অসহায় মানুষের সেবায় ‘এক্সো-এল এল্যায়েন্স বাংলাদেশ’


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ এপ্রিল ২০২১, ১৭:১৭,  আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২১, ১৮:০৮

মানবিক ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করে চলেছে এক্সো-এল এল্যায়েন্স বাংলাদেশ (EXO-L Alliance Bangladesh) এর সদস্যরা। গত বছর থেকে দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করে এক্সো-এল এল্যায়েন্সের সদস্যরা।

এক্সো-এল এল্যায়েন্স বাংলাদেশের সদস্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া নুসরাত, আয়েয়া জামিল তিতলী, নাবিলা ইসলাম, জাকুয়ানা প্রমি, আসমাউল হুসনা মোনালিসার সাথে কথা হলে তারা জানান, গত বছর করোনা সংকটের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে স্বল্প পরিসরে ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় তাদের। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও জনসাধারণকে সচেতন করতে বিনামূল্যে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। শুধু করোনা সংকটে নয়, বন্যার সময়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেয় একদল এক্সো-এল। এছাড়াও গৃহহীন এবং পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ, শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টা, ‘খুশির ঝুড়ি’ নামক একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে পথশিশুদের জন্য জুস, চিপস্, বিস্কুটের ব্যবস্থা করা হয়, যা পথশিশুদের আনন্দিত করে।

এক্সো-এল এল্যায়েন্সের অন্যতম সদস্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া নুসরাত জানান, ‘এক্সো এবং বিশ্বের অন্যান্য এক্সো-এলদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশী এক্সো-এল’রা ২০২০ সাল থেকে মানবিক সেবামূলক কার্যক্রম শুরু করে। সদস্য হতে হলে এক্সো-এল এল্যায়েন্সের ফ্যান হলেই হয়। ইউটিউবে এক্সো-এল এল্যায়েন্স নামে চ্যানেল আছে। যেখানে বাংলাদেশে এর মানবসেবামূলক কার্যক্রম নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়াও ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪ হাজার সদস্য আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এক্সো-এল এল্যায়েন্সে মেডিকেল, বুয়েট ও দেশের বাইরের শিক্ষার্থীদের অনেকেই সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। আমরা এক্সো-এল এল্যায়েন্সের মেডিকেল শিক্ষার্থীরা মানবসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাব। ভবিষ্যতে আমাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে মেডিকেল ক্যাম্প করে অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, বিনামূল্যে মেডিসিন বিতরণ করব।’

এক্সো-এল এল্যায়েন্সের অন্য সদস্যরা জানান, ৮ এপ্রিল এক্সো এবার ৯ম বছরে পদার্পণ করবে এবং এ উপলক্ষে এক্সো-এল এল্যায়েন্স বাংলাদেশ দেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া আগামী ১৪ এপ্রিল পয়লা রমজানে অসহায় দুঃস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। এক্সোর সংগীত দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের কাজে নিজেদের নিযুক্ত করে দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখাই হলো বাংলাদেশী এক্সো-এল এবং এক্সো-এল এল্যায়েন্স বাংলাদেশের ভবিষ্যত পরিকল্পনা।

উল্লেখ্য, Exo একটি চাইনিজ-কোরিয়ান বয়ব্যান্ড। ১২ জন সদস্য নিয়ে এই বয় ব্যান্ডটি ২০১২ সালে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে ৯ জন সদস্যের এক্সো কোরিয়ান, চাইনিজ, জাপানিজ ভাষায় গান প্রকাশের মাধ্যমে শুধু কোরিয়াতেই নয়, সারা বিশ্বে অঢেল জনপ্রিয়তা পায়। তাদের সংগীত মূলত পপ, হিপ-হপ, R&B জনরার। ২০১৪ সাল হতে ২০১৮ সাল অবধি ফোর্বস কোরিয়ার পাওয়ার সেলিব্রিটির তালিকায় শীর্ষে জায়গা করেছিল এক্সো এবং বিভিন্ন মিডিয়া আউটলেট দ্বারা ‘কিং অফ কে-পপ’ এবং বিশ্বের বৃহত্তম বয়ব্যান্ড হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এক্সো এর প্রথম অ্যালবাম XOXO (২০১৩) এবং যুগান্তকারী একক Growl এর প্রকাশের মাধ্যমে সমালোচনা ও বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য অর্জন করে।

২০১৮ সালে অলিম্পিক গান, নাচ পরিবেশনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রতিনিধিত্ব এবং আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও তার সহধর্মিণী দক্ষিণ কোরিয়া সফরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে EXO কে ব্লু হাউজে আমন্ত্রণ করা হয় এবং তাদের ন্যাশন হিসেবে ‌‘Nation Pick’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

এছাড়া EXO বিভিন্নভাবে সমাজসেবামূলক কাজে পৌঁছে দিয়েছে তাদের সহমর্মিতার অনুভূতি। ২০১৫ সালে Unicef এর সাথে চলমান প্রকল্প ‘Smile for you’ এর মত পরোপকারী প্রচেষ্টাতে অংশ নেয়। EXO এর ভক্ত EXO-L রা বিশ্বব্যাপী তাদের পরিকল্পনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘চ্যানবার’ নামক প্রতিষ্ঠান চীনের মরুভুমির একটি অংশকে গাছ লাগিয়ে বনাঞ্চল বানাতে সফল হয়েছে। এছাড়া EXO এর নামে একটি হাসপাতাল ও একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেছে। ভারতের আসাম, ফিলিপিনের বন্যা কবলিত অঞ্চল গুলোতে লক্ষাধিক টাকার ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে।






ads
ads