করোনাকালে অস্কার আসর ইতিহাস গড়লেন এশিয়ার ক্লোয়ি


poisha bazar

  • অচিন্ত্য চয়ন
  • ২৭ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৯

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় অনুষ্ঠান অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কার। অস্কার হলো বিশ্ব বিনোদনের সবচেয়ে দামি ও সম্মানজনক পুরস্কার। ১৯২৯ সাল থেকে পুরস্কারটি দিয়ে আসছে চলচ্চিত্র বিষয়ক বিজ্ঞান ও শিল্পকলার উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠিত মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাকাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস’। এই পুরস্কারের আসর উপলক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ডলবি থিয়েটারে প্রতি বছর থাকে জমকালো আয়োজন।

তবে এ বছর চুপিসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষের নিজেদের আলোকচিত্রীদের নিয়েই হয়ে গেল অস্কার-২০২১। অর্থাৎ, গোল্ডেন গোব, বাফটার পথে হেঁটে অস্কারও এবার আয়োজিত হলো ছোট পরিসরে। ভেন্যু ছিল দুটি। ডলবি থিয়েটার তো ছিলই, সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিয়ন স্টেশন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের লন্ডন আর ফ্রান্সের প্যারিসেও রাখা হয়েছিল দুটি স্টেশন।

স্থানীয় সময় ২৫ এপ্রিল রবিবার এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের দর্শকরা এটি দেখতে পান সোমবার সকাল ৬টায়। অস্কারের সেরা চলচ্চিত্র ও শিল্পী-কুশলীদের নাম ঘোষণা করেন তারকারা। তারাই বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন পুরস্কার। সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনয়শিল্পী, সেরা প্রামাণ্যচিত্রসহ ২৩টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস।

এবিসি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২২৫টি দেশে সরাসরি স¤প্রচার করা হয় অনুষ্ঠানটি। এবারের দৃশ্য ছিলো একটু ভিন্ন। করোনাকালে বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় অনুষ্ঠান অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারের আয়োজন করোনার মহামারীর কারণে কিছুটা হলেও বেদনার ছোঁয়া ছিলো। তবে এবার নারী ও বুড়োদের জয়জয়কার।

আরো একটি বিষয় চোখে পড়ার মতো- বেশ কিছু ‘প্রথম’-এর দেখা মিলল ৯৩তম অস্কারে। সেরা ছবি হয়েছে ‘নোম্যাডল্যান্ড’। এই ছবির পরিচালক ক্লোয়ি ঝাওয়ের হাতে উঠেছে সেরা পরিচালকের অস্কার। সেরা অভিনেত্রীর নাম ঘোষণার সময় চীনা এই পরিচালকের চোখ ভরে উঠল জলে। কারণ, সেরা অভিনেত্রী আর কেউ নন, ৬৩ বছর বয়সী ফ্রান্সিস ম্যাকডোরম্যান্ড, যিনি একাই টেনে নিয়ে গেছেন ‘নোম্যাডল্যান্ড’ সিনেমাকে।

ফ্রান্সিসের সঙ্গে আর যাঁরা মনোনয়ন পেয়েছিলেন, তাঁদের ভেতর ফ্রান্সিস বয়সে সবার বড়। অন্যরা হলেন ভায়োলা ডেভিস (মা রেইনিস ব্ল্যাক বটম), অ্যান্ড্রা ডে (দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ভার্সেস বিল্লি হলিডে), ভ্যানেসা কিরবে (পিসেস অফ আ উইম্যান) ও ক্যারি মুলিগান (প্রমিজিং ইয়াং ওম্যান)।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কার। এই সম্মানের আসনে তিনি একবার বা দুইবার নয়- তিনবার বসেছেন। অর্জন করেছেন বিশ্ব ভক্তদের ভালোবাসা। তাই অস্কার হাতে ফ্রান্সিস ‘কোট’ করলেন শেক্সপিয়ারের ‘ম্যাকবেথ’ থেকে- ‘আপনারা জানেন, আমাদের সেই ধারালো অস্ত্র কী! সেটি আমাদের কাজ, আমাদের অভিনয়। যা বলার, সেটিই বলে। আমার আজ তাই কিছু বলার নেই।’

