‘প্রিয়জন হারানোর সংবাদ আর পড়তে চাই না’


poisha bazar

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • ২৫ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪৬

ঢাকাই চলচ্চিত্রের এ প্রজন্মের চিত্রনায়িকা অধরা খান। এরই মধ্যে কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ধারাল ফিগার, সুন্দর মুখশ্রী আর অভিনয়ের প্রতি দারুণ আগ্রহের কারণে তাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী নির্মাতারা। চলচ্চিত্রই অধরার ধ্যান-জ্ঞান। বর্তমানে একাধিক সিনেমার কাজ হাতে ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। দুশ্চিন্তা আর উত্কণ্ঠা নিয়ে অবশেষে দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন চলতি প্রজন্মের চিত্রনায়িকা অধরা খান। সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউনের আগের দিন দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন।

নতুন প্রজন্মের চিত্রনায়িকা অধরা খান স্বপ্ন দেখেন ভালো সিনেমায় কাজ করা। তিনি শুধু ভালো সিনেমায় অভিনয় করবেন সেই স্বপ্ন দেখেনে না—অধরা বাংলা চলচ্চিত্রে সোনালি দিন ফিরে আসুক এমন প্রত্যাশাও করেন। একজন তারকার নিজস্বতা কিংবা স্বকীয়তা থাকা জরুরি। সেই স্বকীয়তা বা ভিন্ন চিন্তা তিনি লালন করেন। এই নায়িকা স্রোতের বিপরীতে চলেন, স্বতন্ত্র চিন্তায় কাজ করতে চান।

অধরা বলেন—‘আমি সব জায়গায় দৌড়াতে চাই না। চলচ্চিত্র নিয়েই থাকতে চাই। কখনোই চিন্তা করিনি টেলিভিশনে অভিনয় কিংবা উপস্থাপনা করব। চলচ্চিত্র একটা বড় ক্যানভাস, এই ক্যানভাসে ভালোভাবে কাজ করতে পারলে একজন শিল্পীর জন্য অন্য দিকে তাকাতে হবে না—যদিও এটি আমার নিজস্ব মতামত।’ শুধু তার মুখের কথা নয়, তিনি নিজস্বতা নিয়েই কাজ করেন। অনেকের মতো গড়পরতায় কাজ করেন না। তিনি সম্প্রতি দেশের বাইরে ছিলেন। দুবাই সফর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন—‘কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য দুবাই গিয়েছিলাম। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসায়িক কাজেই মূলত দুবাই যাওয়া। পরে করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছি।

সেখানকার স্থায়ী অধিবাসী হওয়ার কারণে করোনা ভ্যাকসিন নিতে হয়। গেল মাসের ২১ তারিখে ফাইজার কোম্পানির করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করি। এরপর দেশে ফেরার আগে ফাইজারের দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছি ১১ এপ্রিল।’ বর্তমান হাতে কাজের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন—‘হাতে বেশ কিছু কাজ আছে। তিনটি ছবির শুটিং হওয়ার কথা ছিল। ‘কোভিড-১৯ ইন বাংলাদেশ’, ‘গিভ এন্ড টেক’ ও ‘উন্মাদ’ ছবির বাকি শুটিং শেষ করার কথা ছিল এই মাসেই। কিন্তু এখন আবার অনিশ্চয়তায় পড়তে হলো। প্রথম দুটি ছবিতে আমি আর বাপ্পী চৌধুরী জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করছি। এর আগে আমরা জুটিবদ্ধ হয়ে নায়ক ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। আশা করছি এবারো ভালো কিছু হবে।’

‘পাগলের মতো ভালোবাসি’ দিয়ে অধরার যাত্রা শুরু হলেও তার মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবি হলো ‘মাতাল’। এরপর মুক্তি পায় ‘নায়ক’। প্রথম ছবি মুক্তি না পেলেও অধরার অভিনেত্রী হওয়ার প্রচেষ্টা থেমে থাকেনি। শ্রম এবং মেধা দিয়ে ইতোমধ্যে চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান করে নিয়েছেন অধরা। একের পর এক ছবিতে কাজ করছেন। গেল মাসে মুক্তি পায় অধরা অভিনীত প্রথম ছবি।

বর্তমানে অধরার হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের কাজ। এরই মধ্যে শুরু করেছেন নিজের সাত নম্বর সিনেমার কাজ। সম্প্রতি শেষ করেছেন সৈকত নাসিরের ‘বর্ডার’ ছবির কাজ। এ ছাড়া খুব শিগগিরই শুরু করবেন অপূর্ব রানার ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ ও সৈয়দ অহিদুজ্জামানের ডায়ামন্ড ‘কোভিড-১৯ ইন বাংলাদেশ’। অন্যদিকে গত বছর থেকেই শোনা যাচ্ছিল, কলকাতার একটি বড় বাজেটের ছবিতে অভিনয় করবেন তিনি।

শুটিং নিয়ে কি ভাবছেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে শুটিং নিয়ে ভাবছি না। চলচ্চিত্রের শুটিং করতে গেলে কমপক্ষে ১০০ জন মানুষের বড় একটা ইউনিট থাকে। সেখানে করোনা ছড়ানোর একটা আশঙ্কাও থাকে। গেল বছর করোনার কারণে সব এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে মাত্র সব ঠিক হওয়া শুরু হচ্ছিল, কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আবার থমকে গেল সব। মনে হচ্ছে চলতি বছরটিও গেল বছরের মতোই যাবে। সব কাজই এখন অনিশ্চিত। তবে বেঁচে থাকলে সব হবে। আগে এবারের মতো মহামারী থেকে বেঁচে যাই। আমার চাওয়া থাকবে সব যেন দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়। কাউকে যেন প্রিয়জনহারা না হতে হয়। আমি তাই বলব এক্ষেত্রে ভ্যাকসিন গ্রহণের পাশাপাশি সবারই উচিত হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।’

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads
ads