গোপনে শুটিং সেটে এক রুমে থাকতেন সোহেল-দিতি


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১০ জুন ২০২১, ১৮:১০,  আপডেট: ১০ জুন ২০২১, ১৯:২৪

নব্বইয়ের দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি সোহেল চৌধুরী এবং দিতি। পর্দার প্রেমের মতো বাস্তবেও দু'জন পরস্পর প্রেমে মজেছিলেন এবং বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের কথা ভেবে অনেকদিন গোপন রেখেছিলেন নিজেদের সম্পর্কের কথা। এমনকি বিয়ের খবরও চেপে গিয়েছিলেন বেমালুম।

দিতি-সোহেল চৌধুরী বিয়ের পরও শুটিং সেটে গিয়ে গোপনে একই রুমে থাকতেন তারা। ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ ছাড়া বিষয়টি কেউ জানতো না। কিন্তু হঠাৎ একদিন বিষয়টি ধরা পড়ে যায় চিত্রসাংবাদিক ইমরুল শাহেদের কাছে। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন প্রবীণ এই সাংবাদিক।

তিনি বলেন, ‘‘আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘হীরামতি’ ছবির সেটে গিয়েছিলাম। লোকেশন ছিল সিলেট। গিয়ে দেখি শুটিং ইউনিট দুই ভাগে রাখা। একটি অংশ জৈন্তা বাজারে, আরেকটি অংশ তামাবিল যাওয়ার পথে টিলার উপর নলজুরি ডাকবাংলোতে। আমরা কয়েকজন ছিলাম ডাকবাংলোতে। কিন্তু শোয়ার উপযোগী একটি খাট ছিল একটি ঘরে। অন্য ঘরে ফ্লোরিং করে থাকতেন আমজাদ হোসেন, চিত্রগ্রাহক বেবী ইসলাম এবং তার সহকারী বরুণ শঙ্কর।’’

ইমরুল শাহেদ জানান, তিনি থাকতেন সামনের বারান্দায়। কারণ অনেক রাত জেগে তিনি লিখতেন। যে কারণে গভীর রাত পর্যন্ত লাইট জ্বলত যাতে করে অন্যের ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে।

রাতে তার হঠাৎ মনে হলো ‘হীরামতি’র নায়ক-নায়িকা সোহেল চৌধুরী ও দিতি তাহলে কোথায় আছেন? প্রশ্নটি আমজাদ হোসেনকে করতেই তিনি ইমরুল শাহেদকে বলেন, যেখানেই থাকুক কাল সকালে শুটিং স্পটে তোমার সঙ্গে দেখা হবে। এখন গিয়ে ঘুমাও। এ সময় বরুণ শঙ্কর চোখের ইশারায় পাশের ঘর দেখিয়ে দেন।

ইমরুল শাহেদ আর দেরি না করে সরাসরি সেই ঘরের দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন আমজাদ হোসেন বলেন, ‘থাক না, ওরা ঘুমাক।’ এই কথা থেকেই প্রবীণ চিত্রসাংবাদিক নিশ্চিত হয়ে যান ভেতরে সোহেল এবং দিতি আছেন। মুহূর্তেই তার সাংবাদিক মনে প্রশ্ন জাগে- তারা তো বিয়ে করেননি! তাহলে? এতো বিরাট খবর!

ইমরুল শাহেদ এবার জোরে জোরে দরজায় নক করতে থাকেন। বেশ কিছুক্ষণ পর সোহেল চৌধুরী দরজা খুলে দেন। তার চোখে-মুখে স্পষ্ট বিব্রতভাব। কিন্তু ইমরুল শাহেদ সেদিকে না তাকিয়ে সোজা ঢুকে যান রুমের ভেতর। দেখেন খাটে দিতি শুয়ে আছেন। তাকে দেখে দিতি উঠে বসেন। তারপর মুচকি হেসে বলেন, ‘আমি যখন শুনেছি ইউনিটে আপনি আসছেন, তখনই বুঝে গেছি আমরা ধরা পড়ে গেছি। আমি মিষ্টিও এনে রেখেছি। বুঝতেই পারছেন আমরা বিয়ে করেছি। সেই বিয়ের মিষ্টি খাওয়াবো আপনাকে।’

এরপরই মূলত সোহেল চৌধুরী-দিতির বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। দুঃখজনক হলেও সত্য দুজনই চলে গেছেন পরপারে। সোহেল চৌধুরী আততায়ীর হাতে প্রাণ হারান এবং দিতি মারা যান ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে।

মানবকণ্ঠ/আরআই


poisha bazar

ads
ads