এটি তার তৃতীয় অস্কার। তিনবার অস্কার জয়ের পর আর কি বলবেন? সত্যি কিছু বলার নেই তার। ‘থ্রি বিলবোর্ড আউটসাইড এবিং, মিজৌরি’ আর ‘ফার্গো’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। ‘অলমোস্ট ফেমাস’, ‘নর্থ কান্ট্রি’ আর ‘মিসিসিপি বার্নিং-এর জন্য আরো তিনবার মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। ফলে ছয়টি মনোনয়ন থেকে তিনটি অস্কার নিজের ঘরে নিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, এবার ইতিহাসের সবচেয়ে ‘বুড়ো’ অস্কার জয়ীর খাতায় নাম লেখালেন অ্যান্থনি হপকিন্স। সেরা অভিনেতার ক্ষেত্রে তিনি রীতিমতো ইতিহাস গড়েছেন। ৮৩ বছর বয়সে অস্কার জয় করে ইতিহাসের পাতায় নাম তুলেছেন। অস্কারের ৯৩ বছরের ইতিহাসে এত বয়স্ক অভিনেতা আর নেই। তিনিই ইতিহাসের সবচেয়ে ‘বুড়ো’ অস্কারজয়ী। অভিনয়ের শেষ জীবনে বড় অর্জন।

হপকিন্সের বাড়িতে আরো একটি অস্কার আছে। ‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’ ছবিতে হলিউডের বড় পর্দায় অমরত্ব পাওয়া ‘হ্যানিবাল লেকচার’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেবার অস্কার জিতেছিলেন তিনি। এই বিভাগের অন্য মনোনয়ন প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন চ্যাডউইক বোজম্যান (মা রেইনিজ বø্যাক বটম), রিজ আহমেদ (সাউন্ড অব মেটাল), গ্যারি ওল্ডম্যান (মাঙ্ক) ও স্টিভেন ইয়ুন (মিনারি)।

এবারের অস্কারে বেশ কিছু ইতিহাস রচনা হয়েছে। সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন ৭৩ বছর বয়সী দক্ষিণ কোরিয়ান অভিনেত্রী ইয়া-জাং উন। ‘মিনারি’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করে এই পুরস্কার হাতে তুললেন তিনি, গড়লেন ইতিহাস। কেননা, এর আগে কোনো দক্ষিণ কোরিয়ান অভিনেত্রী অস্কার স্পর্শ করেননি। সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর বেলায় সে কথা খাটে, এ বেলায়ও অক্ষরে অক্ষরে তা সত্য। তাঁর বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া অন্যান্য অভিনেত্রীর তুলনায় বয়সের রাস্তায় তিনিই যে সবচেয়ে এগিয়ে! অন্যান্য মনোনয়ন প্রাপ্তরা হলেন মারিয়া বাকালোভা (বোরাট সাবসিকোয়েন্ট মুভিফিল্ম), গেন ক্লোজ (হিলবিলি এলিজি), অলিভিয়া কোলম্যান (দ্য ফাদার) আর আমান্ডা সাইফ্রায়েড (মাঙ্ক)।

অন্যদিকে সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার হাতে তুলেছেন ব্রিটিশ কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা ড্যানিয়েল কালুইয়া। ‘জুডাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মেসিয়াহ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য এই পুরস্কার ঘরে তোলেন ৩২ বছর বয়সী এই তরুণ অভিনেতা। এই বিভাগে আরো মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাশা ব্যারন কোহেন (দ্য ট্রায়াল অব দ্য শিকাগো সেভেন), লেজলি ওডোম জুনিয়র (ওয়ান নাইট ইন মায়ামি), পল রাসি (সাউন্ড অব মেটাল) ও লাকিথ স্ট্যানফিল্ড (জুডাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মোসিয়েহ)।

এর আগে ‘গেট আউট’ সিনেমায় অভিনয় করে সেরা অভিনেতা বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ছিল বাফটা, গোল্ডেন গোব, ক্রিটিক্স চয়েস অ্যাওয়ার্ড। তাই তাঁর হাতে অস্কারটা মানানসই। এদিকে ‘মা রেইনি’স ব্ল্যাক বটম সিনেমার জন্য মিয়া নীল আর জামিকা উইলসনের হাতে উঠেছে সেরা মেকআপ আর হেয়ার স্টাইলের পুরস্কার। এই প্রথম এই বিভাগে দুই কৃষ্ণাঙ্গ নারীর হাতে উঠল এই পুরস্কার। এদিকে ‘জুডাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মোসিয়েহ’ সিনেমার ‘ফাইট ফর ইউ’ গানের জন্য অস্কার পেলেন ২৩ বছর বয়সী মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ গায়িকা হার।

 






ads
ads