতের মতো বড় নির্মাতা। তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারা সৌভাগ্যের বলে মনে করছি।’

ছবিটির জন্য ইতোমধ্যে চরিত্র ধারণ শুরু করে দিয়েছেন এ নায়ক। নিজেকে ভেঙে কিশোরের লুক তৈরির চেষ্টা করছেন। ছবিতে চরিত্র ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে যা যা করা দরকার সবই করবেন বলে জানালেন বাপ্পি। টুঙ্গিপাড়া চলচ্চিত্রের ব্যানারে নির্মিত হবে ‘জয় বাংলা’। প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন মিটু শিকদার। ঈদের পর করোনার অবস্থা স্বাভাবিক হলে ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। ‘জয় বাংলা’র জয় দেখতে অপেক্ষা করতে হবে সিনেমা মুক্তি পর্যন্ত। দর্শকও অপেক্ষা করতে চান একটি ভালো সিনেমার জন্য।

প্রসঙ্গত, শোবিজের জনপ্রিয় মুখ অভিনেত্রী-মডেল জাহারা মিতু। বিউটি প্রেজেন্ট শো ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ থেকে মিতুর যাত্রা শুরু। এরপর তিনি শুরু করেন মডেলিং ও ক্রীড়া উপস্থাপনা। ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে ‘আগুন’ সিনেমায় অভিনয় করে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন মডেল ও ক্রীড়া উপস্থাপিকা জাহারা মিতু। এরপর ‘কমান্ডো’ নামের আরেকটি সিনেমায় কলকাতার নায়ক দেবের নায়িকা হয়েছেন তিনি, বর্তমানে ছবিটি নির্মাণাধীন।


poisha bazar

ads
ads